নিয়ম ভাঙা তথা অন্যায় করা বাহাদুরি নয়, লজ্জার

 

খেলায় জয় পরাজয় থাকবেই। জয়লাভ তথা বিয়জয়ের লক্ষ্য অর্জনের জন্য দরকার চর্চা। সেই চর্চায় ঘাটতি রেখে খেলতে গেলে সে যে খেলায় হোক বিজয়ের হাসি আসে না। প্রতিযোগিতা মূলত প্রস্তুত করতে শেখায়। খেলার মান বৃদ্ধিতে সহায়ক হয়। খেলোয়াড় সৃষ্টি হয়। আর সে জন্যই তো মাধ্যমিক বিদ্যালয় পর্যায়ে ক্রিড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন। এ আয়োজনে যখন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে, যখন খেলোয়াড় সুলভ আচরণের বদলে হিংসাত্মক মানসিকতার বহির্প্রকাশ পরিলক্ষিত হয় তখন হতাশা ভর করে। গতপরশু আন্তঃস্কুল ফুটবল প্রতিযোগিতায় যে ঘটনা ঘটেছে তা শুধু অপ্রত্যাশিতই নয়, লজ্জার। এরূপ ঘটনার পুর্নাবৃত্তি কাম্য নয়। সে কারণেই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ প্রয়োজন।

 

জনসংখ্যা চক্রবৃদ্ধির কুপ্রভাবে গ্রাস করছে ফসলি জমি, বনবাদাড়। খেলাধুলার মাঠও হ্রাস পাচ্ছে। কম্পিউটার আর টেলিভিশনই হয়ে উঠছে শিক্ষার্থীদের অন্যতম বিনোদনের ক্ষেত্র। এতে নানা সমস্যা দেখা দিচ্ছে। শুধু স্থলাতাই নয়, প্রজন্মের স্বাভাবিক বেড়ে ওঠার ক্ষেত্রে সমস্যা পদে পদে পরিলক্ষিত হচ্ছে। তাছাড়া গ্রামে ও শহরে আগের মতো খেলাধুলার তেমন প্রতিযোগিতারও আয়োজন হয় না। এজন্য দায়ী দক্ষ আয়োজক তথা উদ্যোগতাসহ পরিচালনায় নিরপেক্ষতা এবং পরাজয় মেনে নিতে না পারার মতো হীনমানসিকতা। এর প্রভাব যদি অবশিষ্ট আয়োজনেও পড়ে তাহলে যে খেলাধুলার ন্যূন্যতম আয়োজনও আর থাকবে না তা সহজেই অনুমান করা যায়। অবশ্যই আন্তঃস্কুল ক্রিড়া প্রতিযোগিতার ধারা অব্যাহত রাখতে হবে। আর এজন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়িত্বপ্রাপ্তদেরই অধিক দায়িত্বশীল হতে হবে। আয়োজকদের সতর্কতা অবলম্বনের পাশাপাশি খেলোয়াড়দের খেলোয়াড় সুলভ আচরণে বাধ্যবাধকতা রাখতে হবে। আর মাঠের দর্শক? দর্শক না থাকলে প্রতিযোগিতা তেমন জমে না। দর্শকরা অনেক ক্ষেত্রেই ভালো খেলার উৎসাহ জোগায়। আবার অনেক ক্ষেত্রে দর্শকদের মধ্যে কিছু সমর্থক পরাজয় মেনে নিতে না পেরে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটিয়ে আয়োজনের গায়ে কলঙ্ক লেপন করে। যা পরবর্তীতে আরও সুন্দর আয়োজনে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়।

 

আর যাই হোক আন্তঃস্কুল ক্রিড়া প্রতিযোগিতা এরকম পরিস্থিতির দিকে এগিয়ে যাক তা কারোরই কাম্য নয়। এরপরও দায়িত্বশীলতা এবং বাড়তি সতর্কতার কখনো কখনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে যায়। হুট করে ঘটলেও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনাকেই খাটো করে দেখা উচিত নয়। একটি অন্যায়, ছোট্ট একটি অপরাধ করেও যদি কারো প্রশ্রয়ে পার পেয়ে যায় তাহলে তার মধ্যে অন্যায় বা অপরাধ প্রবণতা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কাই বেশি থাকে। ফলে ন্যূন্যতম হলেও অন্তত বোঝানো দরকার, অন্যায় কোনো সচেতন মানুষ মেনে নেয় না। নিয়ম ভাঙা তথা অন্যায় করা বাহাদুরি বা প্রংসার কিছু নয়, ওটা লজ্জার। বিষয়টি বোঝানোর দায়িত্ব শুধু বিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট শিক্ষকেরই নয়, অভিভাবকসহ সমাজের সচেতনমহলেরও। দূর হোক হিংসা।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *