মাদকের কালো থাবা আমাদের সমাজে নতুন নয়

 

মাদক জাতির ভবিষ্যত ধ্বংস করে। ভেঙে দেয় মেরুদণ্ড। সংসারে ধরায় অশান্তি। মেধাবী সম্ভাবনাময় সন্তান মাদকের কবলে পড়ে ঝরে পড়ে। মাদক রেখে সমাজের সামগ্রিক উন্নয়ন কামনা করা খানেকটা অবান্তর। মাদকের কালো থাবা আমাদের সমাজে নতুন নয়। দীর্ঘদিন ধরে ধীরে ধীরে সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে প্রবেশ করেছে মাদকের কালো থাবা।  মাদকের কবল থেকে সমাজকে রক্ষা করতে ৱ্যাব-পুলিশ, বিজিবি লাগাতার অভিযান অব্যাহত রেখেছে। সমাজের সচেতন মানুষগুলোও মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে উঠেছে। অবশ্য সব ক্ষেত্রেই যে সচেতন সমাজ মাদকের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে সফল হতে পারছে না তা নয়। চুয়াডাঙ্গার বিভিন্ন এলাকায় মাদকবিরোধী কথা বলে অনেকেই মাদক পাচারকারীদের  নানা ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন। তবে সেই অবস্থা এখন আর নেই। ৱ্যাব-পুলিশ, বিজিবি মাদকবিরোধী অভিযান তরান্বিত করার ফলে এর ব্যবহার যে বহুলাংশে কমেছে তা নতুন করে বলার অবকাশ রাখে না।            গতকাল দৈনিক মাথাভাঙ্গা পত্রিকায় পাঁচটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। প্রকাশিত প্রতিবেদনে ছিলো হিজলগাড়ি ক্যাম্প পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযান ফেনসিডিল ব্যবসায়ী শওকত গ্রেফতার। অপর একটিতে গাংনীতে হেরোইনসহ ৱ্যাবের হাতে মাদকব্যবসায়ী আটক। অপর প্রতিবেদনে জীবননগরের বিজিবির আটককৃত বিপুল পরিমাণ মাদক ধ্বংস। এছাড়া আরও দুটি প্রতিবেদনে ছিলো দর্শনা নিমতলায় ফেনসিডিল উদ্ধার ও গাংনীর ফতাইপুরে গাঁজাসহ মাদকব্যবসায়ী জনি গ্রেফতার।

আইনের যথাযথ প্রয়োগ ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যদের মাদকবিরোধী আন্তরিক প্রচেষ্টা থাকলে সমাজের সচেতন সাধারণ মানুষ যে মাদকবিরোধী পদক্ষেপ নিতে সাহস পাবে তা নতুন করে বলা অবকাশ রাখে না। কয়েক বছর আগে ভারত সীমান্তবর্তী জেলা চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর ও ঝিনাইদহ এলাকায় মাদকের ছড়াছড়ি যেভাবে শুরু হয়েছিলো, তা অব্যাহত থাকলে মাদকের আগুন থেকে সমাজের কোনো পরিবারই রক্ষা পেতো না। সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে ছিঁচকে চোরের উপদ্রব বেড়ে যায়। মেধাবী ছাত্ররা যেমন অধঃপতনের দিকে ধাবিত হয় তেমনই পেশাজীবীদের অনেকেই পেশা হারিয়ে পথের ভিখারি হয়। চুয়াডাঙ্গায় এরকম উদাহরণ রয়েছে বহু। মাদকের কবলে পড়ে ধ্বংস হয়েছে এমন সম্ভাবনাময়ী যুবকের সংখ্যা চুয়াডাঙ্গায় কম নয়। মাদকের কবল থেকে সমাজকে রক্ষা করতে হলে অবশ্যই প্রশাসনের আরও আন্তরিক হওয়া প্রয়োজন। একই সাথে প্রয়োজন সামাজিকভাবে মাদকবিরোধী গণআন্দোলন গড়ে তোলা। পাশাপাশি পরিবারেরে অভিভাবকদের অধিক সজাগ হওয়া প্রয়োজন। একজন অভিভাবক তার সন্তানের দিকে নজর রাখতে উদাসীন হলে কোনো সন্তান সংসারে যে সর্বনাশ ডেকে আনতে পারে তা নতুন করে বলার অবকাশ রাখে না।  মাদকের কালো থাবা এতোটাই ভয়ঙ্কর যে মাদকাসক্ত একজন সদস্যই একটি সংসারে অশান্তির আগুন জ্বালাতে যথেষ্ট। আর ওই আগুন দেখে প্রতিবেশীদের খুশি হওয়ার কারণ নেই। পাশের বাড়ির আগুনের ফুলকি উড়ে নিজের ঘরে তথা সংসারে পড়ে ধ্বংস করতে পারে। এ বিষয়টি উপলব্ধি করেই সমাজের সকলে সম্মিলিতভাবে মাদকবিরোধী যুদ্ধে শামিল হওয়া প্রয়োজন। প্রয়োজন সমাজের সর্বস্তর থেকে মাদক উচ্ছেদে আরও আন্তরিক হওয়া।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *