ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত এবং ধর্মীয় সন্ত্রাস

 

ধর্ম শান্তির পথে আহ্বান করে, ধর্ম হিংসাও ছড়ায়। ধর্মীয় অনুশাসন সুপথে রাখতে সহায়তা করে। ধর্মান্ধতা হিংস্রও করে তোলে। তা না হলে ফ্রান্সের সাপ্তাহিক কার্টুন নির্ভর পত্রিকায় হামলা কেন? একটি ধর্মের প্রবর্তক বা মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর বার্তাবাহককে নিয়ে আপত্তিকর কার্টুনই বা কেন?

আপত্তিকর কার্টুন প্রকাশে ক্ষুব্ধ হয়ে যারা নৃশংস হামলা চালিয়েছে তারা যেমন ইসলামধর্মাবলম্বী সকলের প্রতিনিধি নন, তেমনই ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের মহামানব তথা মহানবীকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ কার্টুন প্রকাশ অন্য ধর্মাবলম্বী সকলের সম্মিলিত ইচ্ছের প্রতিফলন হতে পারে না। তাহলে সংঘাত কেন? কেন হিংসার নগ্নবহির্প্রকাশ? তবে কি উসকে উশৃঙ্খল করার গভীর ষড়যন্ত্র? সভ্যতার এতোদিন পর ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি বা ষড়যন্ত্র বিশ্ববাসীকে ঐক্যবদ্ধ করার বদলে বিভক্তির আবাদকে অধিক ফলনশীল করে তুলছে। তুলেছে।

মধ্যপ্র্রাচ্যে পশ্চিমা বাতাসকে গণতন্ত্রের বসন্ত বলা হলেও মিসরসহ কয়েকটি দেশের রাজনৈতিক দশা দীর্ঘশ্বাসের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরাইলি অস্ত্রের অপব্যবহার মধ্যযুগীয় বর্বরতাকেও মাঝে মধ্যেই হার মানাচ্ছে। ইসলামিক স্টেটের নামে যুদ্ধের খোলস খসে পড়তেই চরম অদূরদর্শিতারই প্রমাণ মিলতে শুরু করেছে। আল-কায়েদাসহ নানা নামে জেহাদি সংগঠনগুলো বিশ্বে ধর্মীয় সন্ত্রাস হিসেবে চিহ্নিত। যদিও তাদের তরফে উল্টোটাই দাবি করা হয়। তালেবান? পক্ষে-বিপক্ষে যতো যুক্তিই থাক, পাকিস্তানের স্কুলে হামলা চালিয়ে অতোগুলো শিশুর প্রাণ ঝরানো তথা বর্বরতা নিশ্চয় ইসলামের শিক্ষা নয়। আমাদের দেশেও জেএমবিসহ কিছু নামে ধর্মীয় যে জঙ্গি অপতৎপরতার প্রকাশ ঘটে তাও কি ইসলাম সমর্থন যোগ্য?

ধর্ম নিয়ে যেমন বাড়াবাড়ি কাম্য নয়, তেমনই কোনো ধর্মকেই কটাক্ষ করে কোনো গোষ্ঠীর কাছে সস্তা বাহবা নেয়ার প্রয়াসকে গণতান্ত্রিক অধিকার বলে দাবি করা যায় না। কেননা, স্বাধীনতার পরিধি ওই পর্যন্ত, যে পর্যন্ত অন্যের অধিকার অক্ষুণ্ণ থাকে। তাহলে কার্টুনে অন্যের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়ার অধিকারকে কীভাবে গণতান্ত্রিক অধিকার বলে দাবি করা যায়? সে দেশের প্রচলিত আইন ওটাকে বাক-স্বাধীনতা হিসেবে সমর্থন করলেও কোনো ধর্মাবলম্বীরই ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার সুযোগ রাখা ঠিক নয়। কেননা, ধর্মীয় অনুশাসনই পূর্বের দিনগুলোতে মানুষগুলোকে সুপথে রাখতে সহায়ক হয়েছে। বদলানোর জন্য বেহায়াপনার বদলে প্রগতির উদারতা কি অধিক ফলদায়ক নয়?

কটাক্ষ করে আপত্তিকর কার্টুন প্রকাশের পর হামলার শিকার হয়ে সন্ত্রাসবাদকে চ্যালেঞ্জ ঘোষণা করে সেই একই কায়দায় ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত সম্প্রীতির শিক্ষা নয়। পক্ষান্তরে ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের কি অশান্তির পথে মানায়? যে ধর্ম শান্তির পথে আহ্বান করে সেই ধর্মাবলম্বীদের সহনশীলতার শিক্ষা তাহলে কোথায়?

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *