কুমতলববাজ কূটকৌশলে পার পেলে সমাজেরই খেসারত দিতে হয়

 

বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য আয়োজিত সালিসসভায় উগ্রতা এবং পক্ষপাতিত্ব গুরুতর অন্যায়। চুয়াডাঙ্গা আলমডাঙ্গার নাগদাহ উত্তরপাড়ার সালিসকর্তারা এ অন্যায় করেই ক্ষান্ত হননি, হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি পাওয়ার মতো অপরাধ করেছেন। পুলিশ নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করতে পারলে এ ধরনের অপরাধ প্রবণতা সমাজে হ্রাস পাবে। আর তার বদলে যদি ক্ষমতার প্রভাবে অপরাধীদের কেউ পার পেয়ে যায় তাহলে? অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধি পাওয়াটাই স্বাভাবিক। একইভাবে নিরপরাধী কেউ হয়রানির শিকারও অনাকাঙ্ক্ষিত। পুলিশকে অবশ্যই আইনের দৃষ্টিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।

চুয়াডাঙ্গা আলমডাঙ্গার নাগদাহ উত্তরপাড়ার প্রতিবেশীদের মধ্যে সামান্য কিছু জমি বিক্রি ও ক্রয় নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত। বিক্রি করলেও রেজিস্ট্রি করে না দেয়া বা কেনার সময় রেজিস্ট্রি করিয়ে না নেয়াটা যেমন আইনসিদ্ধ নয়, তেমনই জমির মূল্য নতুন করে বাড়িয়ে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের বিষয়টিও বিবেকবর্জিত। টাকা দিয়ে জমি কেনা হলো, সেই জমিতে প্রতিষ্ঠান স্থাপন করা হলো। অথচ রেজিস্ট্রি করিয়ে নেয়া হলো না। এ সুযোগে বিক্রেতাপক্ষ পুনরায় টাকা দাবি করা নিয়ে যে বিরোধ তা সামাজিকভাবে নিষ্পত্তির উদ্যোগ সামাজিক দায়বদ্ধতারই অংশ। সামাজিক দায়িত্ব পালন করতে গেলেই হয় না, স্থান-কাল-পাত্র সম্পর্কে সচেতন হতে হয়। আর তা বিবেচনায় ভুল করলে তার খেসারত অনিবার্য হয়ে ওঠে। যেমনটি হয়েছে নাগদাহ উত্তরপাড়ার সালিসকর্তাদের।

সালিসে কোনো পক্ষকেই সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেয়ার সুযোগ নেই। সমঝোতার ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নিতে হয়। নাগদাহ উত্তরপাড়ার সালিসভায় পক্ষপাতিত্ব ও চাপ প্রয়োগের আলামত স্পষ্ট। তা না হলে একপক্ষকে সালিসসভা থেকে উঠে টানপায়ে নিরাপদ স্থানের উদ্দেশে ছুটতে হলো কেন? কেনই বা পিছু ধাওয়া? সালিসের কর্তার কর্তৃত্ব ফলাতেই উসকে দেয়া? অবশ্যই তদন্ত হওয়া দরকার। উসকানিদাতা ও হত্যাকারীদের কেউই আইনের দৃষ্টিতে কম অপরাধী নন। হত্যাকাণ্ডের পর অভিযোগের ধরন ছিলো যতোটা স্বচ্ছ, এজাহারে অভিযোগের ধরনে কিছুটা হলেও বদলেছে। এ কারণে প্রশ্ন ওঠা অমূলক নয়, তবে কি প্রভাবশালী নিজেকে রক্ষার জন্য চাপ প্রয়োগ করেছে? হয়তো হ্যাঁ, হয়তো না। যাই হোক। পুলিশকেই প্রকৃত উসকানিদাতা, হত্যাকারীদের খুঁজে বের করা দায়িত্ব। প্রভাবমুক্ত সুষ্ঠু তদন্ত অবশ্যই পুলিশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করবে। বৃদ্ধি করবে আস্থা।

পুলিশকে ওই পথেই হাঁটা উচিত, যে পথে হাঁটলে সমাজ থেকে অপরাধ প্রবণতা দূর হবে। আইনকানুন মূলত সে কারণেই প্রণয়ন এবং প্রয়োগের পদ্ধতি প্রচলিত। সামাজিক দায়িত্ব পালনের নামে সালিসসভায় হত্যার নীলনকশা সামাজিক বন্ধনের ওপর কুঠারাঘাতের সামিল। সমাজে কুমতলববাজ মানুষ অধিকাংশ সময়ই কূটকৌশলে পার পেয়ে যায়। আর তার খেসারত দিতে হয় সমাজকে। সমাজ সুন্দর করতে হলে ওই কূটকৌশলবাজের উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। আর সুযোগ বুঝে বাড়তি অর্থ আদায়ের চেষ্টা মানে নৈতিকতার স্খলন। বিশ্বাস? যে বিশ্বাসের বৈধতা নেই, বরং বোকা বানায় তা পরিহার ভবিষ্যতকে উজ্জ্বল করে।

Leave a comment

Your email address will not be published.