বাড়তি আয়োজনে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন

 

ঈদ আসন্ন। ব্যস্ততা বেড়েছে সকলের। নতুন জামা-কাপড় কেনাকাটা জমে উঠেছে। আরো জমবে। ক্রেতা-বিক্রেতাদের ব্যস্ততার শেষ নেই। বিপণিবিতানগুলোতে বেড়েছে ভিড়। এর মাঝে দূর-দূরান্তে থাকা কর্মব্যস্ত মানুষগুলোও ঈদে আপজনদের মাঝে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এরই মাঝে দূরপাল্লার কোচগুলোর আগাম টিকেট বিক্রি শুরু হয়েছে। ট্রেনের টিকেটও বিক্রির দিনক্ষণ নির্ধারণ করা হয়েছে। ঈদ শান্তিপূর্ণ করতে প্রশাসনের তরফেও নানামুখি পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। রাস্তা-ঘাটে হাট-বাজারে বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এরপরও যে অপরাধীচক্র বসে আছে, তা নয়।

প্রতিবারই ঈদ মরসুমে সড়কডাকাতি বাড়ে। বাড়ে চুরি-ছিনতাই, ডাকাতিসহ চাঁদাবাজি। শহরে ও শহরতলীতে ঈদ বকশিসের নামেও চলে চাঁদাবাজি। কিছু সরকারি অফিসেও বাড়তি আয়ের পাঁয়তারা চলে। বাসে, ট্রেনে, লঞ্চ-ইস্টিমারে অজ্ঞানপার্টির অপতৎপরতা আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে যায়। শহরে ও শহরতলীতে জুয়ার আখড়া বসে। মাদক পাচারকারীদের বাণিজ্যও জোরদার হয়ে ওঠে। সড়ক তো মৃত্যুপুরী হয়েই রয়েছে। জালটাকা কারবারীরা বিপণিবিতানগুলোতে ভিড়ের মাঝে সুযোগ খোঁজে। ফলে বাড়তি আয়োজনে বাড়তি সতর্কতা অনিবার্য। চুয়াডাঙ্গা-মেহেরপুর ও ঝিনাইদহে এবারও বাড়তি পুলিশি টহলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। হাট বাজারে মোতায়েন থাকছে পুলিশ। যদিও পুলিশের অপ্রতুলতা। অপরাধপ্রবণ এলাকায় শতভাগ স্বস্তির নিশ্চয়তা আশা করা যায় না, এরপরও পুলিশ-ই যে ভরসা তা নতুন করে বলার অবকাশ রাখে না।

ঈদ সকলের জন্যই আনন্দদায়ক হোক। এ প্রত্যাশা করে বসে থাকলে অপরাধীরা যে বসে থাকে না, থাকবে না, তা ভেবেই যেহেতু বাড়তি প্রস্তুতি, সেহেতু দায়িত্বশীলদের দায়িত্ব পালনে আরো আন্তরিক হতে হবে। দূরপাল্লার কোচগুলোতে বাড়তি আয়ের চেয়ে সেবার মান বৃদ্ধির বিষয়টির দিকে অধিক নজর দেয়া দরকার। যেহেতু অজ্ঞান পার্টির সদস্যরা আশেপাশে ঘুর ঘুর করছে, সুযোগ খুঁজছে সেহেতু বাসে, ট্রেনে, ইস্টিমার-লঞ্চের যাত্রীদের সজাগ হওয়ার বিকল্প নেই। জালটাকা? কখন যে সুযোগ বুঝে গোচিয়ে দেবে বোঝা কঠিন। সেহেতু ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়কেই টাকা লেনদেনের সময় উদাসীনতা পরিহার করতে হবে। দূরপাল্লার কোচে ডাকাতি হয় প্রধানত দু ভাবে। সড়কে গাছ ফেলে অথবা যাত্রী সেজে ডাকাতি করে। সড়কে টহলের দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যদের কোনোভাবেই দায়িত্বে অবহেলা চলবে না। টিকেট বিক্রির সময়ও দূরপাল্লার কাউন্টারগুলোতে নিয়োজিতদের বাড়তি দায়িত্ব পালনের বিষয়টি বার বার মনে করিয়ে দেয়া প্রয়োজন। তা ছাড়া সময় বাঁচাতে গিয়ে বা ট্রিপ বাড়ানোর আশায় বেপরোয়া গাড়ি চালানো থেকে বিরত থাকতে হবে। চালকের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনে ঘুমের ঘাটতিও যে দুর্ঘটনার জন্য অন্যতম দায়ী তাও অস্বীকার করা যায় না।

ঈদ উৎসব শান্তিপূর্ণ করতে হবে। এলাকার পুলিশ কর্তারা এটাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিলে অবশ্যই সুফল মিলবে। মিলতে বাধ্য। পুলিশকে সহযোগিতা করতে এলাকাবাসীকেও আন্তরিক হতে হবে। পুলিশ সাধারণ মানুষের সহযোগিতা পেলে অপরাধীদের অপরাধমূলক কাজে পা বাড়ানোর আগেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পারে। অবশ্য পুলিশকেও জনগণের সহযোগিতা পাওয়ার জন্য আস্থা অর্জনের মতো দায়িত্ব পালনে আন্তরিক হতে হয়। চাঁদাবাজি? চাঁদাবাজের হুমকির শিকারে ভীতু না হয়ে পুলিশের সহযোগিতা নেয়াই ভালো। ভয়ে আপস অপরাধপ্রবণতাকে উসকে দেয়।

Leave a comment

Your email address will not be published.