পথের বাধা দূর করুন

 

ব্যবসায় প্রতিযোগিতায় সক্ষমতার দিক থেকে বাংলাদেশ এগিয়েছে, এটা সুখবর। রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তার দেশ বাংলাদেশ। ব্যবসায়ী ও শিল্পোদ্যোক্তারা সর্বক্ষণ ভয়-শঙ্কায় থাকেন, কখন কী হয়। তাই নতুন বিনিয়োগে ভরসা পান না। সরকারি-বেসরকারি ব্যাংকগুলোতে প্রচুর অর্থ জমা আছে, কিন্তু কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় উদ্যোক্তা মিলছে না। দু-চার মাসের মধ্যেই সাধারণ নির্বাচন হওয়ার কথা। সেখানেও অনিশ্চয়তা। নীতিগত ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে তো? নতুন সরকারে যারাই আসুক, ব্যবসাবান্ধব হবে তো? এমনি নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে ব্যবসায় অঙ্গনে। বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরাম নিয়মিতভাবে বিশ্ব প্রতিযোগিতা সক্ষমতা প্রতিবেদন প্রকাশ করে থাকে।

 

গত সোমবার ২০১৩’র প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ বা সিপিডি। জরিপের জন্য গত বছরের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়কে বেছে নেয়া হয়েছিলো। এতে অংশ নিয়েছিলেন বাংলাদেশেরই ৭১ জন ব্যবসায়ী। দেশে-বিদেশে ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে যারা জড়িত, তারাই মত দিয়েছেন ব্যবসায়ের পরিবেশ বিষয়ে। তারা বলছেন, আলোচ্য বছরটিতে সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা সূচকে বাংলাদেশের অগ্রগতি ঘটেছে ২১ এবং অবকাঠামো ও বাজারের আকার সূচকে দু ধাপ। সার্বিকভাবে প্রতিযোগিতা সূচকে অগ্রগতি আট ধাপ। এটাও মনে রাখতে হবে যে, বিশ্বব্যাংক ও জাতিসংঘ বারবার বলছে, বাংলাদেশ শিক্ষাসহ সামাজিক কিছু সূচকে উন্নয়নশীল দেশগুলোর তুলনায় যথেষ্ট ভালো করছে। এই দু মানদণ্ড বিবেচনায় নিয়ে আমরা আশাবাদী হতেই পারি। কিন্তু মনে রাখা চাই, বড় ধরনের উল্লম্ফন কোথাও ঘটেনি। ৭-৮ বছরের মধ্যে মধ্য আয়ের দেশে যেতে হলে অবশ্যই দ্রুততর গতিতে চলতে হবে। এজন্য কী করণীয়, সেটাও ব্যবসায়ীরা জরিপে বলে দিয়েছেন। তাদের বিবেচনায় বড় সমস্যা দুর্নীতি। জরিপে ব্যবসায়ীরা ব্যবসার ক্ষেত্রে ১৬টি বড় সমস্যার মধ্যে এক নম্বরে রেখেছেন দুর্নীতিকে। বর্তমান সরকারের জন্য এ খবর অস্বস্তির যে গত পাঁচ বছরের মধ্যে এবারে ফের ব্যবসায়ীরা দুর্নীতিকে এক নম্বর সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। সরকারের ভাবমূর্তির জন্য এ অভিমত সুখকর নয়। আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও এর নেতিবাচক বার্তা যাবে।

 

আমাদের আশপাশের দেশগুলোসহ অনেক উন্নয়নশীল দেশ সামষ্টিক অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে হিমসিম খাচ্ছে। সেখানে বাংলাদেশ বেশ কিছুটা এগিয়ে রয়েছে। অবকাঠামো খাতে অগ্রগতির মূলে যে বিদ্যুত পরিস্থিতির উন্নতি, সেটা নিয়ে দ্বিমত কম। অর্থনীতিতে ভালো করার জন্য এ দুটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু দেশে দুর্নীতি বৃদ্ধি পেলে বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত হয়, এটাই অভিজ্ঞতা। ব্যবসায়ীরা আরও কিছু বড় সমস্যা চিহ্নিত করেছেন। যেমন- নীতির ধারাবাহিকতা না থাকা, বিনিয়োগের জন্য অর্থ না পাওয়া, রাজনৈতিক অস্থিরতা, শিক্ষিত ও দক্ষ কর্মীর অভাব, কর ব্যবস্থার জটিলতা, অপরাধ, উদ্ভাবনী দক্ষতার অভাব, শ্রমআইনের সীমাবদ্ধতা ইত্যাদি। অবকাঠামোর ক্ষেত্রেও যথেষ্ট সমস্যা রয়ে গেছে। এসব সমস্যা সমাধানে সরকারের ভূমিকা মুখ্য, সেটা সবাই স্বীকার করবেন। যারা ক্ষমতায় রয়েছেন, তারা পাঁচ বছর আগে এ ধরনের সমস্যাগুলো দূর করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। নির্বাচনী বছরে তারাসহ অন্যরাও ফের প্রতিশ্রুতি দেবেন, এটা স্বাভাবিক। এক্ষেত্রে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত সবার কেবল একটিই প্রত্যাশা থাকবে- শূন্যগর্ভ কোনো কিছুই চাই না। আমাদের প্রিয় স্বদেশ আর্থসামাজিক ক্ষেত্রে অনেক দ্রুত এগিয়ে যেতে পারে, এমন সম্ভাবনার কথাই দেশ-বিদেশের অনেক বিশেষজ্ঞ ও পণ্ডিত বলছেন। এখন চাই তার বাস্তবায়নে সময়োপযোগী ও যথাযথ পদক্ষেপ।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *