রাজপথে ছুটতে গিয়ে ফুটে উঠছে পুলিশে অপ্রতুলতা

দেশ জুড়ে রাজনৈতিক অস্থিরতা। চরম এক অনিশ্চয়তার মধ্যে দেশ। কী হচ্ছে, কী হতে যাচ্ছে তা নিয়ে আলোচনার শেষ নেই। গণতন্ত্র বিপন্ন প্রায়। হরতাল অবরোধের আঁচ গ্রামে তেমন না পড়লেও আলোচনায় কমতি নেই। এরই মাঝে গ্রামবাংলায় ফুটে উঠছে চরম নিরাপত্তাহীনতা। একের পর এক ডাকাতি, ডাকাতদলের তাণ্ডবে আতঙ্ক পিছু ছাড়ছে না। সড়কেও ডাকাতদলের তাণ্ডবের চিত্র মাঝে মাঝেই পত্রিকার পাতায় উঠে আসে। রাজনৈতিক অস্থিরতা যখন তুঙ্গে তখন পুলিশ রাজপথ সামলাতেই হিমশিম। ডাকাতি প্রতিরোধের সময় কোথায়? সঙ্গত কারণেই উঠে আসছে এ প্রশ্নটি। এরপরও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব পুলিশেরই! শুধু পুলিশের দিকে তাকিয়ে থাকলে অবশ্য সুফল মেলে না।

 

চুয়াডাঙ্গা-ঝিনাইদহ সড়কে এক সময় ডাকাতদলের তাণ্ডব লেগেই থাকতো। সেই অবস্থার অনেকটাই উন্নতি ঘটেছে। দীর্ঘদিন বিরতির পর গতপরশু রাতে হলিধানী বাজারের অদূরে ডাকাতদল সড়কে গাছ ফেলে ডাকাতির অপচেষ্টা চালায়। চালক অনেকটা ঝুঁকি নিয়ে বাধা ডিঙিয়ে ডাকাতি থেকে কোচযাত্রীদের রক্ষা করেন। মেহেরপুরের হিজুলী গ্রামে ডাকাতদল এক প্রবাসীর বাড়িতে ডাকাতি করে। প্রতিরোধের মুখে ডাকাতদল বোমা নিক্ষেপ করে। বোমার আঘাতে নিহত হন গ্রামের তরুণ এক কৃষক। কিছুদিন আগে একই এলাকার এক গ্রামে ডাকাতির সময় আত্মঘাতী বোমাঘাতে ডাকাতদলের এক সদস্য নিহত হয়। এ ছাড়া বোমাবাজি, চাঁদাবাজি তো লেগেই আছে। নতুন করে বলার অবকাশ রাখে না যে, সন্ত্রাস কবলিত হিসেবে চিহ্নিত এলাকার সাধারণ মানুষ এক সময় সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে টু শব্দটি পর্যন্ত করার সাহস হারিয়ে জিম্মি ছিলো। সেই অবস্থার অনেকটাই পরিত্রাণ ঘটেছে। এলাকার সাধারণ মানুষ সাহস পেলেও পুলিশি সক্রিয়তার অভাবে অবস্থা যে সেই তিমিরেই ফিরতে পারে তা অস্বীকার করা যায় না। পুলিশি তৎপরতায় ডাকাতদল, ছিনতাইকারীচক্রসহ অপরাধীরা ধরা পড়লে স্বস্তি মিলবে। রাজনৈতিক অস্থিরতায় রাজপথে পুলিশকে নাকানি চুবানি খেতে হচ্ছে। রাজপথে ছুটতে গিয়ে পুলিশি অপ্রতুলতা যে ফুটে উঠেছে তা নিয়ে সন্দেহ নেই। পুলিশি তৎপরতা জোরদার হলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা অসম্ভব নয়। অবশ্য এ জন্য দরকার এলাকাবাসীর সহযোগিতা। যে সহযোগিতা পেতে পুলিশের আস্থা অর্জনের পথে হাঁটতে হয় বটে। পুলিশের অপ্রতুলতা ঘোচাতে সরকারেরও বাড়তি পদক্ষেপ প্রয়োজন। লোকবল ও পরিবহন ব্যবস্থা বৃদ্ধির পাশাপাশি স্বচ্ছ জবাবদিহিতায় যে যথেষ্ট ঘাটতি তা দায়িত্বশীলরা অস্বীকার করতে পারবেন কি? যদিও রাজনৈতিক স্থিতিশীল অবস্থায় কি ডাকাতি হয়নি? হয়, হয়েছে। তবে এতোটা ভয়াবহ পরিস্থিতি বোধকরি হয়নি।

 

রাজনৈতিক অস্থিরতা কবে যাবে, কবে রাজপথ হবে শান্ত? সেদিকে তাকিয়ে থাকলে তো চলবে না। নিরস্ত্র মানুষগুলোর ওপর অবৈধ অস্ত্রধারীরা হামলে পড়বে, তাণ্ডব চালাবে তা হতে পারে না। সমাজে অপরাধীর সংখ্যা নিতান্তই হাতে গোনা। শান্তিপ্রিয় সাধারণ মানুষ সোচ্চার হলে অপরাধীদের দাঁড়ানোর স্থান থাকে না। অন্য এলাকার অপরাধীরা নিজ এলাকার কারো না কারো সহযোগিতা নিয়েই অপকর্ম করে। অপরাধীরা এলাকাবাসীর কাছে খুব যে অচেনা তা নয়। তাদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অবস্থান নিতে গেলে হামলার আশঙ্কা অমূলক নয়। ফলে গোপনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর নিকট তথ্য সরবরাহের পাশাপাশি সজাগ হতে হবে। পুলিশকেও হতে হবে আন্তরিক।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *