রাত বাড়লেই হ্রাস পাচ্ছে বিদ্যুতের তেজ : বাড়ছে ক্ষোভ

 

দেশে বিদ্যুত উৎপাদন বেড়েছে। প্রতিবেশী দেশ থেকেও বিদ্যুত আমদানি করা হচ্ছে। উৎপাদন বৃদ্ধি ও আমদানির পাশাপাশি সরবরাহ ব্যবস্থা মজবুত করতে না পারলে তা অপচয় হবে। গুনতে হবে লোকসান। সেই লোকসানের বোঝা কমাতে বাড়াতে হবে বিদ্যুতের দাম। তাতে ক্ষুব্ধ হবে গ্রাহক, ক্ষতি হবে দেশের। ফলে বিদ্যুত গ্রাহকদের মাঝে সুষ্ঠুভাবে বিদ্যুত বিতরণের বিষয়টি অতীব গুরুত্বপূর্ণ।

নতুন করে বলার অবকাশ রাখে না যে, চুয়াডাঙ্গা-মেহেরপুর ও ঝিনাইদহসহ দেশের অধিকাংশ এলাকায় বিদ্যুত বিতরণ ব্যবস্থা নড়বড়ে। আকাশে মেঘ জমলেই অনেক এলাকায় বিদ্যুত সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে। ঝড় উঠলে তো কথাই নেই। ঝড়ের পূর্বাভাসেই বিপদ ঠেকাতে বিদ্যুত সরবরাহ বন্ধ করে দিতে হয়। ষড়ঋতুর দেশে এমনটি কি হওয়া উচিত? বিতরণ ব্যবস্থা মজবুত করার পাশাপাশি বিদ্যুতের গুণগত মান নিশ্চিত করতে না পারলে বিদ্যুত শক্তি ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। দাঁড়াচ্ছেও। পূর্বে রাত বৃদ্ধির সাথে সাথে বিদ্যুতের মান তথা ভোল্টেজ বাড়তো। এখন উল্টো। রাত বৃদ্ধির সাথে সাথে বিদ্যুতের তেজ কমে যাচ্ছে। এতে বিদ্যুতচালিত মোটর বিদ্যুতচালিত যন্ত্রপাতি বিকল হওয়ার সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। বিদ্যুতের লো-ভোল্টেজ সমস্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে কেন? বিদ্যুত উৎপাদন বাড়লে ভোল্টেজ কমে যায়? হাস্যকর। তড়িৎ শক্তি বিজ্ঞান তা বলে না। তা হলে হচ্ছেটা কি? বিতরণ ব্যবস্থা নড়বড়ে হওয়ার কারণে এরকম দশা? নাকি পুনঃশক্তি সঞ্চালিত ব্যাটারি তথা রিচার্জেবল ব্যাটারি চার্জ দিতে গিয়ে বিদ্যুতের তেজ হ্রাস পাচ্ছে? বিতরণ ব্যবস্থার জন্য তো এমন হওয়ার কথা নয়! পুনঃশক্তি সঞ্চালিত স্থির বিদ্যুতচালিত তিন চাকার রিকশা বৃদ্ধির সাথে সাথে বিদ্যুতের তেজ হ্রাস পাওয়ার বিষয়টি ফুটে উঠেছে। অনেকেই মন্তব্য করতে গিয়ে বলেছেন, ব্যাটারিচালিত রিকশাগুলো দিনে শক্তি ক্ষয় করে রাস্তায় চলছে। রাতে তা পুনঃশক্তিতে রূপান্তরের জন্য চার্জ দেয়া হচ্ছে। এ কারণেই বিদ্যুতের করুণ দশা ফুটে উঠছে। বিষয়টি সত্যি হলে রাতে বিদ্যুতের মান বৃদ্ধির দিকে বিশেষ নজর দেয়া হচ্ছে না কেন? বিদ্যুতের ভোল্টেজ সঠিক অবস্থানে রাখতে না পারলে বিদ্যুত শক্তি ব্যবহারে উৎপাদনমুখি ক্ষুদ্র শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো মুখ থুবড়ে পড়বে। দেউলিয়া হবে বিনিয়োগকারী। কর্ম হারাবে শ্রমিক। বেকার বাড়লে সন্ত্রাস বিশৃঙ্খলা বেপরোয়া হয়। বিনিয়োগে আগ্রহীরা আগ্রহ হারাবে। ফলে লো-ভোল্টেজের বিষয়টি বিদ্যুত কর্তাদের অনাগ্রহের ইস্যু হওয়া উচিত নয়।

বিদ্যুত উৎপাদন বাড়ানো হয়েছে। দফায় দফায় দামও বেড়েছে। বিদ্যুত পাওয়ার সন্তুষ্টি গ্রাহকদের বর্ধিত মূল্য মেনে নেয়ার মানসিকতা গড়ে তুললেও ভোল্টেজের কারণে ক্ষতি এখন ক্ষোভের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। তা ছাড়া বিদ্যুত বিতরণের নড়বড়ে অবস্থাও কাম্য নয়। ষড়ঋতুর দেশে প্রাকৃতিক সবরকম ধকল সহ্যের মতো বিরতণ ব্যবস্থা দরকার। সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্তারা নিশ্চয় ভেবে দেখবেন।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *