নিশ্চিত করতে হবে মানসম্মত অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস

 

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে একটি অ্যাম্বুলেন্স রোগীসহ চারজনকে চাপা দিয়ে মারে। ঘটনাটি ঘটে গত শনিবার। এরপর থেকে অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসকে কেন্দ্র করে একে একে বেরিয়ে আসছে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। চুয়াডাঙ্গাতেও অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে অর্থবাণিজ্যের তথ্য বেরিয়ে এসেছে। ব্যক্তি মালিকানাধীন অ্যাম্বুলেন্সের বৈধতা না থাকলেও হরহামেশাই ঘুরছে, প্রকাশ্যেই বহন করা হচ্ছে রোগী।

গত শনিবার ঢাক মেডিকেল কলেজ ঢামেকের সামনে হন্তারক অ্যাম্বুলেন্সটির মালিক ওই হাসপাতালের এক ওয়ার্ডবয়। সে এখন পলাতক। দুর্ঘটনার সময় গাড়িটি চালাচ্ছিলো তার সহকারী, যে এখন পুলিশ হেফাজতে। গাড়িটির রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হয়েছিলো সিলেটে। তদুপরি এটির প্রকৃত তথা আসল অ্যাম্বুলেন্স নয়। অ্যাম্বুলেন্সটি তৈরি করা হয়েছে মাইক্রোবাস কেটে। রাজধানীতে চলমান এবং সারাদেশেও বটে, অধিকাংশ অ্যাম্বুলেন্সই নাকি আসলে মাইক্রোবাস কেটে তৈরি করা। চাঞ্চল্যকর ও শিউরে ওঠার মতো এই তথ্য পাওয়া গেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ বিআরটিএ’র দায়িত্বশীল সূত্রে।

চুয়াডাঙ্গায় সরকারি স্বাস্থ্য বিভাগ মাত্র তিনটি অ্যাম্বুলেন্স দিয়ে কাজ সারছে। বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সের সংখ্যা ডজনেরও বেশি। অবাক হলেও সত্য যে মাইক্রোবাস কেটে অ্যাম্বুলেন্স তৈরি করে অর্থবাণিজ্য করা ব্যক্তিরা স্বাস্থ্যবিভাগেরই কেউ না কেউ। এদের অ্যাম্বুলেন্সের একটিও মান সম্পন্ন নয়। একটি মানসম্মত অ্যাম্বুলেন্সে স্ট্রেচার, সাইরেন, জরুরি চিকিৎসা সরঞ্জাম, সচল অক্সিজেন মাস্ক, সিলিন্ডার, রোগীর স্থায়ী শয্যা ও চিকিৎসক বসার ব্যবস্থা থাকতে হবে। বছরের পর বছর ধরে একেবারে ফ্রি-স্টাইলে যথেচ্ছ ব্যবসা করে আসছে এসব অ্যাম্বুলেন্স। আর এদের কাছে একেবারে অসহায়, প্রায় জিম্মি হয়ে আছেন অগণিত রোগী ও আত্মীয়-স্বজন। অভিযোগ আছে, সরকারি অ্যাম্বুলেন্সে রোগী তুলে রওনা হওয়ার পর পথে তা কৌশলে বিকল করে ওইসব বেসরকারি ব্যক্তি মালিকানাধীন অ্যাম্বুলেন্স রোগী তুলতে বাধ্য করা হয়।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদফতর, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর, যোগাযোগ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ বিআরটিএ ও স্থানীয় পুলিশ এবং নানা প্রশাসনের নাকের ডগায় অবৈধ অ্যাম্বুলেন্স চলে কীভাবে? বিআরটিএ’র ভাষ্য, ব্যক্তি মালিকানায় অ্যাম্বুলেন্স চালানো বেআইনি। হাসপাতালে রোগী ও লাশ আনা-নেয়ার জন্য জরুরি অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস অপরিহার্য ও অত্যাবশ্যক থাকলেও দেশের প্রায় প্রতিটি জেলাতেই তা অপর্যাপ্ত ও অপ্রতুল। এই সুযোগে হাসপাতালেরই কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী মিলেমিশে নিজেরাই গড়ে তুলেছে অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস। অভিন্ন চিত্র চুয়াডাঙ্গার।

দুষ্টচক্রের সন্ধান মেলে প্রায় সব সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালের সামনেই। এমনকি ক্লিনিকেও। তবে সরকারি হাসপাতালে এর উৎপাত-উপদ্রব বেশি মূলত দুষ্টচক্র, দলবাজি ও সিন্ডিকেটের কারণে। এদের উৎখাত তথা নির্মূল করা না হলে দুর্ভোগ দূর হবে না। অনভিপ্রেত পরিবেশ-পরিস্থিতি এড়াতে বাস্তবমুখি পদক্ষেপ প্রয়োজন। দরকার বেসরকারি খাতের জন্যও উন্মুক্ত করে অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসের মানসম্মত পরিসেবা নিশ্চিত করা।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *