জমি রেজিস্ট্রি এবং পিতার নিকট থেকে টাকা ছিনতাই

 

চার ভাইয়ের মধ্যে একভাই মানসিক প্রতিবন্ধী। তিন ভাই তার পিতার নিকট থেকে সাড়ে তিন বিঘা জমি রেজিস্ট্রি করিয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ অভিযোগ করেছে ৫ বোন। আর বৃদ্ধ পিতার অভিযোগ, জমি রেজিস্ট্রি করে দেয়ার আগে টাকার বান্ডিল দেয়া হলেও রেজিস্ট্রির পর সেই টাকা তিন ছেলে কেড়ে নিয়েছে। টাকা কেড়ে নেয়ার কারণেই পিতা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। ভারসাম্য হারাতে শুরু করেন বলেও অভিযোগ। সম্প্রতি বৃদ্ধ পিতাকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তিও করানো হয়। পিতাকে ভুল বুঝিয়ে জমি রেজিস্ট্রি করিয়ে নেয়ার অভিযোগ তুলে চুয়াডাঙ্গার একটি সংস্থার কাছে আইনগত সহায়তা চেয়ে ৫ বোন আবেদনও করেছে।

‌পৈত্রিক সম্পদ-সম্পত্তির ওপর সকল সন্তানেরই অধিকার রয়েছে। ছেলে ও মেয়ে কে কতোটুকু পাবে তাও দেশের প্রচলিত আইনে স্পষ্ট করা হয়েছে। এরপরও শরিকি জমিজমা ভাগাভাগি নিয়ে হানাহানি মারামারির খবর পাওয়া যায়। কিছু খবর পত্রপত্রিকায় গুরুত্বের সাথে প্রকাশিতও হয়। পিতা বা মাকে ভুল বুঝিয়ে জমি রেজিস্ট্রি করিয়ে নেয়ার অভিযোগও কম নয়। পৈত্রিক জমিজমা নিয়ে হানাহানি মারামারি বা ভুল বুঝিয়ে হাতিয়ে নেয়া হীন মানসিকতারই বহির্প্রকাশ নয়, অপরাধও বটে। সম্পদ-সম্পত্তি  হাতিয়ে নেয়ার চেয়ে নিজে সম্পদ গড়ে তোলার পথে হাঁটাই শ্রেয়। পিতা-মাতার প্রতি যাদের শ্রদ্ধাবোধ থাকে, কর্তব্যপরায়ণতা থাকে তাদের অভাব হওয়ার কথা নয়। পিতা-মাতার প্রতি কর্তব্য পালনে আন্তরিকতার বদলে সম্পদ হাতিয়ে নেয়ার পাঁয়তরা সম্পদ গড়ার পথে অন্তরায় বটে। এটা আর ক’জনই বা বোঝে? ভাই হয়ে বোনকে ঠকানোর হীন মানসিকতার প্রবণতা অবশ্য নতুন নয়। বোনদের অনেকেই ভাইয়ের নিকট থেকে পৈত্রিক শরিকি জমি নিতে আগ্রহী হয় না। কখন? যখন বোন সচ্ছল। অসচ্ছলতা অনেক সময় সহোদরদের বিরোধের কারণও হয়ে দাঁড়ায়। তাই বলে কাউকে ঠকানো কোনোভাবেই উচিত নয়। বৃদ্ধ পিতা-মাতাকে ভুল বুঝিয়ে জমি রেজিস্ট্রি করিয়ে নেয়া তো অন্যায় বটেই, টাকার বান্ডিল হাতে তুলে দিয়ে তা পরে কেড়ে নেয়াটা গুরুতর অপরাধ। ছিনতাই। আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার দাবি অযৌক্তিক নয়। জমি লিখিয়ে নেয়ার পর টাকা ছিনতাই করে পার পেলে সমাজে এ ধরনের হীন মানসিকতার কুপ্রভাব ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াবে। সমাজের স্বার্থেই চুয়াডাঙ্গা তালতলা গোরস্তানপাড়ার বৃদ্ধ ও তার ৫ মেয়ের অভিযোগকে গুরুত্ব দেয়া প্রয়োজন।

কোনো পিতা যদি কখনো তার কোনো সন্তানের প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে সম্পদের কিছু অংশ দান করেন, তাতে আপত্তি থাকার কথা নয়। যদি দান করার পর ভুল হয়েছে বলে তিনি জানান, কাল-বিলম্ব না করে ওই সন্তানকে সেই জমি দ্রুত ফেরত দেয়ার পথে হাঁটাই হবে শুভবুদ্ধির পরিচয়। আর টাকার বান্ডিল হাতে তুলে দিয়ে জমি রেজিস্ট্রি করিয়ে নেয়ার পর তা ছিনিয়ে নেয়া গুরুতর অপরাধ। এ অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত প্রয়োজন। অভিযোগের সত্যতা মিললে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি। আর তা করতে হবে বৃদ্ধ মারা যাওয়ার আগেই। শরিকি জমিপ্রাপ্যরা ন্যায্য হিস্যা পাক। দূর হোক হীন মানসিকতা।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *