দায় এড়ানো উক্তি আওড়ে ঘুরে ঘুমোলে সমস্যা বাড়ে

বিশ্বের কোনো সভ্য দেশে রাস্তার ওপর হাট বসে না, সড়কে অতো গতিরোধকও নেই- যতো গতিরোধক আমাদের দেশে। রাস্তার দু’ধারে এমনভাবে হাট বসানো হয়, যে রাস্তায় চলাচল অসম্ভব হয়ে ওঠে। উদাস পথচারীর কারণে দুর্ঘটনা ঘটলেও স্থানীয়রা গতিরোধকের দাবি তোলে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে নিজেরাই গতিরোধক স্থাপনের মধ্যদিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ করে তোলে সড়ক। চুয়াডাঙ্গা-ঝিনাইদহ, ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া সড়কে অসংখ্য গতিরোধক। দুর্ঘটনা কি হ্রাস পেয়েছে? তাহলে গতিরোধক কেন? সড়কে গতিরোধক দিয়ে রাতে দুর্বৃত্তদের সুবিধা করে দিলেও প্রশাসনের সেদিকে যেমন নজর নেই। তাছাড়া গতিরোধকের সড়ক চিহ্ন না থাকায় দুর্ঘটনা বহুলাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রতিকারে না আছে স্থানীয়দের বিশেষ উদ্যোগ, না আছে সড়ক ও জনপথ বিভাগের দায়িত্বশীলতা।

 

সড়ক ঘেষে হাট-বাজার স্থাপন নতুন নয়। এর পরিণাম বুঝতে না পারাটা অবশ্যই অদূরদর্শিতা। এজন্য পূর্ব-পুরুষেরা দায়মুক্ত হতে পারেন না। তাদের অদূরদর্শিতারই খেসারত দিতে হচ্ছে বর্তমানকে। বর্তমান তা শুধরে নিতে না পারলে ভবিষ্যত কি বর্তমানকেও দোষারোপ করবে না? উপলব্ধি করেই দায়িত্বশীলদের আশু পদক্ষেপ নিতে হবে। উদাসীনতা সুন্দর সমাজ গঠনে অবশ্যই অন্তরায়। জনসংখ্যা চক্রবৃদ্ধি হারে বাড়ছে। মানুষের প্রয়োজনেই আবাদি জমি গ্রাস হচ্ছে। উজাড় হচ্ছে বন-বাদাড়। এক সময়ের ছোটখাটো হাটগুলোর দিকে বর্তমানে তাকালে জনসংখ্যা বিস্ফোরণের ভয়াবহ চিত্রের অংশবিশেষ দেখা যায়। চমকে উঠতে হয়। যেন নাক উঁচু করে মানুষগুলো খাবি খাচ্ছে। স্থান সংকুলান না হওয়ার কারণে মানুষ কেনা-বেচার পণ্য রাস্তার ওপরে নিয়ে দাঁড়ানোর জায়গা খুঁজতেই তীব্র করে তোলে ট্রাফিক জ্যাম। এর পাশাপাশি অবৈধযানের অবাধ ও এলোমেলো চালানোর হিড়িক তো আছেই। কাগজ-কলমে অবৈধ আর বাস্তবে ওই সবেরই আধিক্য। এগুলোকে সভ্যতা বলে কি? সড়ক নির্মাণ করা হয় চলাচলের জন্য। সড়কে গতিরোধক স্থাপন করা হয় কেন? দুর্ঘটনারোধে গতিহ্রাস নিশ্চয়! কিন্তু গতিরোধকই যখন দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ, দুর্বৃত্তচক্রের সুবিধা তখন কেন অতো গতিরোধক? রাজপথে গতিরোধক এমন কিছু স্থানে স্থাপন করা হয়েছে যেখানে উপসড়কের নিরাপত্তার বিষয়টিই মূখ্য, অথচ উপসড়কে গতিরোধক নেই। এসব দেখার দায়িত্ব কার? বিধি আছে, আছে প্রয়োগ কর্তাও। নেই শুধু বিধি প্রয়োগ। ফলে যা হওয়ার তাই হচ্ছে। বাড়ছে হতাশা।

 

যা হচ্ছে হয়ে যাক, গোলেমালে দিন কাটলেই হলো। ক’দিনেরই আর জীবন? এরকম দায় এড়ানো বহু উক্তি আওড়ে সমাজের দায়িত্বশীলেরা যখন ঘুরে ঘুমোন, তখন সমস্যার পাহাড় গড়ে ওঠে। তার খেসারত মূলত সমাজের সাধারণ মানুষগুলোকেই দিতে হয়। কোথায় হাট বসবে, কোথায় বসবে না তা অবশ্যই এলাকার জনপ্রতিনিধিসহ প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের এখতিয়ারভুক্ত। তাহলে রাস্তার পাশে হাট কেন? রাস্তা দখল করে হাটের কেনা-বেচা চললেও তা বন্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ লক্ষ্য করা যায় না। জনগণের সুবিধা দেখলেই শুধু হয় না, নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। সড়কের ধারের হাট স্থানান্তর অপরিহার্য। এখনই ব্যবস্থা না করা গেলে আগামীতে সমস্যা প্রকট হবে। গতিরোধকগুলোর বিষয়ে প্রশাসনের বাস্তবমুখি পদক্ষেপই কাম্য।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *