প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং প্রাসঙ্গিক ভাবনা

পরীক্ষার প্রশ্নের সাথে অভিজ্ঞ শিক্ষকের সাজেশন হুবহু মিলে যাওয়াটা একটির ক্ষেত্রে কাকতালীয় হলেও একাধিক বিষয়ে মিলে গেলে তাকে কি কাকতালীয় বলা যায়? তবুও বলা হলো। একদিকে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস, অপরদিকে রাজনৈতিক অস্থিরতায় সময়সূচি এলোমেলো। এর মাঝে জেএসসি, জেডিসি পরীক্ষা এবার সম্পন্ন হওয়ার পথে। শুরু হতে যাচ্ছে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা। এ নিয়েও অভিভাবকদের মধ্যে চরম অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে। কবে হরতাল, হরতাল হলে পরীক্ষার সময়সূচি কীভাবে জানবো? জেএসসি পরীক্ষার মতোই কি প্রশ্ন ফাঁস হবে? এসব প্রশ্নের জবাব জানতেই নাভিশ্বাস, কোমলমতি শিক্ষার্থীকে পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত করবে কখন?

 

পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার রোগ নতুন নয়। ফাঁস হতে পারে আশঙ্কায় একই বিষয়ে একাধিক প্রশ্নপত্র প্রস্তুত রাখা হয়। ফাঁস হয়েছে খবর পেলেই প্রশ্নপত্র বদলানোর রেওয়াজ আছে। চলমান জেএসসি, জেডিসি পরীক্ষার ক্ষেত্রে তেমন দায়িত্বশীলতার অভাব পরিলক্ষিত হয়েছে। পরীক্ষা শুরুর দিন থেকেই প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার খবর রটে। দৈনিক মাথাভাঙ্গা প্রথম দিনের পরই তার ইঙ্গিত দেয়। দেশের বিভিন্ন স্থানেও প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার খবর চাওর হয়। শেষ পর্যন্ত খোদ রাজধানী ঢাকাতেও প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়টি জানাজানি হলে পত্র-পত্রিকায় গুরুত্ব সহকারেই তা তুলে ধরা হয়। কর্তৃপক্ষ এ নিয়ে বৈঠকে বসলেও প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়টি মানতে রাজি হননি, ফলে ফাঁস হওয়া প্রশ্নে নেয়া পরীক্ষা বাতিলের ঘোষণা আসেনি। বলা হয়েছে, যে প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে বলে অভিযোগ উত্থাপন হয়েছে তা সঠিক নয়, ১০টির মধ্যে ৬টির মিল পাওয়া গেছে। মিল পাওয়াটা অভিজ্ঞ শিক্ষকের সাজেশন, যা কাকতলীয়।

 

১০টির মধ্যে ৬টি নয়, অভিযোগকারীদের দাবি, ফটোকপি হয়ে ছড়ানো প্রশ্নের সাথে পরীক্ষার প্রশ্নের হুবহু মিল। একটি নয়, একাধিক বিষয়ের ক্ষেত্রেই এ মিল পাওয়া গেছে। ফলে অভিযোগের গুরুত্ব দেয়া দরকার। যদিও দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা, হরতাল অবরোধের কারণে পূর্বনির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী নেয়া যায়নি, আবার যদি প্রশ্নপত্র ফাঁসের কারণে পুনরায় পরীক্ষা নিতে হয় তা হলে পরিস্থিতি বেসামাল হয়ে পড়তে পারে। এরকম আশঙ্কা থেকে পরীক্ষা বাতিল না করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়ে থাকতে পারে। অভিযোগ যেহেতু গুরুতর সেহেতু বিষয়টিকে খাটো করে দেখা কোনো অজুহাতেই আড়াল করা ঠিক নয়। কোনো কারণে মেধাবী কোনো শিক্ষার্থীর মনে বিরূপ প্রভাব পড়ুক, তার ভবিষ্যত নষ্ট হোক সেরকম পদক্ষেপকে আর যাই হোক স্বাগত জানানো যায় না। প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে, সেই প্রশ্নপত্র নিয়ে কতোজন অভিভাবক তার ছেলে-মেয়েকে দিয়েছেন? প্রসঙ্গটা ভিন্ন। সচেতন সকল অভিভাবক অবশ্যই ওই পথে হাঁটেননি, কিছু অভিভাবক যে হেঁটেছেন তা বলাই বাহুল্য। প্রশ্নপত্র ফাঁস মানেই মেধাবী বহু পরীক্ষার্থীর মনে বিরূপ প্রভাব পড়বে। হতাশা গ্রাস করবে। নিষ্ঠাবান বহু শিক্ষকও শিক্ষাদানে আন্তরিকতা হারাবেন। এটাই স্বাভাবিক। অস্বাবাভিক হলো প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং তা আড়াল করা।

 

অবশ্যই প্রশ্নপত্র ফাঁসের নেপথ্য উন্মোচন প্রয়োজন। কোনো চক্র একবার অন্যায় করে পার পেলে অপরাধ প্রবণতা বেড়ে যাবে। যার খেসারত জাতিকেই দিতে হবে। কোনো ব্যক্তি বা চক্রের চক্রান্তে প্রশ্নপত্র ফাঁস হবে, ফাঁস করেও পার পেয়ে যাবে তা হতে পারে না। প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার অভিযোগকে খাটো করে দেখা নয়, গুরুত্ব সহকারে বিবেচনায় নিয়ে সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণই কাম্য। তাছাড়া পরীক্ষা চলাকালে তার সময়সূচিতে আঘাত হবে এমন কর্মসূচিও রাজনৈতিক দলগুলোর পরিহার করা উচিত। সবকিছুকে অবজ্ঞা করা গেলেও শিক্ষার্থীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যত গঠনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি বা অবহেলা করা যায় কি? ভাবুন তো ধর্মাবতার।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *