জনগণকে সাথে নিয়ে সফল হোক পুলিশ

 

হঠাৎ করে এলাকায় চাঁদাবাজচক্র অতোটা বেপরোয়া হলো কোন সাহসে? কেউ না কেউ ওদের সাহস জোগাচ্ছে। দামুড়হুদার পর আলমডাঙ্গার ইটভাটায় চাঁদাবাজচক্র তাণ্ডব চালিয়েছে। একজন শ্র্রমিককে খুন করেছে। গুলিবিদ্ধ আরও এক শ্রমিক মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে। শ্রমিক খুনের আড়ালে রয়েছে ইটভাটার মালিকের নিকট মোটা অঙ্কের চাঁদা চেয়ে না পাওয়া।

অভিযোগ রয়েছে, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর ও কুষ্টিয়ার অধিকাংশ ইটভাটায় এবার মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে চাঁদাবাজ গ্যাং। চাঁদার দাবিতে খুনের হুমকি দেয়। ইট পোড়াতে দেবে না বলেও হুমকি দিয়ে চাঁদার টাকা পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করতে চায় অস্ত্রধারীরা। যেভাবে গণহারে চাঁদা দাবি করে দাবিকৃত টাকা না পেয়ে মানুষ খুন করছে, বোমা হামলা চালাচ্ছে তা দ্রুত প্রতিহত করতে না পারলে অবস্থা যে আরও ভয়াবহ হয়ে উঠবে তা বলাই বাহুল্য। ভয়াবহ শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশ কাম্য নয়। সাধারণ মানুষ চায় জানমালের নিরাপত্তা।

আলমডাঙ্গার কুমারী গ্রাম সংলগ্ন ইটভাটায় চাঁদার দাবিতে নারকীয় হামলা চালানো সন্ত্রাসীদের অধিকাংশই মিরপুর এলাকার। ইউনিয়ন পর্যায়ের এক জনপ্রতিনিধি এদের শুধু থলেনদারই নয়, মদদদাতা হিসেবে ইতোমধ্যেই চিহ্নিত হয়ে পড়েছেন। এরকম তথ্য পেলেও তার বিরুদ্ধে পুলিশ ব্যবস্থা নিতে পারছে না কেন? প্রভাবশালী এক রাজনীতিক তার ছায়া। পুলিশ প্রাথমিকভাবে এরকমই তথ্য পেয়েছে। যাচাই করে প্রয়োজনী ব্যবস্থা নিতে যতো বিলম্ব হবে ততোই বাড়বে ক্ষতি। শক্তি বাড়বে অপশক্তির। জিম্মি হবে জনপদ।

এক সময়ের বাঘা বাঘা অস্ত্রধারীদের কেউ কেউ আত্মসমপর্ণ করে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাসমূহের অনমনীয় লাগাতার অভিযানে অনেকেরই পতন ঘটে। সম্প্রতি অনেকেই জামিনে মুক্ত হয়েছে। পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের অভাবে অনেকেই বিপথগামী হয়েছে। এদের আনাগোনা যদি রাজনৈতিক ক্ষমতাধর কোনো ব্যক্তির ছায়াতলে হয় তাহলে বর্তমান বাস্তবতায় পুলিশের পেশাদারিত্ব এককভাবে ফুটিয়ে তোলা কঠিন বটে। এরপরও পুলিশকে পারতে হবে। পারতে হলে দরকার জনসাধারণের আস্থা অর্জন। এজন্য দরকার কর্মতৎপরতা।

হঠাত করে বেপরোয়া হওয়া চাঁদাবাজ গ্যাং অবশ্যই একদিনে গজে ওঠেনি। জামিন পাওয়া দাগীদের সম্পর্কে তথ্য নেয়ার পাশাপাশি অপরাধীদের শনাক্ত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতার মুখোশ উন্মোচন করতে হবে। পুলিশ সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করতে পারলে অপশক্তি যতোবড় ক্ষমতাধরের ছায়ায় থাকুক না কেন তার পতন নিশ্চিত করা সম্ভব।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *