বুলবুলি খাতুনের মৃত্যুর প্রকৃত নেপথ্য উন্মোচন হোক

রহস্যজনক মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে চালানো মানে প্রকৃত ঘটনা আড়ালের অপচেষ্টা। যা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। পুলিশ মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে ময়নাতদন্তসহ প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছে। নিজের গায়ে আগুন দিয়ে আত্মহত্যা করলে যেরকম আলামত থাকার কথা তেমনটি না পেয়েই পুলিশ রহস্যজনক বলে মন্তব্য করে। পুলিশি তদন্তে প্রভাবিত করা গর্হিত অপরাধ। চুয়াডাঙ্গা আলমডাঙ্গার নতিডাঙ্গার দু সন্তানের জননীর রহস্যজনক মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উন্মোচিত হোক এটাই সাধারণ মানুষের কাম্য।

 

চুয়াডাঙ্গা জেলা সদরের হায়দারপুর গ্রামের বাহার আলীর মেয়ে বুলবুলি খাতুনের বিয়ে হয় আলমডাঙ্গার নতিডাঙ্গা গ্রামের আবু তালেবের ছেলে তানসেনের সাথে। এদের ঘরে দু সন্তানও আসে। বুলবুলির এক ভাইকে বিদেশে পাঠানোর কথা বলে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেয়া হয়। বিদেশে পাঠাতে না পেরে পল্লিবিদ্যুতে চাকরির কথা বলে দিনের পর দিন ঘোরাতে থাকে। এক পর্যায়ে একটি নিয়োগপত্রও হাতে ধরিয়ে দেয়া হয় বলে অভিযোগ। এ অভিযোগ তুলে বুলবুলির ভাই যখন আইনের পথে হাঁটতে শুরু করে তারই এক পর্যায়ে বুলবুলি খাতুনের স্বামীগৃহে রহস্যজনক মৃত্যু হয়। মোটরসাইকেল থেকে পড়া পেট্রোল ল্যাম্পের আগুনের জ্বলে ওঠে, সেই আগুনে পুড়ে বুলবুলি খাতুন মারা যায় বলে স্বামীপক্ষে দাবি করা হয়েছে। অথচ মৃতদেহে জীবন্ত দগ্ধের আলামত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বলেই রহস্যজনক মৃত্যু বলে অনেকের অভিমত। তা হলে কেন আত্মহত্যা বলে জোর দাবি করা হবে? হোক আত্মহত্যা, তারপরও কি পুলিশি তদন্তের দাবি রাখে না? রাখে। যেকোনো অপমৃত্যুরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানার পরই পুলিশের উচিত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া। নতুন করে বলার অবকাশ রাখে না যে, গতানুগতিকভাবে অসুস্থতার কথা বলে অনেক হত্যাকাণ্ডও বেমালুম ধামাচাপা দেয়া হয়। এতে সমাজে অপরাধ প্রবণতা হ্রাস পায় না, বরঞ্চ বহুলাংশে বৃদ্ধি পায়। অবশ্যই ন্যায়বিচার করতে গিয়ে কোনো সাধারণ নিরপরাধ যেন হয়রানির শিকার না হয় সেদিকেও নজর রাখা সকলের দায়িত্ব। অপরাধী পার পেলে তার কুফল সমাজকেই বহন করতে হয়, সমাজের দায়িত্বশীলদের বিষয়টি মনে রাখা দরকার। আত্মহত্যা হলেও কেন আত্মহত্যা, আত্মহত্যায় কেউ প্ররোচণা করলে তার বিরুদ্ধেও আইনগত পদক্ষেপ নেয়ার আইন দেশে প্রচলিত। তা হলে বুলবুলির পোড়া লাশ উদ্ধারের ঘটনাকে খাটো করে দেখা হবে কেন? জেলার পুলিশকর্তা তথা পুলিশ সুপার বিষয়টির দিকে বিশেষ দৃষ্টি দেবেন বলে আমাদের বিশ্বাস।

 

বুলবুলি খাতুনের পোড়া মৃতদেহ উদ্ধার করতে গেলে স্থানীয় কিছু ব্যক্তি প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করে। কেন? ঘটনা ধামাচাপা দিতে? আইন প্রয়োগকারী সংস্থাসমূহের সদস্যদের আইনগত পদক্ষেপ নেয়ার কাজে সহযোগিতা করা সকলের দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে। লাশ উদ্ধারে পুলিশকে বাধার মুখে পড়ার বিষয়টি যেমন মেনে নেয়া যায় না, তেমনই রহস্যজনক মৃত্যুকে ঢালাওভাবে আত্মহত্যা বলে চালানোর মধ্যে শুভবুদ্ধির পরিচয় মেলে না। প্রভাবমুক্ত সুষ্ঠু তদন্তই কাম্য। বুলবুলি খাতুনের মৃত্যুর প্রকৃত নেপথ্য উন্মোচন হোক।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *