প্রসঙ্গ: সড়কে পোশাকধারীদের অর্থ আদায় এবং ছিনতাই

এমন কিছু দুর্নীতি ও অপরাধ আছে যা দায়িত্বশীলেরা একটু ইচ্ছে করলেই তা সমূলে উৎপাটন করতে পারেন। এরপরও অনিয়ম, দুর্নীতি, অপরাধ উৎপাটন জিয়ে রাখা কেন? বোঝা কঠিন। যেমন, সড়কে ছিনতাই, মহাসড়কে ট্রাক আটকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থারই কোনো কোনো সদস্যের অর্থ আদায় বন্ধ করা সত্যিই শীর্ষ পদস্থ কর্তাদের আন্তরিক স্বচ্ছ্ব ইচ্ছের ব্যাপার।
একটি ট্রাকযোগে পদস্থ কর্তা কিছুদূর গেলেই কোনো পোশাকে কীভাবে কারা কতোটা হয়রানি করেন তা তিনি সচক্ষেই দেখতে পারবেন। দেখে তাৎক্ষণিক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা নিয়ে তা দ্রুত গণমাধ্যমে প্রচার করলে কোনো মহাসড়কেই কি ওই ধরনের হয়রানি, চাঁদাবাজি বা উৎকোচ বাণিজ্যের উদাহরণ খুঁেজ পাওয়া যাবে? একইভাবে সড়কগুলোতে পুলিশের কখনো পোশাকে কখনো ছদ্মবেশে টহল থাকলে ওত পেতে বা গাছ ফেলে সড়কে তা-ব চালানোর দুঃসাহস কি কোনো অপরাধীর হবে? টহল থাকে না, থাকলেও ছিনতাইয়ের শিকার হওয়া অনেকেই অভিযোগ করেন, ছিনতাইকারীদের নির্বিঘেœ ছিনতাই করা ও তাদের ঘটনাস্থল ত্যাগের ধরন দেখে মনে হয়, ওই সড়কের কর্তব্যরত টহলদল আগে থেকেই জানতো। এসব অভিযোগ অবশ্য লিখিতভাবে তেমন কেউ করেন না, মৌখিক বা বক্তব্যের প্রেক্ষিতে গণমাধ্যমে উঠে আসে। তদন্ত হয় না। হলেও বিভাগীয় তথা সগত্রীয়ের গতানুগতিকতার বাইরে কিছুই হয় না। ফলে সড়কে দিন দিন ছিনতাই, গাছ ফেলে ডাকাতি রাহাজানি বেড়েই চলেছে। গতকালও দৈনিক মাথাভাঙ্গা পত্রিকায় ঝিনাইদহ ও চুয়াডাঙ্গার প্রত্যন্ত অঞ্চলের দুটি সড়কে ছিনতাইয়ের খবর উঠে এসেছে। দুটি ঘটনাস্থলেরই অদূরে পুলিশ ফাঁড়ি। ওইসব সড়কে টহল থাকার কথা। অপরদিকে সড়কে পুলিশের টাকা আদায়ের কারণে রাজধানীতে গোমাংসের দাম দিন দিন বেড়েই চলেছে বলে অভিযোগ। কিছুদিন আগেও রাজধানীর কসাইরা কর্মবিরতি পালনের মাধ্যমে পদস্থ কর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেছেন। একইভাবে কৃষি উৎপাদিত পণ্যও এক শহর থেকে অন্য শহরে নিতে গিয়ে সড়কে টাকা গুনতে হয় ট্রাকচালক বেপারীদের। যার বোঝা মূলত ভোক্তাদের ঘাড়েই পড়ে। এ বিষয়টি ঘুর ফিরেই পত্রস্থ হয়। কর্তাদের ক’জনেরইবা সেদিকে নজর পড়ে? নজর পড়লেও রহস্যজনক কারণে নীরবতা পরিস্থিতিকে দিন দিন বেসামাল করে তুলেছে, তুলছে।
অপরাধীরা একদিনে যেমন বেপরোয়া হয় না, তেমনই দুর্নীতিও একদিনে ব্যাপকতা পায় না। পুলিশসহ দেশে আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখা তথা জনগণের জানমালের নিরাপত্তা বিধানে যাদের নিযুক্ত করা হয়েছে, তাদের কর্তব্যপরায়ণ করতে অবশ্যই কর্তাদের কর্মকা-ে স্বচ্ছতা ও সংশ্লিষ্ট সকলের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। আর এ জন্য দরকার দূরদর্শী বলিষ্ঠ নেতৃত্ব।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *