প্রসঙ্গ :- প্রতিবেশীর ওপর প্রতিবেশীর নগ্ন হামলা

সকল মানুষই কি হিংসুটে? অবশ্যই না। তবে হিসেব কষলে হিংসুটের সংখ্যা নেহাত কম নয়। ওরাই সাধারণত হিংসুটে হয়, যারা অলসতায় অন্যের তুলনায় পিছিয়ে পড়ে। যেমন, প্রতিবেশী একজন বড় মাছ কিনে বাড়ি ফিরলে না পারা পড়শির একটু গাত্রদাহ হয়, মূলত সেটাই অব্যাক্ত হিংসার সূত্র। অথচ যে মাছ নিয়ে বাড়ি ফিরতে সক্ষম হয়েছে, তার অন্যের দিকে তাকানোরই সময় নেই, কেননা, তাকে মাছ কেনার মতো সামর্থবান হতে হলে অন্যের দিকে তাকিয়ে সময় অপচয় করলে চলে না। যদিও মাছ কেনা ছাড়া যার জমি কিনে বড় বাড়ি করার সাধ্য নেই, তারও হিংসার দৃষ্টি বাড়ি হাঁকানোর দিকে পড়লে পড়তেও পারে। যদিও সকলের ক্ষেত্রে তেমনটি নয়, যাদের ক্ষেত্রে তেমনটি প্রযোজ্য মূলত তাদের মধ্য থেকেই হিংসাটা হিং¯্র রূপে প্রকাশ পায়। তা না হলে একজন প্রতিবেশীর কবুতরঘর নির্মাণে কি কোনো পল্লি চিকিৎসকের গাত্রদাহ হয়? ধৈর্যে ঘাটতি? নাকি শিক্ষায়?
কবুতর গৃহপালিত পাখি। শুধু সৌখিন মানুষই নয়, বহু পরিবার বাণিজ্যিকভাবেও কবুতর পালন করে ভাগ্যের চাকা ঘুরিয়েছেন। চুয়াডাঙ্গা-মেহেরপুরের প্রায় প্রতিটি গ্রামের বহু পরিবারে রয়েছে কবুতর। মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার ধর্মচাকী গ্রামের একটি পরিবার কবুতর পালনের লক্ষ্যে ঘর স্থাপনের কাজ শুরু করলে প্রতিবেশী পরিবার নগ্ন হামলা চালিয়ে গৃহকর্তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ক্ষতবিক্ষত করেছে। মেরে মুখ শরীর ফুলিয়ে দিয়েছে মা-মেয়েসহ তিনজনকে। ঘটনাটি ঘটেছে গতপরশু শনিবার সন্ধ্যারাতে। ধারালো অস্ত্রের কোপে ক্ষতবিক্ষত মুরগি ব্যবসায়ীকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। হামলাকারী পরিবারের কর্তা একজন পল্লি চিকিৎসক। গতকাল শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত তিনি মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছিলেন। চিকিৎসক বলেছেন, প্রচুর রক্তক্ষরণে রোগীকে নিয়ে শঙ্কা কাটেনি। ‘ও’ নেগেটিভ রক্তের প্রয়োজন। নিশ্চয় রক্ত দিতে অনেকেই এগিয়ে আসবেন, অন্যের রক্তে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরবেন মুরগি ব্যবসায়ী কবুতর পালনে আগ্রহী পরিবারের কর্তা। একটি পরিবার মেরেছে, অনেক পরিবার যে তার পাশে তা বোঝাতে হৃদয়বাদনের অবশ্যই রক্তের থলি নিয়ে পাশে দাঁড়ানো দরকার। তাছাড়া পুলিশেরও তড়িত পদক্ষেপ নিয়ে ধৈর্যহারা ওইসব হিংসুটে হামলাকারীদের আইনানুগ উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা করা। যে শাস্তিতে নিজেরা শুধরে নেবে, অন্যরাও হবে সতর্ক।
সমাজের সকল পরিবার, সকল পরিবারের সকল সদস্য অবশ্যই সমান নয়। যদিও প্রতিটি পরিবারই পরিবারের শিশু সদস্যদের প্রথম এবং সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষালয়। বাড়ির বড়রা কে কার ওপর কতোটা সহনশীল, কার প্রতি কতোটা দরদী বা আন্তরিক তা দেখে শিশুরা শেখে। শিশু যখন বড় হয় তখন তার মধ্যে শিশুকালে পাওয়া পারিবারিক শিক্ষার প্রভাব থেকেই যায়। যদিও একাডেমিক শিক্ষাগ্রহণকালে কোনো একজন গুণী শিক্ষকের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে অথবা সমাজের উদার মনের মানুষের সাথে মেশার সুযোগে অনেকেই নিজেকে বদলে নেন। অন্যের অন্যায় দেখে নিজের মধ্যে লুকিয়ে থাকা হীনমানসিকতা পরিহারের চেষ্টাও করেন অনেকে। কেউ পারেন, কেউ পারেন না। তারাই পারেন, যারা পরশ্রীকাতরতার বদলে নিজের ভবিষ্যত নির্মাণের স্বপ্ন বাস্তবায়নে নিজের মধ্যে লুকিয়ে থাকা প্রতিভা সামর্থ অনুপাতে মেলে ধরার যুদ্ধে নামেন। হিংসুটেরা পিছিয়েই পড়েন।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *