পবিত্র রমজানের ফজিলত কায়েম হোক

সম্পাদকীয়

 

বছর ঘুরে আবার দুয়ারে আত্মসংযমের মাস। বিশ্বজুড়ে ধর্মপ্রাণ মুসলমানের কাছে রমজান মাসটি বিশেষ তাৎপর্যবাহী। ইবাদত-বন্দেগির জন্য ইসলামি জীবন ব্যবস্থায় এ মাসটির গুরুত্ব অপরিসীম। সৃষ্টিকর্তার বিশেষ নৈকট্য লাভের প্রত্যাশায় মুসলমানরা পানাহারসহ যাবতীয় জাগতিক কাজে সংযমের সর্বোচ্চপরাকাষ্ঠা প্রদর্শনে নিজেকে ব্যাপৃত রাখেন। রমজান মাসের প্রতিটি দিনেই মুসলমানের জন্য রোজা ফরজ করা হয়েছে। মহান এ মাসটি আত্মশুদ্ধির মাস তো বটেই, রহমত, মাগফিরাত ও জাহান্নাম থেকে মুক্তি পাওয়ার মাস হিসেবেও ইসলামে স্বীকৃত। এ মাসেই ইসলাম অনুসারীদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ ও বিশ্ব মানবতার মুক্তির দিশারী আল কোরআন মহানবী হজরত মুহাম্মদের (সা.) ওপর নাজিল হয়। নানা কারণেই এ মাস মহিমান্বিত। পবিত্র এ মাসজুড়ে সারাদিন রোজা রাখার মধ্যদিয়ে শুধু পানাহারের ক্ষেত্রে সংযম প্রদর্শিতই হবে না- দরিদ্র ওক্ষুধার্ত মানুষ খাদ্যাভাবে যে কষ্ট পায়, তার শিক্ষার এক মহান সোপান। ইসলামের এ শিক্ষার মাধ্যমে এটাই স্পষ্ট হয় গরিব-দুঃখী অনাহারী মানুষের প্রতি একজন মুসলমানের দায়িত্ব-কর্তব্য বর্তমান।

অন্যদিকে জাকাত প্রদানের মাধ্যমে অর্থনৈতিক যে বৈষম্য রয়েছে, তা নিরসনে ইসলাম অনুসারীরও দায়িত্ব ও ভূমিকার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। এ এক মহান সাম্যবাদী চেতনা। এ মাস এলেই একটি প্রবণতা অনেককেই আহত করে। দিনের বেলা হোটেল-রেঁস্তোরা খোলা রাখা না রাখা নিয়ে একটি গোষ্ঠী বিতর্কের সূচনা করে। এতে তাদের কী ফায়দা, তা আমাদের বোধগম্য নয়। এটা ইসলামেরও শিক্ষা নয়। কেননা একজন প্রকৃত রোজাদার মোমিন মুসলমানকে প্রকাশ্যে কোনো খাদ্যদ্রব্য তার নিজস্ব সংযমে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে না। আবার যারা রোজাদার নন তাদেরও উচিত রোজা ও রোজাদারদের সম্মান করা। মনে রাখা দরকার, এ দেশে নানা ধর্মের মানুষের বাস। সবাই রোজাদার হবে, এমনটা ভাবা ঠিক নয়। অন্য ধর্মানুসারীদের অধিকার হেফাজতের দায়িত্ব মুসলমানের-ইসলাম এ শিক্ষাই দেয়। হোটেল-রেঁস্তোরা খোলারাখা না রাখা বিতর্কের অবসান হওয়া উচিত। রমজানের আগে থেকে এবং মাসের শুরুতেই কিছু অসৎ ব্যবসায়ী রোজায় প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদিসহ নিত্য পণ্যের মূল্য কোনো কারণ ছাড়াই বাড়িয়ে দেয়। এ প্রবণতা যেমন ইসলাম সম্মত নয়, তেমনি দেশের প্রচলিত আইন ও নিয়ম নীতির লঙ্ঘন। এতে সংযমের পরিবর্তে অসংযম সাধিত হয়। এ অবস্থা যেমন কাম্য নয়, তেমনি প্রতিরোধ যোগ্য। পবিত্র রমজানের ফজিলত কায়েম হোক।

 

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *