মাতৃ-আরাধনায় অর্জিত হোক সেবার প্রেরণা

* মাতৃ-আরাধনায় অর্জিত হোক সেবার প্রেরণা
-বিশ্বজিৎ পাল
‘মা’ মানেই গর্ভধারিণী- যাঁর সমতুল্য মাতৃভূমি আর মাতৃভাষা। মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে মায়ের সাথে সম্পর্ক রাখতে হবে সন্তানকে। যিনি একাজে সফল তিনিই প্রকৃতির মাঝে ছড়িয়ে থাকা মাতৃশক্তি উপলব্ধি করতে পেরেছেন। প্রকৃতিশক্তিই মাতৃশক্তি। বিশ্বে যত শক্তিধর আস্ত্রেরই সৃষ্টি হোকনা কেন তা মাতৃশক্তির কাছে হার মানতে বাধ্য। ভক্ত ভগবানের, সন্তান মায়ের আর শিষ্য যদি গুরুর নিকট অবস্থান করে তাহলে মাতৃশক্তি লাভে সন্তানকে মায়ের নিকট অবস্থান করতে হবে। মাতৃশক্তিকে জানার জন্য চাই দিব্যদৃষ্টি। তবে দৃষ্টির তারতম্যে ফল হয় বিপরীত। দেবী চণ্ডীকে পূজো অর্চনায় রাবণ হয়েছিল মহাবীর। আর সেই রাবণ কুদৃষ্টি পোষণ করলো দেবীশক্তির প্রতি। নতুবা জগৎলক্ষ্মী সীতাকে হরণ করতে যাবে কেন?
এবারও আনন্দের মহা সম্মিলন নিয়ে এসেছে দুর্গোৎসব। দুর্গা হলো মহাশক্তিরূপা। এই শক্তি সাধনাই দুর্গাপূজা। দুর্গাপূজা হলো শক্তি দেবতারই আরাধনা। হিন্দু সম্প্রদায় দেবী দুর্গার পূজাকে মাতৃশক্তির আরাধনা বলেই দাবি করেন। আর এ মাতৃ-আরাধনার মধ্য দিয়ে আমাদের অর্জিত হোক সর্বজীবে সমত্ববোধ, ত্যাগ ও সেবার প্রেরণা। মৃত্যু হোক সব সংকীর্ণতার। নিশ্চিত হোক সকল ধর্মের মানুষের সমান অধিকার। তিমির রাত্রির অবসানে জীবনে আসুক মঙ্গল প্রভাত।
দেবী দুর্গা প্রাচীনকাল থেকেই ভক্তদের মাঝে নানারূপে পূজিত হচ্ছেন। যার বশে বায়ু বহে তিনিই চণ্ডী, বিষ্ণুর মহাশক্তি মহামায়া। অষ্টম ও নবমীর সংযোগ সময়ে চামুণ্ডা নামে সন্ধিপূজায়, দশমীতে অপরাজিতা নামে পূজিতা হন মা দুর্গা। যখন অপশক্তির নির্যাতন, অবিচার ঠিক তখনই দুষ্টের দমন শিষ্টের পালনের জন্য দেবী দুর্গা ধরাধামে আবির্ভূত হয়েছেন। যুদ্ধে দৈত্যরাজকে নিধন করে দেবতাগণকে স্বর্গরাজ্য ফিরিয়ে দিয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠা করেন। হিন্দুরা যেভাবে দেবী দুর্গার আরাধনা করেন তার কাঠামো হচ্ছে, দশ প্রহরণধারিণী সিংহবাহিনীর সঙ্গে ঐশ্বর্যের দেবী লক্ষ্মী, বিদ্যা দেবী সরস্বতী, দেব সেনা নায়ক কার্তিক ও সিদ্ধিদাতা গণেশ। সবার ওপরে অবস্থান দেবাদিদেব মহাদেব। দুর্গার এই বৈশিষ্ট্যকে অনেকে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার পূর্ণাঙ্গ কাঠামো বলে অভিহিত করেন।
লিখিত সাহত্যে সৃষ্টির আগেও শক্তির আধার হিসাবে ইতিহাসে পাওয়া গেছে হিমালয়বাসিনী দেবী দুর্গাকে। পাঁচ হাজার বছর আগে পাঞ্জাবে ও সিন্ধু সভ্যতার মহাঞ্জোদারে খনন করে পাওয়াকৃত মূর্তির ধ্বংসাবশেষে দুর্গা অর্চনা প্রমাণিত হয়েছে। বিশ্বায়নের এ যুগে দুর্গাপূজা এখন শুধু সনাতনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, তা বিশ্বের উৎসবে পরিণত হয়েছে। জাপানে চুণ্ডিদেবী, চীনে চানসান দেবী, তিব্বতে তারদেবী, নেপালে মঞ্জুশ্রী দেবী, মিসরে সিংহমুখী দেবী, বেলুচিস্তানের মরুদ্বীপে হিংলাজমাত দেবী, জার্মান, বৃটেন, আমেরিকা, ইউরোপ, ভূমধ্যসাগরীয় উপকূল অঞ্চলেও দেবীদুর্গা পূজিত হচ্ছেন।
হার্বার্ট স্পেনসার বলেছেন, সংকটের মুখে আমরা দেবতার সম্মুখীন হয়ে আরাধনা করি সংকট থেকে মুক্তির জন্য। এমনই এক মহাশক্তি দুর্গা যিনি ‘দুর্গতিনাশিনী’। দুঃখের মধ্য দিয়ে সাধনাই এই নামের অর্থ ‘দুর্গতিনাশিনী’। অথচ ব্যস্ততম জীবনযাপনে এই দুর্গোৎসব আমাদের মনে লাগায় স্নিগ্ধতার প্রলেপ। মহালয়ার দিন থেকে শুরু করে দশমী পর্যন্ত পরশ লেগে থাকে হৃদয়ে। তবে দশমীতে মায়ের বিদায়লগ্নে মন ভারাক্রান্ত হয়ে উঠে। এই বিচ্ছেদের সুরে মধ্যে অনুরণিত হয় নতুন করে ফিরে আসার। তারই প্রস্তুতিস্বরূপ নতুন উদ্যমে আবার ফিরে আসি প্রতিদিনের কর্মস্থলে, ব্যস্ততম জীবনচর্যায়।
ভাগবতে রয়েছে, শ্রী রামচন্দ্রের সাথে রাবণের যুদ্ধ হয়েছিল শরৎকালে মধ্যরাত্রি দেবতাদের ঘুমন্তবস্থায়। এ সময় রামচন্দ্রকে সাহায্যে দুর্গাকে অসময়ে ঘুম থেকে জাগতে হয় আর একেই দেবীর অকাল বোধন বলে। সেই থেকে শরৎকালে দুর্গা পূজিত হয়ে আসছে। ওই সময় নিদ্রা থেকে জেগে দেবী বলেছিলেন, আমি সপ্তমী তিথিকে রামচন্দ্রের দিব্য ধনুর্বাণে প্রবেশ করব। অষ্টমীতে রাম-রাবণের মহাযুদ্ধ হবে। অষ্টমী-নবমীর সন্ধিক্ষণে রাবণের দশমাথা মাটিতে লুটিয়ে পড়বে। দশমীতে রামচন্দ্র বিজয় উৎসব করবেন। তবে ষষ্ঠাদি কল্প অনুসারে ষষ্ঠির দিন বিল্ব বৃক্ষের শাখায় দেবীর বোধন হয়, তারপর আমন্ত্রণ ও অধিবাস। ঐ দিন পূজা হয় ঘটে। সপ্তমী থেকে নবমী পর্যন্ত পূজা হয় প্রতিমায়।
দুর্গোৎসব জাতিকে প্রাণশক্তিতে ভরপুর রেখেছে। দুর্গাশক্তির আড়ালে অভাব-অনটন উত্তরণে মাতৃশক্তির আরাধনায় জাতি আচ্ছন্ন থাকে এমনকি সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার সুযোগ ঘটে। তবে এটি এখন আর শুধু হিন্দুদের একার উৎসব নয়। সময়ের পরিবর্তনে এটি সার্বজনীন উৎসবে পরিণত হয়েছে। রূপান্তরিত হয়েছে মহামিলনের তীর্থক্ষেত্রে। দুর্গাপূজায় এক সময় গান, রংতামাশা, মেলা বসতো; এখন তার স্থান দখল করেছে ব্যান্ডের গান, আরো অনেক আধুনিক উপকরণ। তবে বিজ্ঞান আজ অনেকদূর অগ্রসর হলেও মানুষ আজো সমস্ত কিছুর ওপরে দেবশক্তিকেই চূড়ান্ত বলে মনে করে। প্রতি বছর পূজা এলেই রাষ্ট্রের অধিপতিরা হিন্দু সম্প্রদায়কে শারদীয় শুভেচ্ছা জানান। তবে এ শুভেচ্ছা ও সহযোগিতার আশ্বাসই যথেষ্ট নয়, সর্বক্ষেত্রে হিন্দু সম্প্রদায়সহ সংখ্যালঘুদের স্বার্থ সংরক্ষণে রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও যথাযথ বাস্তবায়ন প্রয়োজন বলে ধর্মগুরুদের অভিমত।
দূর্গাপূজার সূচনাতে যেমন আনন্দ তেমনি সমাপ্তিতে বেদনার অশ্র“তে বিসর্জিত হয় মা দূর্গা। সাধারণের কাছে দুর্গা কন্যারূপেই অধিকতর প্রতিষ্ঠিত। দেবী দুর্গা স্বামী-পুত্র-কন্যাসহকারে বাঙালি কন্যার মত বাপের বাড়ি আসেন পিতা-মাতার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে। মর্ত্যে সন্তানদের নিয়ে ৫ দিন থেকে এবার মা দুর্গা স্বামীর গৃহ কৈলাশে ফিরবেন গজে চেপে। আমার ছোটবেলায় যেসব পুকুরে মা দুর্গার বিসর্জন অনুষ্ঠান দেখতে সমবেত হতাম আজ সেগুলো ভূমি আগ্রাসী শক্তির কবলে বিলুপ্ত হয়ে গেছে। এখন ঢাকাতে বুড়িগঙ্গা, নারাগঞ্জে শীতলক্ষ্যো নদী এবং চট্টগ্রামে দেবীকে বিসর্জন দিতে হয় পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতে।
আজ আমরা যখন দেবীর পূজা করছি তখন দেখতে পাচ্ছি প্রিয় মাতৃভূমিতে এক শ্রেনীর মানুষ সমাজকে করছে কলুষিত। হিংসা-বিদ্বেষ ও ক্ষমতার মোহ মানুষকে করেছে বিভাজন, সমাজ ক্ষত-বিক্ষত, জনজীবন দুর্গত। সর্বত্র মূল্যবোধের চরম অবক্ষয়। তবুও মা দুর্গা আশীর্বাদে সকলের দেহমন বিশুদ্ধ হোক, সত্য সুন্দরে আলোকিত হোক আমাদের প্রিয় বাংলাদেশ, সবখানে ছড়িয়ে পড়–ক শান্তির সুখের বার্তাÑ এটাই বিনম্র প্রার্থনা। লেখক-সাংবাদিক, নরংযধিলরঃপঃম@মসধরষ.পড়স

বি

পার্ট -২

* দেবের সম্মিলিত শক্তি মা দূর্গা
-বিশ্বজিৎ পাল
দুর্গতিনাশিনী, অসুরবিনাশিনী, জগন্মাদা, দশ প্রহরণধারিণী দেবী দুর্গা। এ বিশ্লেষণগুলো যাঁর আছে তিনিতো মহাশক্তিরূপিণী, শক্তি প্রদায়িণী। সৃষ্টির আদিতে যেহেতু আছে শক্তি সেহেতু সৃষ্টি মানেই শক্তি, শক্তিমানেই জীবন। সুতরাং দেবী মহামায়া মানেই জীবের জীবনস্বরূপ, জীবন লীলাক্ষেত্র। এমনকি সকল দেবের সম্মিলিত শক্তি, বিশ্বশক্তি মা দুর্গা। দুর্গা-দুর্গে-দুর্গাতিনাশিনী, সিংহবাহিনী, মহিষমর্দিনী। মাতৃশক্তির প্রতিভূ। সকল শক্তির আধার। সর্বশক্তি স্বরূপিনী। তাঁর অনেক নাম। ভগবতী, চণ্ডী, মহালক্ষ্মী, মহাকালী, মহামায়া, দশভুজা, মহিষমর্দিনী, বাসন্তী, দুর্গা ইত্যাদি। হালে শারদীয়া। এক কথায় সকল শক্তির সম্মিলিত রূপ মা দুর্গা।
সনাতন ধর্মের বিভিন্ন শাস্ত্রে মা দুর্গাকে বিভিন্ন নামে আখ্যায়িত করা হয়েছে। যেমন উমা, ভারতী, গিরিজা, অম্বিকা, ভদ্রকালী, চন্ডী, মাহেশ্বরী, কোমারী, বৈষ্ণবী, বারাহী প্রভৃতি। তিনি একাধারে অসুরনাশিনী,সুখদায়িনী, ব্যাধিনাশিনী, সর্বশত্র“ বিনাশিনী, পাপনাশিনী, সৌভাগ্যদায়িনী। তিনি স্বয়ং স্বাহা-স্বধা-কালরাত্রি হারিণী, ব্রহ্মবর প্রদায়িনী। অর্গলাস্ত্রোত্রে বলা হয়েছে তিনিই সৃষ্টি-স্থিতি প্রলয়কারিণী এবং বিশ্বের সমস্ত শক্তির উৎস।
‘দুর্গা’ শব্দের অর্থ ‘দুর্ভেদ্যা’। দুর্গ শব্দের স্ত্রীলিঙ্গ হলো দুর্গা। তাই দুর্গা হলো দুর্ভেদ্যা। এই দুর্গার বহু নামের মধ্যে একটি পার্বতী, তিনি পর্বত কন্যা, পর্বতবাসিনী পার্বতী। বাহন পশুরাজ সিংহ, দু’পাশে গণেশ, লক্ষ্মী, সরস্বতী,কার্তিক। একদিকে জ্ঞানরূপ গণেশ, ঐশ্বর্য্য রূপালক্ষ্মী, অপরদিকে বিদ্যারূপিনী সরস্বতী, বীর্যরূপ কার্তিকেয়।
শাস্ত্রে রয়েছে হিমালয় শিখরে আশ্বিন মাসের কৃষ্ণপক্ষীয় চতুর্দশী তিথিতে মহর্ষি কাত্যায়ন আশ্রমে আবির্ভূত কাত্যায়নী মা। ব্রহ্মা, বিষ্ণু, শিব এর স্বত্ব, রজঃ, তমো, মিলিত গুণের রূপই ত্রিগুণা। সূর্য, চন্দ্র, অগ্নি এ তিনে মিলে ত্রিনয়না। অসুর যুদ্ধে জয়ী জায়া। যাঁর বশে বায়ু বহে, সূর্যভীত হয়ে গমন করে, ইন্দ্র, অগ্নি ও মৃত্যু কাজ করে সেই যোগমায়া যিনি- তিনিই চণ্ডী, ভগবান বিষ্ণুর মহাশক্তি মহামায়া। মহিষাসুরকে নিধনকারী মহিষমর্দিনী। দুর্গম নামের অসুর বধ করে দুর্গা। অষ্টম ও নবমীর সংযোগ সময়ে চামুণ্ডা নামে সন্ধিপূজায় পুজিতা। বিজয়া দশমীতে অপরাজিতা নামে হন পুজিতা মা দুর্গা শারদীয়া। যখনই ধরাধামে নেমে আসে অপশক্তির নির্যাতন, নিপীড়ন, শোষণ, শাসন, বঞ্চনা, অবিচার ঠিক তখনই দুষ্টকে দমন করে শিষ্টকে পালনের জন্য দেবী দুর্গা তাঁর সর্বশক্তি নিয়ে আবির্ভূত হন।
দেবাদিদেব মহাদেবের প্রদত্ত অমরত্ব বরপ্রাপ্ত রম্ভার পুত্র মহিষাসুর স্বর্গেও দেবতাদের পরাজিত-পরাভূত করে স্বর্গজয়ে হয়ে উঠে অপ্রতিরোধ্য। স্বর্গ-মর্ত্য-পাতাল-এ ত্রিলোকালয়ে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করে। তার খেয়াল খুশিমতো সকল প্রকার ন্যায়, সত্যকে উপেক্ষা করে দেবতা ও মনুষ্যকুলে সকল প্রকার অপকর্ম চালাতে থাকে। এমতাবস্থায় স্বর্গবাসী দেবতারা ক্ষোভে একত্রিত হয়ে স্বর্গরাজ্যের দেবশত্র“ দুরাত্মা মহিষাসুরের দৌরাত্ম্যের হাত থেকে পরিত্রাণের জন্য তাঁরা ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও মহেশ্বরের শরণাপন্ন হয়ে সবিস্তারে বর্ণনা করলেন মহিষাসুরের সকল অপকর্মের কথা এবং তাকে বধের উপায় বের করার জন্য প্রার্থনা জানালেন। ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও মহাদেব দেবতাগণের কথা শুনে ভীষণভাবে ক্ষুব্ধ হলেন- তাঁদের মহা তেজশক্তি নিঃসৃত হয়ে একত্রে মিলিত হলো। এ ধারাবাহিকতায় মহিষাসুরের বিরুদ্ধে অভিযোগকারী দেবতাগণের শরীর হতে নির্গত তেজরশ্মি সম্মিলিত হয়ে ত্রিলোকব্যাপী এক অভূতপূর্ব নারীশক্তির আকৃতি প্রতিমা মহামায়া মা-দুর্গার সৃষ্টি হলো। এভাবে আবির্ভূত হয়ে মহিষমর্দিনীর ঘোর গর্জনে সমগ্র আকাশ বাতাস প্রকম্পিত হলে চতুর্দশ ভুবন, সপ্ত সমুদ্র, পর্বত এমনকি পৃথিবীসহ সকলই বিচলিত হলেন। স্বর্গের দেব-দেবীগণ আনন্দে সিংহ বাহিনীর জয়ধ্বনি এবং মুনিগণ ভক্তিভরে দেবীর স্তব করতে লাগলেন। হে সর্বমঙ্গলদায়িনী, হরপ্রিয়ে, সর্বার্থ প্রদানকারিণী, ত্রিনয়না গৌরী তোমাকে নমস্কার। স্তবে তুষ্ট হয়ে পরম শক্তিরূপিণী দশভুজা ত্রিণয়নী সিংহবাহিনী, ত্রিশূল চক্রধারিণী মহামায়া দেবী দুর্গা, দুর্গতিনাশিনী মহিষাসুর দৈত্যরাজকে যথাযথভাবে যুদ্ধে নিধন করে বিজয়িনী বেশে স্বর্গরাজ্যে দেবতাগণকে ফিরিয়ে দিয়ে দুষ্টের দমন, শিষ্টের পালনকর্তা হিসেবে মহা শান্তি প্রতিষ্ঠা করেন মা দুর্গা।
তবে জন্মে জীব পায় প্রাণশক্তি। এর সাথে প্রয়োজন হয় কর্মশক্তি, জ্ঞানশক্তি ও প্রেমশক্তির। এ ত্রিবিধ শক্তি কামনায় মাতৃশক্তির প্রতীকি মূর্তি গড়েছে তাঁর ভক্ত সন্তানেরা। এ উম্মুথতা থেকে হোক শক্তির উদ্বোধন। সৃষ্টির সাথে স্রষ্টার, পরমের সাথে জীবের প্রেমে বিগতি হোক এ বিশ্ব- শরৎের এ শুভলগ্নে শারদীয়া মাতার চরণ তলে এতটুকু প্রার্থনা। লেখক-সাংবাদিক, নরংযধিলরঃপঃম@মসধরষ.পড়স
durga ma-4

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *