প্রসঙ্গ হাসপাতালের নিরাপত্তাহীনতা এবং প্রতিকার

 

চিকিৎসাকেন্দ্রে চিকিৎসকের নিরাপত্তা দেবেন কে? যারা সেবার ব্রত নিয়ে কাজ করেন, সন্ত্রাসী, ধনী-গরিব সকলকে চিকিৎসা দিয়ে সুস্থ করেন তাদের নিরাপত্তার জন্য যদি সার্বক্ষণিক পুলিশ মোতায়েন করতে হয়, তাহলে আর বাকি থাকে কী? হাসপাতালে চিকিৎসক ও সেবিকাদের ওপর একের পর এক হামলার ঘটনা সমাজে ধরা পঁচনেরই বহির্প্রকাশ। যাকে সামাজিক নৈতিকতা স্খলন বললেও ভুল হয় না। ছি! ধিক তাদের, যারা চিকিৎসকদের মারতে উদ্যত হয়। অবশ্য কিছু চিকিৎসক আছেন যাদের ব্যবহার নিয়েও মাঝে মাঝে প্রশ্ন ওঠে। সেবাদান কেন্দ্রের ঘটনাপ্রবাহ সামাজিক রোগ নয় কি?

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে অনেক অনিয়ম আছে। সম্প্রতি ছাত্রসমাজের ব্যানারে হাসপাতালের অনিয়ম বিতাড়িত করার আন্দোলন শুরু হয়। আন্দোলনেই অনেক অনিয়ম উবে যায়। কিছু অনিয়ম আছে যা নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে। গতপরশু বৃহস্পতিবার বিকেলে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে কোনো অনিয়মের প্রতিবাদ করতে গিয়ে চিকিৎসকের ওপর ওরা রোখেনি, যদিও অনিয়মের প্রতিবাদ করতে গিয়ে কারো ওপর চড়াও হওয়ার অধিকার কারো নেই। রাতে হাসপাতালে জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসককে দিনে খুঁজতে গিয়ে জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসারকে ছুরিকাঘাতের অপচেষ্টা চালায় দু যুবক। মামলা হয়েছে। গতকাল শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত অভিযুক্ত দু যুবকের একজনকে পুলিশ গ্রেফতারও করেছে। অপরজন আত্মগোপন করে থাকায় তাকে ধরতে না পারলেও পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। দ্রুত গ্রেফতার করে আইনে সোপর্দ করা হোক। শাস্তি হোক দৃষ্টান্তমূলক।

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে যেমন রোগীদের নিরাপত্তা প্রশ্নবিদ্ধ, তেমনই চিকিৎসক-সেবিকাদের নিরাপত্তাহীনতা মাঝে মাঝেই ফুটে ওঠে। আইনশৃঙ্খলা বিঘ্ন সৃষ্টিকারীদের অধিকাংশই মাদকাসক্ত হিসেবে চিহ্নিত। অবশ্য চিকিৎসক বা সেবিকার কর্তব্য অবহেলায় রোগীর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেও কেউ কেউ আইনভঙ্গ করেন। হাসপাতালে নেশাখোরদের উৎপাতে রোগী ও রোগীর লোকজন মাঝে মাঝেই অতিষ্ঠ হয়ে ওঠেন। শুধু টাকা বা মোবাইলফোনই নয়, অনেক সময় ওষুধপথ্যও চুরি করে নেশাখোর ছিঁচকে চোরচক্র। দীর্ঘদিন ধরে চোরচক্রের উৎপাত অব্যাহত থাকলেও সম্প্রতি অবশ্য এক চোর হাতেনাতে ধরা পড়ে। তাকে পুলিশে দেয়া হয়। এ ঘটনার পর বেশ কিছুদিন তেমন চুরির খবর পাওয়া যায়নি। তার মানে এই নয় যে, চুরি আর হবে না। চোরচক্রের বিরুদ্ধে শক্ত ব্যবস্থা নিতে না পারলে আর কতোজনকে যে চিকিৎসার টাকা হারিয়ে সুস্থতার বদলে হতাশা নিয়ে বাড়ি ফিরতে হবে কে জানে?

সরকারি হাসপাতালে নিরাপত্তার দায়িত্ব কার? পুলিশের নিশ্চয়। পুলিশ তো আর অলৌকিকভাবে নিরাপত্তা দানের বিষয়টি জানতে পারবে না। পুলিশকে জানাতে হবে। যেহেতু দেশের বাস্তবতায় পুলিশের অপ্রতুলতা সর্বজন স্বীকৃত, সেহেতু বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে স্থানীয়ভাবেও নিরাপত্তার বিষয়টি ভাবা দরকার। এজন্য অবশ্য দরকার সামাজিক মূল্যবোধ বৃদ্ধিতে বাস্তবমুখি পদক্ষেপ। চিকিৎসকেরা সেবার ব্রত নিয়ে দায়িত্ব পালন করবেন, তাদেরকে সমাজের মানুষ সম্মানের দৃষ্টিতে দেখবে। সমাজের ব্যতিক্রমটিই সমাজিক ব্যাধি। এ রোগ নিরাময়ে দরকার সমাজের চিকিৎসক তথা নেতৃবৃন্দের দায়িত্বশীলতা।

Leave a comment

Your email address will not be published.