চাঁদাবাজ চক্রের উৎপাত সমাজের অগ্রযাত্রার অন্যতম অন্তরায়

 

সমাজে কতোরকমের যে চাঁদাবাজ অর্থ হাতানোর নানা কিছিমের ফন্দিফিকির করছে তার ইয়ত্তা নেই। কেউ নিচ্ছে বকশিসের নামে, কেউ নিচ্ছেন খুন করে বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে। কেউ কেউ ওই আতঙ্ককেই কাজে লাগিয়ে সেলফোনকে মূল হাতিয়ার করে ভীতিকর পরিচয়ে হুমকি দিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছে অর্থ। এদেরই একটি সঙ্গবদ্ধ চক্র গোপালগঞ্জে বসে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসককে হুমকি দিয়ে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে। বেচারা চাঁদাবাজ বোধহয় বোঝেনি সে ভুল জায়গায় হাত বাড়িয়েছিলো। জেলা প্রশাসকের নিকট চাঁদা চাওয়া চাঁদাবাজচক্রের মূল হোতা আত্মগোপনে রয়েছে বলে দাবি করে গোপালগঞ্জ পুলিশের পদস্থ এক কর্মকর্তা বলেছেন, যে মোবাইলফোন দিয়ে চাঁদাদাবি করা হয়েছিলো সেই মোবাইলফোনদাতাকে গ্রেফতার করে ইতোমধ্যেই আইনে সোপর্দ করা হয়েছে। গতকাল দৈনিক মাথাভাঙ্গা পত্রিকায় এ সংক্রান্ত প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

নতুন করে বলার অবকাশ রাখে না যে, মোবাইলফোনে কোনো অপরাধ করে কারো পার পাওয়ার এখন আর সুযোগ নেই। প্রযুক্তির বদৌলতে মোবাইলফোনের অবস্থান যেমন শনাক্ত করা সম্ভব, তেমনই আধুনিক প্রযু্ক্তিতে রেজিস্ট্রেশনের পর মোবাইলফোন ব্যবহারকারীর দায় এড়ানোর পথ রুদ্ধ হয়েছে। যদিও কিছু সিম বিক্রেতার বিরুদ্ধে ভুয়া অন্যের নামে বহু সিম রেজিস্ট্রেশন করিয়ে অর্থ বাণিজ্যে মেতে ওঠার অভিযোগ রয়েছে। গাজীপুরে বেশ কয়েকজন অসংখ্য সিম-রিমসহ ধরাও পড়েছে। এরপরও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাসমূহের সজাগ দৃষ্টি অব্যাহত থাকলে শুধু মোবাইলফোনে চাঁদাবাজচক্রই নয়, অস্ত্র নিয়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে টাকা হাতানোদেরও পালানোর পথ থাকে না। কেননা, আইন প্রয়োগকারী সংস্থাসমূহের আন্তরিক প্রচেষ্টা পরিলক্ষিত হলে সাধারণ মানুষও অপরাধীদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায়। আর আইন প্রয়োগে নিয়োজিত কর্তাদের কারো কারো দায়িত্ব পালনে আন্তরিকতায় ঘাটতির কারণে শুধু হতাশাই বাড়ে না, সাধারণ মানুষ সাহস হারিয়ে হুমকি ধামকিতে কাবু হয়ে চাঁদাবাজচক্রের সাথে আপসের উপায় খোঁজে। বেড়ে যায় চাঁদাবাজচক্রের উৎপাত। জেলার একজন শীর্ষ কর্মকর্তার নিকট মোবাইলফোনে চাঁদা চাওয়ার মধ্যদিয়ে স্পষ্ট হয়ে ওঠে, চাঁদাবাজচক্র কোন পর্যায়ে।

অবশ্যই চাঁদাবাজচক্রের উৎপাত বন্ধে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাসমূহের দায়িত্বশীলদের আন্তরিকতার বিকল্প নেই। কোন চাঁদাবাজ অবৈধ অস্ত্রের গরমে হুংকার ছেড়ে চাঁদা দাবি করছে, আর কোন চাঁদাবাজের পুঁজি শুধু মোবাইলফোন, তা সাধারণ মানুষ বুঝবেন কীভাবে? তখনই সাধারণ মানুষের কাছে বিষয়টি স্পষ্ট হয়, যখন আইন প্রয়োগকারী সংস্থসমূহের বিশেষ করে পুলিশি তৎপরতায় চাঁদাবাজদের মুখোশ উন্মোচন হয়। অন্যথায় অনেকেই চাঁদাবাজদের চটাতে চান না। এই সুযোগটাই চাঁদাবাজচক্রকে আরো ভয়ঙ্কর করে তোলে। খেসারত দিতে হয় সমাজকে। যার আঁচ প্রশাসনিক কোনো কোনো কর্তাকেও অস্থির করে তোলে। ফলে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাসমূহের মাঠ পর্যায়ে কর্তব্যরত কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনে আন্তরিক হওয়া জরুরি। মনে রাখা দরকার, চাঁদাবাজ চক্রের উৎপাত সমাজের অগ্রযাত্রার অন্যতম অন্তরায়।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *