মাথা ব্যথা হলে প্রয়োজন উপশমের ওষুধ

প্রতিবেশী দেশের রেলবিভাগ যখন রেলপথ সম্প্রসারণসহ নানামুখি উন্নয়নে অগ্রগামী, তখন আমাদের দেশের রেলবিভাগ একের পর এক স্টেশনের কার্যক্রম বন্ধ করছে। বন্ধের অজুহাত মালামাল ও যাত্রীমাশুল না পাওয়া। সত্যি কি যাত্রী ও মালামাল ওইসব স্টেশন থেকে রেলগাড়িতে তোলা হয় না? হয়। অনেক ক্ষেত্রেই মাশুল আদায় হয় না। কেন? রেল বিভাগেরই দায়িত্বশীলদের দুর্নীতি। অবাক হলেও সত্য যে, দুর্নীতি বন্ধ না করে স্টেশনের কার্যক্রম বন্ধ করা হচ্ছে। বিষয়টি মাথা ব্যথা হলে উপশমের ওষুধ প্রয়োগের বদলে মাথা কেটে ফেলার মতো নয় কি?

 

চুয়াডাঙ্গার মোমিনপুর, মুন্সিগঞ্জ ও আনছারবাড়িয়া স্টেশনের কার্যক্রম বহুলাংশে কমিয়ে আনা হয়েছে। আনছারবাড়িয়া এলাকার সাধারণ মানুষ আন্দোলনমুখি হয়েছে। তারা তিন দফা দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালনের পাশাপাশি রেলপথ অবরোধ করেছে। কর্মকর্তাদের প্রতিশ্রুতির প্রেক্ষিতে আন্দোলনকারীরা ঘরে ফিরেছে। গতকাল দৈনিক মাথাভাঙ্গা পত্রিকায় এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অবরোধের সময় দুটি রেলগাড়ি প্রায় দু ঘণ্টা আটকে থাকে। যাত্রী সাধারণকে দুর্ভোগ পোয়াতে হয়। কর্মকর্তাদের অনেকেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেন। ততক্ষণে দুটি রেলগাড়ির সময়সূচি ভেঙে পড়ে। অবরোধ বিধিসিদ্ধ নয় যেমন, তেমনই এলাকাবাসীর দাবিও অযৌক্তিক নয়। হঠাত করে অবরোধ না হলে কেন আগেভাগে এলাকাবাসীর দাবিকে গুরুত্ব দেয়া হলো না? যখন অবরোধ শুরু হলো তখন কেন তাকে গুরুত্ব দেয়া হলো? হুট করে অবরোধ অবশ্য কাম্য নয়। বাংলাদেশ রেলওয়ে যে একেবারেই উন্নয়নের পথে নেই তা নয়। দূরপাল্লার অনেক গাড়ির ব্যবস্থা করেছে। মিটারগেজের মাঝে একটি করে লাইন স্থাপনের মাধ্যমে ব্রডগেজ ও মিটারগেজ রেলগাড়ি চলছে। কিছু রেলগাড়ির মাশুল আদায়ে বেসরকারি খাতে দেয়ায় লাভ না কি লোকসান? তা অবশ্য অপ্রকাশিত। বেসরকারি কোনো সংস্থা রেলমাশুল আদায় করে লাভবান হলে রেলবিভাগের নিজস্ব লোকবল তা কেন পারে না? জবাব একটাই তা হলো অনিয়ম দুর্নীতি। প্রতিষ্ঠানের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে কর্তারা ব্যক্তিস্বার্থে অন্ধত্ববরণ করেছেন বলেই বোধকরি আপাদমস্তক দুর্নীতিগ্রস্ত। প্রশ্ন উঠতেই পারে, ভ্রমণকারীদের কি উচিত নয়, যে নিজ দায়িত্বে যথাযথভাবে মাশুল দিয়েই রেলগাড়ি ব্যবহার করা? উচিত। অনিয়মের পথে অল্প অর্থে আপসের সুযোগ পেলে ক’জনই আর নিয়মের পথে হাটে? আনছারবাড়িয়া স্টেশনের পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম পুনরায় চালু হোক। পূর্ণতা পাক স্টেশন।

 

বাংলাদেশ রেলওয়ের নিম্নস্তর থেকে উচ্চপর্যায়ে সংক্রমিত দুর্নীতি দূর করতে না পারলে উন্নয়নের গতি আর যাই হোক রেলগাড়ির মতো হবে না। কাটবে না স্থবিরতা। একের পর এক স্টেশনের কার্যক্রম বন্ধ বা সীমিত করে নয় দুর্নীতিমুক্ত করে বাংলাদেশ রেলওয়ের জৌলুস ফেরাতে হবে। ভ্রমণকারীদের ভ্রমণ নিরাপদ ও বহনের জন্য দেয়া মামলালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করলে ভ্রমণকারী বৃদ্ধি পাবে। যথাযথভাবে মাশুল পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হলে স্টেশন ও রেলগাড়িতে কর্মরতদের দুর্নীতিমুক্ত করা ছাড়া বিকল্প নেই। উৎকোচ-উপরি আয় ছেড়ে কর্তারা কি সে পথে হাঁটবেন?

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *