ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবাযথাযথভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে

 

বতর্মানসময়ে প্রায় সবকিছুই প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে পড়ছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেইচিকিৎসারও আধুনিকায়ন নিশ্চিত ও সেবার মান বৃদ্ধি করতে হলে এখন প্রযুক্তিরসর্বোত্তম ব্যবহার জরুরি। যদি এর মাধ্যমে চিকিৎসাব্যবস্থা আরো বেশি সহজ ওউন্নত করা সম্ভব হয়,তবে তা বাস্তবায়ন করতে রাষ্ট্রের উদ্যোগ গ্রহণনিঃসন্দেহে ইতিবাচক।সম্প্রতি পত্রপত্রিকার প্রতিবেদনের মাধ্যমে জানা যাচ্ছে,সারাদেশের সরকারিসব হাসপাতালে চালু হচ্ছে ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম। আর একার্যক্রমের আওতায় মুঠোফোন এবং ভিডিও কনফারেনসিঙের মাধ্যমে রোগীদেরচিকিৎসাসেবা ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শ দেয়া হবে। আমরা নির্দ্বিধায়বলতে চাই, প্রয়োজন অনুযায়ী এ সুবিধা জনজীবনের জন্য ইতিবাচক প্রভাব ফেলবেএবং দেশের চিকিৎসা ক্ষেত্রের উন্নয়নে দৃষ্টান্ত হিসেবেই বিবেচিত হবে। আরযেভাবে ইতোমধ্যে কার্যক্রমগুলো বাস্তবায়নের জন্য জেলা,উপজেলা এবং ইউনিয়নপর্যায়ের সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোয় মোবাইল ফোনসেট,কম্পিউটার,ল্যাপটপএবং ওয়েব ক্যামেরা পাঠানো হচ্ছে,তার ফলে দ্রুতই এ কার্যক্রম চালু হবে বলেআশা করা যায়।

আমরা মনে করি,সরকারি সব চিকিৎসাকেন্দ্রকে ডিজিটাল কার্যক্রমের আওতায় আনতেযেসব উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে,তার পরিপ্রেক্ষিতে সুষ্ঠুভাবে যেন এ কার্যক্রমপরিচালিত হয় তার জন্যও নজরদারি থাকতে হবে। কার্যক্রম পরিচালনায় যেমন দরকারিযন্ত্রপাতি নিশ্চিত করতে হবে,তেমনি যোগ্য লোকবল নিয়োগেরও বিষয়টিওপ্রয়োজনীয়।বিপুল জনসংখ্যার এ দেশে সুষ্ঠুভাবে চিকিৎসা নিশ্চিত করাসহজ নয়, কিন্তু সরকার যদি আন্তরিকভাবে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে তবে তাঅসম্ভবও নয়। এটা সত্য যে দেশে প্রয়োজনীয় চিকিৎসক সংকট রয়েছে। আর এ সংকটথাকলে যে কোনো কার্যক্রমই প্রত্যাশা অনুযায়ী বাস্তবায়ন করা কঠিন। ফলে সংকটদূর করতে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে ৬ থেকে সাড়ে ৬ হাজার চিকিৎসক নিয়োগ দেয়াহবে বলে যে পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে, তার বাস্তবায়ন চিকিৎসক সংকট দূরকরতেও অনেকটাই ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলেই আমাদের বিশ্বাস। একই সাথে আমরাআরেকটা বিষয় ইঙ্গিত করতে চাই,দেশের জনস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে বৃহৎজনগোষ্ঠীর আর্থিক সামর্থ বিবেচনা করে চিকিৎসা ব্যয় কমানোর জন্যও সরকারিউদ্যোগ গ্রহণ জরুরি। কেননা আর্থিক অভাব-অনটন যাদের নিত্য সঙ্গী তারাচিকিৎসার অভাবে বিপর্যস্ত জীবন কাটাবে এটা হতে পারে না।

ডিজিটাল এ কার্যক্রম যখন এগিয়ে চলেছে তখন এমনও অভিযোগ শোনা যাচ্ছে,ডিজিটালস্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমগুলো বাস্তবায়নের দায়িত্বে আছে স্বাস্থ্যঅধিদপ্তরের তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ। আর এ অধিদপ্তরের কয়েকজন কর্মকর্তাসহসারাদেশের কয়েকজন চিকিৎসকের অবহেলা ও অনীহায় কার্যক্রমগুলো বাস্তবায়ন হচ্ছেধীরগতিতে। সরকারের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে এগুলো বাস্তবায়নকরতে হবে। যেন কোনো কুচক্রীমহলই বাধাগ্রস্ত করতে না পারে। যদিও স্বাস্থ্যঅধিদপ্তরের চিকিৎসা,শিক্ষা ও স্বাস্থ্য জনশক্তি উন্নয়ন বিভাগের পরিচালকেরদাবি, সরকারের কোনো কার্যক্রম বাস্তবায়নে চিকিৎসক ও কর্মকর্তাদের অবহেলা বাঅনীহার সুযোগ নেই।

এ কার্যক্রম বাস্তবায়নের পাশাপাশি নজর দিতে হবে, সেবা সঠিক প্রক্রিয়ায় যেনপরিচালিত হয়। কেননা দেশের সরকারি হাসাপাতালগুলোয় নানা ধরনের অব্যবস্থাপনারঅভিযোগ আছে। যার ফলে প্রতিনিয়তই রোগীরা হয়রানির শিকার হচ্ছেন। দেশের সরকারিহাসাপাতালগুলো ডিজিটাল হলে তাতে সেবাপ্রদান সহজ হবে এটা যেমন সত্য,তেমনিএটাও নিশ্চিত করতে হবে যে তাতে যেন রোগীরা বিড়ম্বনা ও দুর্ভোগেরশিকার নাহন।সঠিক ব্যবস্থাপনায় দেশের চিকিৎসাব্যবস্থা উন্নত হোক এবংসেবার মান বৃদ্ধি পাক। আর সরকারের আন্তরিক প্রচেষ্টা থাকলে তা বাস্তবায়নকঠিন হবে না, যা দেশের জনস্বাস্থ্যকে নিরাপদ রাখতে অত্যন্ত জরুরি।

 

 

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *