নদ-নদী বেদখলের রকমারি আয়োজন এবং প্রশাসন

ভৈরব ভরবছর জুড়েই থাকে বেদখলে। চিত্রার জমি চোরের উৎপাতে চিরতরে বিলীন। মেহেরপুরের কাজলা? তারও অস্তিত্ব পাওয়া কঠিন। মাথাভাঙ্গার উৎসমুখ বন্ধ হলেও নিজস্ব ঝরণাধারায় ধীরে হলেও বয়ে চলেছে। ওরও বাঁকে বাঁকে বাঁধ দিয়ে স্রোতধারা থামিয়ে শ্বাসরোধ করে মারার মতোই অপতৎপরতায় ব্যস্ত কিছু নামধারী মৎস্যজীবী। আর কুমার নদ? ওর পাড়েই শুধু নয়, বুকেও বড় বড় বাঁধ দিয়ে পুকুর বানিয়ে ব্যক্তি মালিকানার মতো ভোগদখলের মহোৎসব চলছে বহুদিন ধরে। সরকারি এসব সম্পদ সম্পত্তি জনস্বার্থে দেখার দায়িত্ব কার? অবশ্যই প্রশাসনের। যা জনগণেরই দেয়া অর্থে পরিচালিত।
চুয়াডাঙ্গা দেশের বিচ্ছিন্ন কোনো অংশ নয়। চুয়াডাঙ্গাতেও রয়েছে প্রশাসন। প্রশাসনের শীর্ষকর্তা ইতোমধ্যেই তড়িৎ কর্মা হিসেবেই শুধু নন, তিনি বিচক্ষণতারও স্বাক্ষর রেখেছেন। তা হলে নদ-নদী, খাল-বিল চুরি হচ্ছে কীভাবে? মাঠপর্যায়ে কর্মকর্তাদের রহস্যজনক নীরবতা? নাকি কুম্ভকর্ণঘুমের কারণে জেলার শীর্ষ কর্তার দৃষ্টিগোচর হচ্ছে না? যে নদ-নদী না থাকলে তামাম এলাকা শুধু মরুভূমিই হবে না, বর্ষায় সামান্য বৃষ্টিতে আবাদি জমি জলমগ্ন হয়ে বিপন্ন করবে আবাদ-ফসল। তা হলে ওই নদ-নদীর তীর বা বুক লিজ কেন? কি বলে লিজ নিয়ে কোন কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে না কেন? তাছাড়া কার স্বার্থে কিসের স্বার্থে লিজ দিয়ে বিস্তৃর্ণ আবাদি জমির সর্বনাশ ডেকে আনা হচ্ছে? সর্বক্ষেত্রেই যে লিজ তাও নয়, প্রভাবশালীরা লিজের কথা বলে জলজ্যান্ত নদ-নদীর বুকে বাঁধ দিয়ে পুকুরে রূপান্তর করে ব্যক্তিগতভাবে চাষ করা হচ্ছে মাছ। ঘাটতি পূরণের জন্য মাছের আবাদ দরকার, তাই বলে বৃহত্তর স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে? চুয়াডাঙ্গা জেলা শহরের একপ্রান্ত দিয়ে এক সময় বয়ে যাওয়া নবগঙ্গা খালটিতো বহু আগেই বেদখলে। প্রকাশ্যেই ওর বুকে গড়ে তোলা হচ্ছে অট্টোলিকা। খাল-বিল? ওসবেরও আয়তন আস্তে আস্তে খাটো হয়ে আসছে।
জিকে ক্যানালের পানি সেচ কাজে যথাযথভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে না। কৌশলে ওই পানিও হচ্ছে চুরি। ফলে আলমডাঙ্গার বিশাল এলাকার জমিতে আবাদ হুমকির মুখে। একই এলাকার কুমার নদটি দীর্ঘদিন ধরেই নানাভাবে বেদখলে মেতে উঠেছে একশ্রেণির প্রভাবশালীমহল। চিত্রা তো সেই কবে থেকেই ভূমিদস্যূদের কবলে। ভৈরবের বেহাল দশা। মাথাভাঙ্গা নিজস্ব উৎসের জল নিয়ে ধীরে বাইলেও কোমরসহ বড় বড় বাঁধ দিয়ে ডেকে আনা হচ্ছে সর্বনাশ। অথচ প্রশাসনের মূল কয়েকটি দায়িত্বের মধ্যে এসব রক্ষা অন্যতম। উদাসীনতা চুয়ডাঙ্গাসহ গোটা এলাকার জন্য বয়ে আনবে করুণদশা।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *