দীর্ঘদিন ধরে ভয়ানক হয়ে ওঠা ওদের নৃশংসতা রুখতে যাবে কে

দৃশ্যটা কতোটা ভয়ানক তার বর্ণনা শুনেই গা শিউরে ওঠে। ছেলে-মেয়েদের মেরে দূরে সরিয়ে পিতাকে প্রকাশ্যে রশি দিয়ে বেঁধে একটি বাড়িতে নিয়ে নির্মমভাবে নির্যাতনই শুধু নয়, মাথায় শাবাল গেঁথে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। যে বা যারা এরকম নৃশংসতা চালাতে পারে তার বা তাদের পশুত্বের প্রকাশ এটাই যে প্রথম নয় তা সহজেই অনুমান করা যায়। একের পর এক অপরাধ করে পার পাওয়ার কারণেই প্রকাশ্যে নৃশংসভাবে একজনকে খুন করতেও বুক কাপেনি ওদের। খুনের পরও যদি পার পায়?
চুয়াডাঙ্গা জেলা সদরের গাড়াবাড়িয়া গ্রামের একজন হতদরিদ্র ব্যক্তির সাথে অর্থশালী পরিবারের জমি নিয়ে বিরোধ। সেই বিরোধের জের ধরে গতপরশু শনিবার দুপুরে প্রাপ্ত বয়সের ৩ সন্তানের সামনেই নৃশংসতা চালিয়েছে প্রভাবশালী পরিবারের কিছু সদস্যসহ তাদের লোকজন। দীর্ঘ সময় ধরে নৃশংসতা চালিয়ে হত্যার পর সঙ্গত প্রশ্নের জবাব খুঁজতে গিয়ে গ্রামের সাধারণ মানুষ যা বলেছে তা চোখ কপালে ওঠার মতোই। জমিজমা নিয়ে শুধু ওই হতদরিদ্র আশরাফ উদ্দীনের সাথেই প্রভাবশালী ইকরামুল হক ইকরা গঙের বিরোধ নেই। গ্রামের অনেকের সাথেই জমি নিয়ে বিরোধ ওই প্রভাবশালীদের। শুধু ওদের সাথেই গ্রামের অতো মানুষের জমি নিয়ে বিরোধ কেন? যাদের সাথে বিরোধ তাদেরকেই হুমকি ধামকি দিয়ে, তুলে নিয়ে মেরে রক্তাক্ত জখমের পর জখম করেও কেনো পার পেয়েছে?
ইকরামুল হক ইকরা দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপির অঙ্গ সংগঠন যুবদলের নেতা বলে দাবি করলেও তার মেলামেশা মূলত ক্ষমতাসীনদলের কোনো কোনো নেতার সাথে। পুলিশের কিছু সদস্যের সাথেও তার সক্ষ্যতা। এসব দেখেই অনেকেরই ধারণা অর্থশালী পরিবারের ওই সদস্যের বিরুদ্ধে নালিশ করে লাভ হবে না। কেউ মুখ খুললে তাকেই যখন রক্তাক্ত হতে হয়, পুলিশে অভিযোগ করেও প্রতিকার মেলে না। তখন প্রকাশ্যে নৃশংসভাবে খুন প্রতিরেধে এগিয়ে যাবে কে? কেউ এগিয়েই শুধু যায়নি, যখন রক্তাক্ত মৃতপ্রায় পিতার মুখে শেষবারের মতো একফোটা পানি তুলে দেয়ার জন্য পানি পানি বলে চিৎকার করেছে তখনও পানিটুকুও এগিয়ে দেয়নি। রাস্তার ইজিবাইকেও তুলতে সাহস পায়নি রক্তাক্ত ব্যক্তিকে। জেলা শহরের উপকণ্ঠের একটি গ্রামের এ দৃশ্য কিসের সাক্ষ্য দেয়?
জমিজমা নিয়ে অনেকের সাথে বিরোধে জড়িয়ে কিম্বা অন্য কোনো উদ্দেশে আধিপত্য বিস্তারের বীজবোপনের শুরুতেই শক্ত হাতে প্রতিরোধ করতে না পারলে তার চরমমূল্য অনিবার্য হয়ে ওঠে। চুয়াডাঙ্গা জেলা শহরের অদূরবর্তী গাড়াবাড়িয়া গ্রামের প্রভাবশালী পরিবারের কয়েক সদস্যের ঔদ্ধত্য আচরণ, একের পর এক অপরাধমূলক ঘটনা তারই উদাহরণ। প্রকাশ্যে একজনকে যেভাবে হত্যা করা হয়েছে তা কোনোভাবে মেনে নেয়া যায় না। দ্রুত গ্রেফতারসহ প্রকৃত অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরি।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *