নিরাপদ সড়ক কালক্রমে হয়ে উঠেছে দুঃস্বপ্ন

 

কোন গাড়ি রাস্তায় চলার উপযোগী তা দেখেই ফিটনেস সনদ দেয়া হয়। দেখভালের দায়িত্ব ভিকেল ইন্সপেক্টর তথা বিআরটিএ কর্মকর্তাদের। শুধু চুয়াডাঙ্গা মেহেরপুর নয়, খোদ রাজধানীতেও অসংখ্য অনুপযোগী যানবহন চলাচল করছে। ট্রাফিক পুলিশের নাকের ডগায় এসব যানবহন চালান অস্বীকৃতিপ্রাপ্ত চালক। বিআরটিএ’র কর্তাদের অনেকেই যানবহন না দেখেই কীভাবে ফিটনেস দেন? প্রভাব। অর্থ আর তদবির?

 

ভারী যানবহনের চালক সনদ প্রদানের আজব এক বিধি চালু আমাদের দেশে। পরীক্ষার চেয়ে শ্রমিক ইউনিয়নের সুপারিশেই চালক সনদ দেয়া হয়। এ বিধি নিয়ে মাঝে মাঝে প্রশ্ন উঠলেও সুধরে নেয়ার মতো সাহস কোনো সরকারই তো দেখায় না, দেখাচ্ছে না। ঠিক একইভাবে দেশে দেদারছে বিদেশ থেকে সড়কে চলাচালের অনুপযোগী যানবহন আমদানি করা হচ্ছে। যেসব যানবহনের হেডলাইট এবং অতো ক্ষমতার মোটরসাইকেল আদৌ প্রয়োজন কি-না তা ক্ষতিয়ে দেখা হয় না। আনা হচ্ছে, বিক্রি চলছে। সড়কে দেদারছে চলছে। সৃষ্টি হচ্ছে চরম বিশৃঙ্খলা। এছাড়া সড়কে অবৈধযানের ছড়াছড়ি তো আছেই। অবস্থাদৃষ্টে কোনোভাবেই বিশ্বাস করার জো নেই, যে দেশে আইন আছে, সেই আইন প্রয়োগের জন্য দেশের সাধারণ জনগণ টাকা দিয়ে লোকবল রেখেছে। বেতনও নিচ্ছে, আবার অন্যায়ের সাথে আপস করে কাড়ি কাড়ি টাকার মালিক হচ্ছেন, নামে-বেনামে সম্পদ গড়ছেন। এরপরও তাদের মুখোশ খুলছে না। খোলে না। ফলে যা হওয়ার তাই হচ্ছে। তাছাড়া শহরে অসংখ্য মোটরসাইকেল দেদারছে চলছে যার রেজিস্ট্রেশন করা হয়নি। আর তাদের ক’জনেরই আর ড্রাইভিং লাইসেন্স আছে? অবশ্য মাঝে মাঝে সড়কে মোটরযান অধ্যাদেশের আওতায় অভিযান চালানো হয়। সেই অভিযানের আওতায় যখন শ্যালোইঞ্জিনচালিত অবৈধযান পড়ে না, তখন আইন প্রয়োগটি প্রশ্নমুখে পড়ে। প্রশ্নটি অবশ্য অস্বাভাবিক নয়। কারো জন্য আইন, কারো জন্য দরদী দৃস্টি থাকলে আস্তাহীনতা বৃদ্ধি পায়। পাচ্ছেও।

 

কোন ধরনের যানবহন দেশে আনা হচ্ছে তার বিস্তারিত তথ্য দিয়েই অনুমোদন নিতে হয়। তারপর বর্ণনা অনুযায়ী আমদানি করা হলো নাকি অন্যরকম কিছু এলো তা দেখারও দায়িত্বে বড় বড় কর্তা নিযুক্ত। আমদানিতে অনুমোদন এবং প্রবেশের ছাড়পত্র দাতারা নিশ্চয় অন্ধ থাকন তা না হলে যানহনের প্রধান লাইটটি তীব্র আলোর হয় কীভাবে? পূর্বের আমদানিকৃত যানবহনের লাইটের বাল্বের ওপর একটি আবরণ থাকতো। সেই আবরণ কি এখন লাগানো থাকে? কেন থাকে না। সেটা কি সরকার আইন করে নিষিদ্ধ করেছে? এরকম অসংখ্য প্রশ্ন আছে যার জবাব মেলে না। তবে কর্তাদের কুম্ভঘুমের আড়ালের কারণ কিন্তু সচেতনমহলের অজানা নয়। অবশ্যই সমাজে সচেতন মানুষ আছে, আছে ভালো ও দায়িত্বশীল কর্তাও। সচেতনমহলের শানিত দৃষ্টিতে পড়েছে আর নীতিবান কর্মকর্তাদের উৎসাহে পড়েছে ভাটা। কারণ বলেও যখন কিছু হয় না, দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়ে অনেক সময়ই যখন উল্টো হয়রানির শিকার হতে হয় তখন যা হওয়ার তাই হচ্ছে। সচেতনমহল উচ্চবাচ্য করছে না, নীতিবান কর্মকর্তারাও গড্ডালিকায় গা ভাসাচ্ছেন। স্রোতে গা ভাসানোর কারণেই যে দেশের সড়ক ঝুঁকিপূর্ণ তা দায়িত্বশীলরা নিশ্চয় অস্বীকার করবেন না।

 

সড়ক নিরাপদ করতে হবে। কখনো কখনো নয়, সব সময়ই আইনের সমান ও নিরপেক্ষ প্রয়োগের বিকল্প নেই। তাছাড়া যেখানে যে কর্তা যে দায়িত্বে নিয়োজিত তার কর্মকাণ্ড দেখভালের এবং তার জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা দরকার। জবাব নেয়া কর্তাও যদি নীতির চেয়ে অন্যকিছু পছন্দ করেন তাহলে তো অনিময়ম বৃদ্ধি পাবেই। হচ্ছেও তাই। ফলে ডানে-বামে-ওপরে-নিচে শুধুই হতাশা।

Leave a comment

Your email address will not be published.