বহুমুখি সমবায় সমিতির নামে দেদারছে প্রতারণা

বহুমুখি সমবায় সমিতির নামে প্রতারণা নতুন নয়। লোভনীয় লাভের টোপে লগ্নিকারীদের অর্থ হাতিয়ে নিয়ে রাতারাতি লাপাত্তা হওয়ার উদাহরণ অসংখ্য। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, যশোরে এহসান ইসলামী মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি এবং এহসান রিয়েল স্টেট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড ১০ হাজার গ্রাহকের লগ্নিকৃত আড়াই হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে বন্ধ হয়ে গেছে। প্রতিষ্ঠান দুটির কর্মকর্তারা গা-ঢাকা দিয়েছেন। ফলে গ্রাহকরা লগ্নি ও লভ্যাংশ কিছুই হাতে পাচ্ছেন না। এর আগে চুয়াডাঙ্গার একাধিক বহুমুখি সমবায় সমিতি লাপাত্তা হলেও লোভে পড়ে লগ্নি বন্ধ হয়নি। ডিজিটাল বিজনেস প্লাস নামে রাজশাহীর আরেকটি অর্থলগ্নিকারী প্রতিষ্ঠান গ্রাহকদের দু হাজার ৪০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করে কার্যক্রম গুটিয়ে ফেলেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া ইউনিরুট, সাকসেস প্রপার্টিজ লিমিটেড, আমানা গ্রুপ, পপুলার মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটিসহ বেশ কয়েকটি অর্থলগ্নিকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও রয়েছে নানা অভিযোগ। বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
দেশে সমবায় ও এমএলএম কোম্পানির নামে বিভিন্ন হায় হায় কোম্পানি দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে। এতে বিপুলসংখ্যক গ্রাহক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে এমএলএম কোম্পানির নানা প্রতারণা উদঘাটনের পর এ ব্যাপারে সরকার কিছু পদক্ষেপ নিলেও সমবায়ের নামে প্রতারণা বন্ধে নেয়া হচ্ছে না কোনো ব্যবস্থা। ফলে দিন দিন বিপজ্জনক হয়ে উঠছে সমবায় খাত। কিছু ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কারণে হাজার হাজার মানুষ যেভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, এতে এটাই প্রতীয়মান হয় যে, এসব প্রতিষ্ঠান মনিটরিঙের দায়িত্বে থাকা অনেকেই তাদের দায়িত্ব ঠিকমতো পালন করছেন না। কিছুদিন আগে টিআইবির এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, মাত্র এক বছরেই লাখ লাখ সদস্য ও গ্রাহকের ৯ হাজার কোটি টাকারও বেশি অর্থ আত্মসাতের ঘটনা ঘটেছে। এ একটি তথ্য থেকেই সমবায় সমিতিগুলোর মনিটরিঙের দুর্বলতার বিষয়টি স্পষ্ট হয়।

 

বস্তুত বহুমুখি সমবায় সমিতির প্রতারণার সুযোগ রয়ে গেছে এর অংকুরেই। সরকারি তহবিলে মাত্র ৩০০ টাকা জামানত ফি দিয়েই যে কেউ নিতে পারেন এ ধরনের সমবায় সমিতি চালুর সনদ। একটি সনদ নিয়ে একাধিক শাখা খুলে বসারও নজির রয়েছে। বহুমুখি সমবায় সমিতি খোলার এই সহজ নিয়মের কারণে দেশে ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠেছে এ ধরনের সমিতি। আর এভাবেই বিস্তৃত হচ্ছে প্রতারণার জাল। এ অবস্থায় সমবায় সমিতি প্রতিষ্ঠার বিদ্যমান বিধিমালা সংশোধনের উদ্যোগ নেয়া জরুরি হয়ে পড়েছে।
প্রতারণা বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে স্বভাবতই সমবায় সমিতির ব্যাপারে জনমনে বিভ্রান্তি ও অনাস্থার সৃষ্টি হচ্ছে। অথচ সমবায় একটি ভালো আর্থিক কার্যক্রম। সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত সমবায়ের মাধ্যমে দেশে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব। দারিদ্র্য বিমোচন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, পরিবেশের বিপর্যয় মোকাবেলা এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে সমবায়ী উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। কাজেই এ খাতকে প্রতারক চক্রের হাত থেকে রক্ষা করতে হবে অবিলম্বে।

 

বিধি সংশোধন, মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদারকরণ এবং প্রতারকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানের মাধ্যমে এ খাতে বিদ্যমান অব্যবস্থা দূর করা জরুরি।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *