বাড়ির আঙিনায় অপহরকচক্রের ফাঁদ এবং

ঘরে-বাইরে চরম অনিশ্চয়তা। রাজপথ উত্তপ্ত। বাড়ির আঙিনায় অপহরকচক্রের ফাঁদ। শহর উপশহর থেকে শুরু করে গ্রামবাংলায় ছিনতাই-ডাকাতির শঙ্কা। এতোকিছুর পরও ঝিনাইদহ কোটচাঁদপুরের অপহৃত শিশুকে ১২ ঘণ্টার মাথায় চুয়াডাঙ্গা দামুড়হুদার মজলিশপুর থেকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধারের খবর কিছুটা হলেও স্বস্তিদায়ক বটে। অপহৃত শিশু উদ্ধার অভিযানে অংশ নেয়া পুলিশের দক্ষদল সাধুবাদ পাবার দাবি রাখে।

জনসংখ্যা বিস্ফোরণের দেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাসমূহের সদস্য সংখ্যাসহ নানা অপ্রতুলতা বিদ্যমান। কর্মসংস্থানের তীব্র সঙ্কটের সমাজে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রত্যাশিত পর্যায়ে রাখা কঠিন। চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর ও ঝিনাইদহসহ পার্শ্ববর্তী এলাকা এক সময় সন্ত্রাস কবলিত হিসেবে চিহ্নিত ছিলো। চরমপন্থি নামধারীদের রক্তের হোলি আর নানা কৌশলে চাঁদাবাজির সেই শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি থেকে উতরানো গেলেও সন্ত্রাসমুক্ত সমাজ গঠনের কাঙ্ক্ষিত স্বপ্ন এখনও দুরস্ত। কেন?

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাসমূহের সন্ত্রাসবিরোধী অনমনীয় অভিযান মাঝে মাঝে আশা জাগালেও সামান্য বিরতিতেই ফের ফেরে সন্ত্রাস। বর্ণবদলে হাজির হওয়া সন্ত্রাস নিয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়ে সমাজ। তেমনই আলামত এখন স্পষ্ট। সন্ত্রাস বেড়ে গেলে সাধারণ মানুষ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারীদের তথ্য দিয়েও সহযোগিতার সাহস হারায়। চক্রবৃদ্ধিহারে ছড়িয়ে পড়ে সন্ত্রাসীদের অপতৎপরতা। চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর ও ঝিনাইদহসহ পার্শ্ববর্তী এলাকায় এখনও অতোটা ভয়াবহ পরিস্থিতি হয়নি। হতে কতোক্ষণ?

কোটচাঁদপুর থেকে অপহরণ করে দামুড়হুদার মজলিশপুরে বন্দি করে মুক্তিপণ আদায়কারীদের তেমন কাউকেই ধরতে পারেনি পুলিশ। অপরাধীদের ধরে আইনে সোপর্দ করে উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করতে না পারলে অপরাধীদের অপরাধের মাত্রা বৃদ্ধি পাবে। সমাজে অপরাধ প্রবণতাও সংক্রমিত হবে। ফলে অপহৃত শিশুকে উদ্ধারের পর তৃপ্তির ঢেকুর তোলার চেয়ে অপহরকদের ধরে আইনে সোপর্দ করার বাস্তবমুখি পদক্ষেপ নিতে হবে। অক্ষমতা, অপ্রতুলতা কাটিয়ে উঠতে হবে। কারণ নিরাপত্তাহীনতা উন্নয়নের অন্তরায়।

অপহরণ ও অপহরণের পর মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনা বেড়েছে। পুলিশ ও অভিভাবকদের বাড়তি সতর্কতা অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। সম্প্রতি কয়েকটি শিশু অপহরণের নেপথ্যে পূর্ব পরিচিতরাই শনাক্ত হয়েছে। ফলে শিশুদের প্রতি বাড়তি নজরদারি এবং বহিরাগত পরিচিতদের গতিবিধি সম্পর্কেও সজাগ থাকা দরকার। সন্ত্রাস দমন অভিযানের পাশাপাশি পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান গড়ে তোলার বিশেষ উদ্যোগ প্রয়োজন।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *