নিজের তো নেই-ই, ঘরের বধূও নিরাপত্তাহীন!

নয় দশটি পরিবারের সবক’টিই দরিদ্র। গ্রামের ঘনবসতি ছেড়ে একটু দূরে ওরা বসবাস শুরু করে। এ জনবসতির নাম হয় ফুলবাড়ি মাঠপাড়া। চুয়াডাঙ্গা জেলা সদরের শঙ্করচন্দ্র ইউনিয়নের এ গ্রামটিতে গত শুক্রবার রাতে একদল দুষ্কৃতী হানা দেয়। অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে নগদ টাকা, মূল্যবান মালামাল ডাকাতি করে। এক নববধূকে অস্ত্রের মুখে অপহরণ করে নিয়ে যায় পার্শ্ববর্তী কেরুজ আখের মাঠে। ডাকাতির শিকার পরিবারগুলোর সদস্যদের চিৎকারে পার্শ্ববর্তী তিতুদহের বড়শলুয়া গ্রামের লোকজন এগিয়ে আসে। ফুলবাড়ি মাঠপাড়ার লোকজনও অপহৃত বধূকে উদ্ধারে খোঁজাখুঁজি শুরু করে। এক পর্যায়ে মাঠ থেকে অপহৃতাকে উদ্ধার করা হয়। পরদিন ফুলবাড়ি মাঠপাড়ার বাসিন্দারা ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের উদ্দেশে বের হয়। তারা প্রশ্ন তুলে বলে, কোন ভরসায় এখানে আমরা থাকবো? সত্যিই তো, নিজের তো নেইই, ঘরের বধূও নিরাপত্তাহীন।

 

ডাকাতি হলো, ডাকাতরা বধূকে অপহরণ করলো। এরপর কোন সাহসে ওই মাঠপাড়ার বাসিন্দারা সেখানে বসবাস করবে? সাহস পেতো, যদি ঘটনার পরপরই পুলিশ অপরাধীদের ধরে উপযুক্ত শাস্তির লক্ষ্যে আইনে সোপর্দ করতে পারতো। পুলিশ সেই সক্ষমতা দেখাতে পারেনি। নিরাপত্তাহীনতা চরম আতঙ্কগ্রস্ত করে তোলার কারণেই ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের দিকে ছুটেছে। অবাক হলেও সত্য যে, ঘটনার দুদিন তিন রাত অতিবাহিত হলেও পুলিশের তরফে তেমন কাউকে গ্রেফতারের খবর দিতে পারেনি। মামলাটিও কি যথাযথভাবে রেকর্ড করা হয়েছে? স্থানীয় কিছু বিপথগামী হানা দিয়েছিলো, বধূকে ধরে নিয়ে গিয়েছিলো, স্থানীয়রাই উদ্ধার করে ফেলেছে। এসব উক্তি আওড়ে কি দায় এড়ানো যায়? অবশ্যই না। এক সময় চুয়াডাঙ্গার জনপদ রক্তাক্ত ছিলো। সন্ত্রাস কবলিত হওয়ার অপবাদ নিয়ে এলাকাবাসীকে চলতে হয়েছে। সেই অবস্থা থেকে এলাকামুক্ত হয়েছে। সন্ত্রাস কবলিত কলঙ্ক সবে মুছতে শুরু করেছে। এর কৃতিত্ব অবশ্যই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাসমূহেরই। এরই মাঝে ঘটলো ফুলবাড়ি মাঠপাড়ায় গুরুতর অপরাধমূলক ঘটনা। কোনোভাবেই এ ঘটনাকে খাটো করে দেখা উচিত নয়। কোনো অজুহাতে ঘটনা ভিন্নখাতে প্রবাহিত হলে অপরাধীচক্রকে আরো বেপরোয়া করে তুলবে। আবারও সেই সন্ত্রাসকবলিত শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশ হয়ে উঠবে। এলাকাবাসী সেই অবস্থায় ফিরতে চায় না। চায়, পুলিশকে সহযোগিতা করে নিজ নিজ এলাকা নিরাপদ রাখতে। এখন বড় প্রশ্ন- সহযোগিতা নেয়ার মতো বিশ্বাসযোগ্যতা, নির্ভলশীলতা যদি হারায় বা না থাকে?

 

অবশ্যই পুলিশ নিরাপত্তার প্রতীক। নিরাপদ আশ্রয়স্থল। জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্যই পুলিশবাহিনী গঠন, পুলিশে নিয়োগ। চুয়াডাঙ্গা জেলা সদরের ফুলবাড়ি মাঠপাড়ায় যে ঘটনা ঘটেছে তা পুলিশে অপ্রতুলতার কারণে ঘটেছে বলে যদি দাবি করা হয়, তা হলে ঘটনার পর অপরাধীদের ধরে আইনে সোপর্দ করার মতো সক্ষমতা কেন পুলিশ দেখাতে পারছে না? সঙ্ঘবদ্ধ অস্ত্রধারীরা যে অপকর্ম করেছে তার উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করতে না পারলে অভিন্ন অপরাধের মাত্রা সমাজে বেড়ে যাবে। সাধারণ মানুষ কখনো রুখবে, কখনো মরবে, কখনো অসহায়ের মতোই মেনে নিতে হবে। এরকম অসহায়ত্ব বরণ করুক, অপরাধীরা একের পর এক অপরাধ করার পরও পুলিশ কী নীরবই থাকবে? কর্মকর্তারা দয়া করে দৃষ্টি দিন। এলাকাবাসী প্রকৃত দোষী তথা অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেখতে চায়। যে শাস্তি দেখে এলাকা হবে অপরাধমুক্ত।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *