মোবাইলফোনে প্রতারণা ও চাঁদাবাজি চলছেই

কোথাও লোভনীয় টোপে, কোথাও খুনের হুমকি দিয়ে হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে অর্থ। এসব কাজে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ব্যবহৃত হচ্ছে সেলফোন তথা মোবাইলফোন। মোবাইলফোনে গ্রামের সরলসোজা মানুষের কাছেই নয়, অতি চালাকের কাছেও লোভের ফাঁদে ফেলে প্রতারণা করা হচ্ছে। প্রতারিতদের অধিকাংশই যে লোভে পড়েই প্রতারকের পাতা ফাঁদে পড়ছে তা বলাই বাহুল্য। আর খুনের হুমকি দিয়ে, বাড়ির আশেপাশে, ঘরের চালে বোমা রেখে মোবাইলফোনে খুনের হুমকি দিয়ে বোমা রাখার কথা জানাচ্ছে। উদ্দেশ্য ভীতসন্ত্রস্থ করে অর্থ আদায়।

 

অস্ত্র যখন মোবাইলফোন তখন তা ব্যবহারকারীকে প্রযুক্তির মাধ্যমে শনাক্ত করা অসম্ভব নয়। এরপরও মোবাইলফোনে প্রতারক ও চাঁদাবাজ চক্রকে ধরে উপযুক্ত আইনে সোপর্দ করা সম্ভব হচ্ছে না। কেন শুধু কি পুলিশের গাফিলতি? নাকি পুলিশের অপ্রতুলতা? সব দোষ নন্দঘোষের বলে দায় চাপানো রেওয়াজ সমাজে বিদ্যমান। এ রেওয়াজ থেকে মুক্ত হয়ে প্রতারিত ও চাঁদাবাজি বা হুমকির শিকারকেও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেয়া দরকার। কখন কোন মোবাইলফোন দিয়ে হুমকি দেয়া হচ্ছে তা পুলিশকে না জানালে পুলিশ জানবে কীভাবে? প্রতারক কোন মোবাইলফোন ব্যবহার করছে তা পুলিশকে জানিয়ে সহযোগিতার বদলে যদি রাতারাতি পতি হওয়ার স্বপ্নে বিভোর হয়ে প্রতারকের ডেরায় টাকা পৌঁছে দেয় তার দায়ই বা পুলিশের ওপর পড়বে কেন?  অবশ্যই মোবাইলফোনে চাঁদাবাজ বা প্রতারকদের বিরুদ্ধে পুলিশ ব্যবস্থা নেবে। সহযোগিতা চেয়েও না পাওয়ার উদাহারণ বেড়ে গেলে পুলিশের দায়িত্বশীলতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই পারে। একের পর এক চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটছে। দামুড়হুদার মজলিশপুরের দুজনের বাড়ির প্রধান ফটকে ও গাড়ির ওপর বোমা রেখে গভীর রাতে মোবাইলফোনে চাঁদা দাবি করে খুনের হুমকি দেয়া হয়েছে। চুয়াডাঙ্গা জেলা শহরের বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ী, চিকিৎসকের নিকটও মোটা অঙ্কের চাঁদার দাবিতে খুনের হুমিক দেয়া হয়েছে। মোবাইলফোনে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যানের নিকটও জিন সেজে লোভনীয় প্রস্তাবে প্রতারণার ফাঁদ পেতেছিলো অজ্ঞাত পরিচয়ের প্রতারক। লোভের ফাঁদে পা না দিয়ে ভাইস চেয়ারম্যান প্রতারকের উচিত জবাবই দেয়ার চেষ্টা করেছেন। অথচ চুয়াডাঙ্গা দামুড়হুদার জগন্নাথপুর বাজারপাড়ার গোলাম রহমানকে প্রতারকচক্র লোভের ফাঁদে ফেলে হাতিয়ে নিয়েছে টাকা ও সোনার গয়না। এভাবে অনেকেই প্রতারিত হচ্ছেন। প্রতারিত হয়েও অনেকে লজ্জায় মুখ খোলে না। শুধু কি তাই, অবরোধে বিপদে পড়ে আশ্রয় নিয়ে সরলতার সুযোগে মেহেরপুর গাংনী এলাকার এক পরিবারের মূল্যবান মালামাল হাতিয়ে নিয়ে চম্পট দিয়েছে প্রতারক চক্র।

 

সব সময়ই প্রতারকরা অভিনব কৌশলে বিশ্বাস করার মতো কথা বলেই প্রতারণার ফাঁদ পদে। সুক্ষ্মভাবে হলেও আড়ালে থাকে লোভ। লোভে পড়ে যারা প্রতারিত হয়, তাদের বাস্তববাদী করতে সচেতনতার আলো ছড়ানোর দরকার। অবশ্যই প্রতারকচক্রের বিরুদ্ধে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাসমূহের দায়িত্বশীলদের লাগাতার অভিযান চালানো প্রয়োজন। প্রতারকই হোক, আর চাঁদাবাজই হোক, মোবাইলফোন নম্বর পাওয়ার পর পুলিশের কাল বিলম্ব না করে প্রযুক্তির মাধ্যমে অবস্থান শনাক্ত করে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *