খোশ আমদেদ মাহে রমজান

 

প্রফেসর মুহাম্মদ ইউসুফ আলী: আজ ১৩ রমজান। পবিত্র মাহে রমজানের মাগফেরাত দশকের আজ তৃতীয় দিন। রমজান মাস বেশি বেশি দান-খয়রাত করার মাস। এই মাসে প্রতিটি নেক আমলের সওয়াবকে কমপক্ষে ৭০ গুণ বৃদ্ধি করা হয়। এই জন্য এই মাসে দান-খয়রাত করলে অন্য মাসের চেয়ে অনেক গুণ বেশি সওয়াব পাওয়া যাবে। ইতঃপূর্বে এই কলামে ইসলামের অন্যতম ভিত্তি জাকাত প্রসঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। আজ জাকাত ছাড়া অন্যান্য দান-খয়রাত ও সদকাহ সম্পর্কে আলোকপাত করা হবে। হুজুর (সা.) সর্বদা গরিব ও অভাবীদের প্রতি অত্যন্ত সদয় ও দয়াপ্রবণ ছিলেন। কিভাবে গরিব মানুষের মুখে হাঁসি ফোটানো যায় এই জন্য সর্বদা ব্যতিব্যস্ত থাকতেন। তার কাছে কেউ কোনো কিছু সওয়াল করলে তিনি কখনও তাকে খালি হাতে ফিরাতেন না, নিজের সাধ্যমতো দান করতেন। হতদরিদ্র ও নিঃস্ব মানুষের পাশে দাঁড়ানোর প্রতি উৎসাহ প্রদান করতে দয়ার নবী (সা.) এরশাদ করেন, যদি কোনো ব্যক্তি কোনো বস্ত্রহীনকে বস্ত্র দান করবে আল্লাহ তায়ালা তাকে জান্নাতের সবুজ বস্ত্র পরিধান করাবেন। যদি কেউ কোনো ক্ষুধার্তকে খানা খাওয়ায় আল্লাহপাক তাকে জান্নাতের ফল খাওয়াবেন। আর যদি কেউ কোনো পিপাসিতকে পানি পান করাবে মহান আল্লাহপাক তাকে জান্নাতের মোহরযুক্ত পানীয় পান করাবেন (আবু দাউদ, তিরমিজি)। আর এক হাদিসে হুজুর (সা.) এরশাদ করেন, তোমরা জান্নামের আগুন হতে নিজেকে বাঁচাও একটি খেজুর দান করে হলেও। জাকাত ছাড়াও মালের ভিতর আরও অনেকের হক রয়েছে। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেন, সৎকাজ শুধু এর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয় যে, তোমরা তোমাদের মুখমণ্ডল পূর্ব কিংবা পশ্চিম দিকে ফিরাবে, বরং প্রকৃত সৎকাজ হলো ঈমান আনবে আল্লাহর প্রতি, কিয়ামতের দিন ও ফেরেশতাদের প্রতি, আসমানি কিতাবসমূহ ও পয়গম্বরদের ওপর; তদুপরি ধন-সম্পদ প্রিয় হওয়া সত্বেও দান করে আত্মীয়-স্বজন, এতিম-মিসকিন, ভিক্ষুক এবং গোলাম আজাদ করার বাপারে, আর নামাজ কায়েম করে ও যাকাত প্রদান করে (সূরা বাকারা: ১৭৭)। আর এক আয়াতে মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন, হে ঈমানদারগণ, আমার দেয়া রিজিকের কিয়দাংশ দান করে দাও এমন এক মহাসঙ্কটময় দিন আসার পূর্বেই যে দিন না কোনো বেচাকেনা চলবে, না কোনো বন্ধুত্ব কাজে আসবে, আর না আল্লাহর অনুমতি ব্যতিত কোনো সুপারিশের সুযোগ হবে (বাকারা: ১৫৪)। দান করলে মাল কমে না, বরং বাড়ে। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তায়ালার এরশাদ হলো, যারা আপন ধন-সম্পদ আল্লাহর রাস্তায় দান করে তাদের দৃষ্টান্ত ওই দানার মতো যেখান হতে এরূপ ৭টি ছড়া নির্গত হলো যার প্রত্যেকটিতে ১০০টি করে দানা রয়েছে। যাকে ইচ্ছা আল্লাহ আরও বৃদ্ধি করে দেন (বাকারা: ২৬১)। আরও অনেক আয়াতে গরিব, দুখিদেরকে দান করার আদেশ দিয়েছেন। তাই আসুন আমরা সকলে বরকত, মাগফেরাত ও নাজাতের এই মাসে বেশি বেশি দান করি এবং মহান আল্লাহর রেজা-মন্দি হাসিল করি। (লেখক: অধ্যাপক, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়)।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *