দায়িত্বশীলদের উদাসীনতা উচ্ছৃঙ্খলতাকে উসকে দেয়

দায়িত্বশীলদের উদাসীনতা উচ্ছৃঙ্খলতাকে উসকে দেয়

টিভি ইন্টারনেটের আওতায় না থাকলে ঘরে একাকী, বাইরে পদে পদে বিপত্তি। রাস্তা-ঘাটে ঠাসাঠাসি ভিড়। বন্ধুর সাথে কোনো এক নিরিবিলি স্থানে বসে কথা বলবেন? সঙ্ঘবদ্ধ বখাটেরা আপত্তিকর অভিযোগ তুলে মান-সম্মান নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে শুরু করবে। শেষে টাকা নিয়েই ছাড়বে। পুলিশও বখাটেদের কথায় কান দিয়ে উল্টো আচরণ করবে। চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের বারান্দায় দাঁড়িয়ে আত্মীয়ের সাথে কথা বললেও সম্মান হারাতে পারেন। ফলে সাবধান! কিন্তু সাবধানতাই কি এর একমাত্র সমাধান হওয়া উচিত? অবশ্যই না, দেশে প্রচলিত আইন রয়েছে, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা রয়েছে। এরপরও সমাজে কেন এতো বিশৃঙ্খলা?

 

মূল সমস্যা ওখানেই, যেখানে সকলেই সবকিছু গাসওয়া গোচের করে নেন, সেখানে কেউই আর নিরাপদ থাকেন না। আমাদের সমাজটি এখনো পুরোপুরো সেরকম না হলেও গতিপথ কিন্তু সেদিকেই। যেদিকে সমাজ এগিয়ে যাচ্ছে এটাকে সভ্যতার চূড়ান্ত পর্যায় নিশ্চয় নয়, নাকি চূড়ান্ত পর্যায় থেকে ফের অসভ্যতার দিকে ফিরতে শুরু করেছে সমাজ? জবাবটা বেশ গোলমেলে মনে হলেও মানুষ কিন্তু সবসময়ই মন্দকে পরিহার করে ভালোকে গ্রহণ করেছে। কোনো সমাজের সংস্কৃতি কখনই  শূন্য থাকেনি। নিজের সংস্কৃতি নিজেদের চাহিদা পূরণে অক্ষম হলে অপসংস্কৃতি ভর করতে বাধ্য। এক সময় অপসংস্কৃতিই হয়ে ওঠে নিজেদের চর্চায় অনিবার্য হয়ে ওঠে। উঠছেও তাই। ইন্টারনেটের বদৌলতে গোটা বিশ্ব এখন একটি গ্রামে রূপ নিয়েছে। যা খুশি তাই জানার সুযোগ হাতের মুঠোয়। যোগাযোগ মাধ্যমেও বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটেছে। এর মাধ্যমে উন্নত বিশ্বের উগ্র সংস্কৃতি নীরবেই ঢুকে পড়ছে অন্দরমহলে। যোগাযোগ মাধ্যম এতোটাই সহজ হয়ে উঠেছে যে, কোনো প্রস্তাব দিতে খুব বেশি সময় লাগছে না। ইচ্ছে হওয়ার পর চার সেকেন্ডেই পৌছে যাচ্ছে সাড়া দেয়া বা না দেয়ার মানুষটার কাছে। তাহলে কেন যোগাযোগের সুবিধা নেব না? অপসংস্কৃতি পরিহার করলেই যখন ঘরে একাকী তখন বিষণ্ণতা অনিবার্য নয়কি? এখন প্রশ্ন এর ধকল সামলাবো কীভাবে? ইন্টারনেটের নুডি ওয়েবসাইটগুলো দেশে বন্ধ করার ব্যবস্থা নেয়া জরুরি। বিদেশি কোনো কোনো টিভি চ্যানেল ক্যাবল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে প্রদর্শনের সুযোগ পাবে তারও সুনির্দিষ্ট নীতিমালা থাকতে হবে। স্থানীয়ভাবে ক্যাবল চ্যানেলের মাধ্যমে গভীর রাতে যেসব সিনেমা দেখানো হয়, যা চলানো হয় তা বন্ধ করতে হবে।

 

ঘরে বাইরে সুস্থ বিনোদনের পর্যাপ্ত সুযোগ থাকা দরকার। সুস্থধারার বিনোদন না থাকলে সমাজকে সুস্থ রাখা যায় না। নিজস্ব সংস্কৃতিচর্চায় আধুনিকায়ন যেমন থাকতে হবে, তেমনই প্রতিটি পদেই প্রয়োজন আইনের যথাযথ প্রয়োগ। স্বচ্ছতার সাথে আইন প্রয়োগ যেমন বখাটেদের উৎপাত ও আপত্তিকর অভিযোগ তুলে সম্মান নিয়ে টানাহেঁচড়ার সুযোগ পাবে না, তেমনই অপসংস্কৃতি রোধে সরকারের দায়িত্বশীল বিভাগ আন্তরিক হলে সভ্যতা অতোটা বেআব্র হবে না। সমাজকে সুন্দর রাখতে হলে যেমন দরকার সকলের মধ্যে মূল্যবোধ, তেমনই দরকার সমাজের প্রতি দায়িত্ববোধ। দায়িত্বশীলদের উদাসীনতা উচ্ছৃঙ্খলতাকে উসকে দেয়।

Leave a comment

Your email address will not be published.