তাই বলে কি এ অবস্থা চলতে থাকবে অনন্তকাল?

গ্রহণযোগ্য নির্বাচন ছাড়া দেশের অস্থিরতা যে দূর হওয়ার নয়, তা সহজেই বোধগম্য। প্রধান বিরোধীদল বিএনপি এরই মধ্যে অনির্দিষ্টকালের জন্য অবরোধ কর্মসূচি দিয়ে রেখেছে। অবরোধের মধ্যেই দু দফায় ৪৮ ঘণ্টা করে হরতাল আহ্বান করেছে। দেশের বৃহৎ দুটি রাজনৈতিক দলের ক্ষমতার মোহের কারণে জাতি চরম সংকটের দিন কাটাচ্ছে।

দীর্ঘদিন ধরে দেশে বিরাজ করছে চরম অনিশ্চয়তা। দিনের পর দিন নিরাপত্তাহীনতা ও জানমালের ক্ষতি আর কতোদিন? কতোদিন লাগাতার আন্দোলন? বস্তুত সংকট সৃষ্টি হয়েছিলো নির্বাচনকালীন সরকারের প্রধান কে হবেন- এ ইস্যুকে কেন্দ্র করে। সরকার পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর অধীনেই নির্বাচনের ব্যবস্থা করে রেখেছিলো। অপরদিকে প্রধান বিরোধীদল কোনোভাবেই তার অধীনে নির্বাচনে অংশ নেবে না বলে লাগাতর আন্দোলন চালিয়ে এসেছে। এ বিতর্ক কিংবা জটিলতার অবসান হয়নি নির্বাচনের আগের দিন পর্যন্তও। দু পক্ষকে সমঝোতায় আনার লক্ষ্যে শুধু দেশের মানুষ নয়, বিদেশিরাও কম চেষ্টা করেননি। এ চেষ্টা করেছে জাতিসংঘও। লাভ হয়নি। তাই বলে কি এ অবস্থা চলতে থাকবে অনন্তকাল? সমস্যার জট লেগেছে যেখানে, সেখানকার গেরো খুলে ফেলার সর্বাত্মক চেষ্টা নিতে হবে উভয়পক্ষকে। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। হানাহানির মধ্যদিয়ে একতরফা নির্বাচন যেমনটি হয় তেমনটিই হয়েছে। এক সময় এরশাদের হ্যাঁ-না ভোট দেখেছে দেশবাসী। বিএনপি সরকারের অধীনে ১৯৯৬ সালের নির্বাচনও দেশবাসী দেখেছে। এবার দেখলো আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকারের অধীনে ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচনের আগেই তা গ্রহণযোগত্য নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। বিদেশি পর্যবেক্ষকদের অনুপস্থিতির কারণেও এ নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে যতো দ্রুত সম্ভব একাদশ জাতীয় সাধারণ নির্বাচনের পথ সুগম করতে হবে। ইতোমধ্যে সারাদেশে যে সহিংসতা ঘটেছে, তা বিরোধীদলের ভাবমূর্তিকে কম ক্ষতিগ্রস্ত করেনি। আবার একতরফা নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতাসীনদেরও যে ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়েছে তা বলা যায় না। নির্বাচনের পর এখন জরুরি অবস্থ? সে তো চাবুক ধরে রাখা। তাতেও কি স্বস্তি মিলবে?

বলাই বাহুল্য, একাদশতম জাতীয় সংসদ নির্বাচন হতে হবে সকল দলের অংশগ্রহণে। দেশবাসী সেটাই চায়। বিরোধীদলকেও সহিংসতার পথ পরিহার করে সরকারের সাথে গণতান্ত্রিক সম্পর্ক স্থাপন করতে হবে। উভয়পক্ষের উচিত হবে এমন এক আপস ফর্মুলায় উপনীত হওয়া, যা চলমান সংকট থেকে জাতিকে উদ্ধার করতে সক্ষম হবে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *