বাস্তবতার বেড়া ডিঙোতে দরকার উদ্যোগ, বলিষ্ঠ নেতৃত্ব

 

সত্যিই তো! মানুষ এখন সর্বগ্রাসী। জনসংখ্যা বিস্ফোরণে উজাড় হচ্ছে বনবাদাড়, হ্রাস পাচ্ছে আবাদি জমি। গড়ে উঠছে ঘরবাড়ি। গ্রাম-মহল্লায় খেলার মাঠ? সে তো দুঃস্বপ্ন। শহরেও হাতে গোনা কিছু। তাও সরকারি ব্যবস্থাপনা ছিলো বলেই। কর্মব্যস্ততা শেষে বুক ভরে একটু স্বস্তির শ্বাস নেয়ার স্থান থাকছে না। শহরে তো খাবিখাওয়া অবস্থা, গ্রামাঞ্চলেও।

 

চুয়াডাঙ্গার শহরতলী দৌলাতদিয়াড়ের যুবকরা প্রীতি ফুটবলের আয়োজন করে। খেলার মাঠ নেই। আবাদি জমিতেই সে আয়োজন। উঁচু-নিচু আর আইলে ভাগ করা জমিতে ফসল না থাকার সুযোগে সেখানেই প্রীতি ফুটবল। উপচেপড়া দর্শক। করতালিতে মুখরিত গোটা এলাকা। এর মাঝে দর্শকসারিতে থাকা কিছু ব্যক্তির মধ্যে কথোপকথন। প্রসঙ্গ খেলার মাঠ। দৌলাতদিয়াড়েও একদিন খেলার মাঠ ছিলো। মাঠটির মালিকেরা এক সময় খেলার জন্য মুখে মুখে ছেড়ে রাখলেও জমির মূল্যবৃদ্ধির সাথে সাথে তা কবেই দখল করে বিক্রি করে দেয়া হয়েছে, তা এ প্রজন্মের অনেকেরই অজানা। সেখানে এখন কংক্রিটের বনবাদাড় বললে ভুল হয় না। অথচ ওই খেলার মাঠ যখন বিক্রি হয় তখন খেলার মাঠের গুরুত্ব তেমনভাবে উপলব্ধি হয়নি। কেউ কেউ খেলার মাঠের প্রয়োজনীয়তা তখন উপলব্ধি করলেও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের পরিবেশ হয়তো পাননি। অথবা উদাসীনতা গ্রামটিকে খেলার মাঠশূন্য করেছে। এখন? পতিত জমিও লাখ টাকা। সে হিসাবে কোটির ধাক্কা। তারপরও একদাগে অতো জমি কি মিলবে? দৌলাতদিয়াড় গ্রামবাসীর মতোই অধিকাংশ গ্রামবাসীর মধ্যে এখন অভিন্ন প্রশ্ন। প্রজন্ম প্রবীণদের দোষারোপ করলেও কালের বিবর্তনে বর্তমান সবসময়ই যেন বাস্তবতার বেড়ায় আবদ্ধ। বেড়া ডিঙাতে প্রয়োজন শুধু বলিষ্ঠ নেতৃত্ব। বাঙালি সমাজে এর অভাব কি কখনো ঘুচবে? শিশুর স্বাভাবিক বেড়ে ওঠার জন্য খেলাধুলার মুক্ত পরিবেশ যেমন প্রয়োজন, তেমনই সুস্থতার জন্যও খেলাধুলা অনিবার্য। শিশুদের সুস্থ থাকার সে সুযোগ প্রায় হাতছাড়া। শিশুদের শারীরিক কসরত, খেলাধুলা উবে গেছে, বিনোদন বন্দি হয়েছে চারকোণা বাক্সে, যোগাযোগ চলে গেছে ইন্টারনেটে। তা না হলে প্রজন্মের কাঠগড়ায় প্রবীণদের শাস্তির মাত্রা কোথায় গিয়ে দাঁড়াতো? প্রবীণ কাতারে দাঁড় করালে নিজেকে রক্ষার্থে বলতেই হয়, জয়তু বিজ্ঞান। তারপরও……

 

বিবেকের কাঠগড়ায় নিজেদের দাঁড় করালে ‘না পারার’ দায় প্রবীণদের নিতেই হয়। এ অবস্থা থেকে কি পরিত্রাণের কোনো উপায় আর নেই? আছে। দরকার বলিষ্ঠ নেতৃত্ব, উদ্যোগ এবং সম্মিলিত প্রচেষ্টা। সমাজের প্রয়োজনে অসম্ভবকে সম্ভব করতে পারাটাই তো নেতৃত্ব। উদীয়মানদের কেউ নিক না সেই দায়িত্ব। হয়ে যাক ইতিহাস।

 

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *