গড্ডালিকায় গা ভাসানোর রেওয়াজ ফেলেছে ঝুঁকির মধ্যে

মোটরসাইকেল আর অবৈধযান দুর্ঘটনা পিছু ছাড়ছে না। দিন যতো যাচ্ছে মৃত্যুমিছিল ততোই লম্বা হচ্ছে। একের পর এক প্রাণহানি, পঙ্গুত্বের পরও প্রশাসন যেমন নীরব দর্শক, তেমনই সাধারণ মানুষ অসহায়। নিরাপদ সড়ক, স্বাভাবিক মৃত্যুর নিশ্চয়তার দাবি কালক্রমে যেন হাস্যকর দাবিতে রূপায়ন হচ্ছে। প্রযুক্তির যখন রমরমা অবস্থা, তখনও কি দুর্ঘটনাকে নিছক নিয়তি বলে কর্তারা নাকে সরষের তেল দিয়ে সুখনিদ্রায় মগ্ন থাকবেন?

 

সড়ক কতোটা উপযোগী, সড়কে কোন যানের কোন ধরনের কতোটা তীব্র আলোর প্রধান লাইট দুর্ঘটনা হ্রাসে সহায়ক তা দেখার দায়িত্ব কার? তীব্র আলো এবং উচ্চগতিসহ অতি অশ্বক্ষমতা দেখে দেশে যানবহন আমদানির অনুমোদন দেন তারা নিশ্চয় দেশের বাস্তবতা সম্পর্কে জানেন না, জানলেও বিশেষ কোনো কারণে অন্ধত্ববরণ করে দেদারছে অনুমোদনপত্রে স্বাক্ষর দেন। তা না হলে অতো অতিগতি এবং অতি অশ্বক্ষমতার মোটরসাইকেল দেশের রাস্তায় এলো কীভাবে? কেনইবা বৈধপথে আমদানির পর ব্যাটারিচালিত রিকশার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন? কৃষি কাজের জন্য বিদেশ থেকে আমদানি করা ইঞ্জিনের বহুবিধ ব্যবহারে দুর্ঘটনা যেমন বহুলাংশে বেড়েছে, তেমনই কৃষিকাজে ব্যবহারের জন্য আমদানি করা ট্রাক্টর ও পাউয়ার টলিও ইমরাত নির্মাণের ইট, বালি, রড, সিমেন্ট মাটিসহ এমন কিছু নেই যে তা বহনের কাজে বাণিজ্যিকভাবে লাগানো হচ্ছে না। অথচ এসব যানের চালকদের অধিকাংশেরই ন্যূনতম যোগ্যতা যাচাই করা হচ্ছে না। শ্যালোইঞ্জিনচালিত হরেক নামের অবৈধ যানগুলো কারা চালাচ্ছে? তাদের কজনই আর দক্ষ? সড়কে যারা অবৈধ যান চালাচ্ছে তাদের উগ্রতা, বেপরোয়াগতি সড়কের বৈধ যানবহন ও তার চালকদের অসহায় করে তুলছে। মোটরসাইকেল? প্রতিদিনই সড়কে অপ্রয়োজনীয় গতি ও তীব্র আলোর মোটরসাইকেল বৃদ্ধি পাচ্ছে। চালকদের কজনেরই আর চালক স্বীকৃতিপত্র আছে? অথচ চালক স্বীকৃতিপত্র ছাড়া এসব যান সড়কে চালানোর কোনো বৈধতা নেই। বাস-ট্রাক চালকদের স্বীকৃতিপত্র প্রদানেও রয়েছে অযৌক্তিক পদ্ধতি। ট্রাফিক আইন মেনে চলতে বাধ্য বাধ্যকতার নিয়ম যেন উবে গেছে। অবৈধ যান, অবৈধ চালকের হাতে দুর্ঘটনা ঘটলে কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে। যে বিধানের প্রয়োগ আছে কি? আইন প্রয়োগে রাজনৈতিক বাধাসহ বহু অজুহাত দাঁড় করানো হয়। আইন প্রয়োগকারীদের তো কোনো তদবির শোনার কথা নয়! তা হলে আর অজুহাত কেন? আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে পারলে দুর্ঘটনা যে বহুলাংশে হ্রাস পাবে তা বলাই বাহূল্য। আইন প্রয়োগে নিযুক্তদের আর যাই হোক দরদী নেতা সাজা উচিত নয়। পেশাদারত্ব মানসিকতা নিয়ে আইনের যথাযথ প্রয়োগের বদলে অজুহাত দাঁড় করানো মানে অনিয়মের সাথে আপস করা। জনস্বার্থে নিযুক্ত কর্তারা দয়া করে কর্তব্যপরায়ণ হোন। নিজ নিজ ক্ষেত্রে নিজের ওপর অর্পিত দায়িত্ব নিষ্ঠার সাথে পালন করলে দেশের চিত্রটাই তো পাল্টে যাবে। দীর্ঘদিন ধরে উদাসীনতা তথা গড্ডালিকায় গা ভাসানোর রেওয়াজ সকলকেই ফেলেছে ঝুঁকির মধ্যে।

 

সড়কে দুর্ঘটনার জন্য যে কারণগুলো অধিক দায়ী তা দূর করতে না পারলে নিরাপদ সড়কের স্বপ্ন অবান্তর। অবশ্যই শুধু চালকের জন্যই দুর্ঘটনার সংখ্যা বৃদ্ধি পায় না, দুর্ঘটনা হ্রাসে পথচারীদেরও সতর্ক হতে হয়। চালক এবং পথচারীদের দায়িত্বশীল করতে হলে যেমন আইনের যথাযথ প্রয়োগের বিকল্প নেই, তেমনই অবৈধযান, অপ্রয়োজনীয় অশ্বশক্তি এবং অতিগতির মোটরসাইকেলসহ তীব্র আলোর যানগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *