ওরা এখন নিরাপত্তাকর্মীর পায়ের রগও কাটছে

চোর নিরাপত্তাকর্মীর পায়ের রগ কেটে দিয়েছে। ঘটনাটিকে কীভাবে দেখবেন? চোরের সাহসকে তালিম করবেন নাকি নিরাপত্তাকর্মীদের অক্ষমতা কাটিয়ে তোলার তাগিদ দেবেন? অবশ্যই অবশ্যই চোরেরা একদিনে সঙ্ঘবদ্ধ হয়নি, একদিনে ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠেনি। চুয়াডাঙ্গা দামুড়হুদার দর্শনা আন্তর্জাতিক রেলইয়ার্ডের নিরাপত্তাকর্মীর পায়ের রগ কাটার ঘটনাই প্রথম নয়, এর আগে নিরাপত্তাকর্মীদের সাথে নিরাপত্তাকর্মীদের তুমুল সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে। চোরচক্রের অপতৎপরতা বন্ধ হয়নি, বরঞ্চ বেড়েছে। তারা এখন নিরাপত্তাকর্মীর পায়ের রগও কাটছে।

 

অব্যাহতভাবে চুরির কারণে দর্শনা রেলবন্দর দিয়ে মালামাল আমদানিতেও অনেক আমদানিকারক আগ্রহ হারিয়েছেন, হারাচ্ছেন। চোরচক্রের অপতৎপরতা সভ্যসমাজের বিবেকবান কোনো মানুষই মেনে নিতে পারে না। চুরির শুরুটা ছিলো মালবহন করা রেলগাড়ির ওয়াগন থেকে পড়ে যাওয়া খাদ্যদ্রব্য কুড়িয়ে নেয়া। কুড়িয়ে নেয়া দরিদ্র নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোরের দল ধীরে ধীরে চুরির দিকে হাত বাড়ায়। প্রথম দিকে নমনীয় দৃষ্টিতে দেখার কারণেই চুরির মাত্রা বেড়ে যায়। চোরচক্র সঙ্ঘবদ্ধ হয়ে ওঠে। পরবর্তীতে নিরাপত্তাকর্মীদেরই কেউ কেউ চোরের সাথে গোপনে অর্থের লোভে হাতও মেলায়। ফলে যা হবার তাই হয়েছে। এখন চোরচক্রের সাহস এতোটাই ভয়ঙ্কর যে, তালিম করারই সামিল। নিরাপত্তাকর্মীদের প্রতিরোধের মুখে পড়া, সংঘর্ষে মার খাওয়া এবং পায়ের রগ কেটে দেয়ার ঘটনাপ্রবাহের মধ্যে যে চিত্র ফুটে ওঠে তা হলো অসহায়ত্ব। দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলতেই হয় হায়রে নিরাপত্তা ব্যবস্থা! দর্শনা আন্তর্জাতিক রেলইয়ার্ডে গতপরশু দিবালোকে একদল চোর হানা দেয়। নিরাপত্তাকর্মীরা টের পেয়ে ধাওয়া করে। চোরের দল পিছু হটলেও হুটকরে ঘুরে দাঁড়িয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে নিরাপত্তাকর্মীদের একজনের পায়ের রগ কেটে সটকে পড়ে। নিরাপত্তাকর্মী বর্তমানে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

 

দরিদ্রদের প্রতি দরদী হাত বাড়ানোর পাশাপাশি সকলকেই ভেবে দেখা দরকার, হাত বাড়ানোর মধ্যদিয়ে দরিদ্রের হাতপাতা স্বভাব যেন পেয়ে না বসে। একইভাবে অন্যের দ্রব্য চুরি করছে করুক, দরিদ্র মানুষ চুরি করে যদি দু বেলা দু মুঠো খাবারের ব্যবস্থা করতে পারে, তা করলে দোষের কী? এরকম ভেবে চোখের সামনে চুরি হলেও নীরবতা সমাজের জন্য কল্যাণকর হয় না। সমাজকে সুন্দর করতে হলে সমাজের দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে স্বনির্ভর করার মতো কর্মসংস্থান গড়ে তুলে কর্মসংস্থানের মাধ্যমে অলসতা অক্ষমতা দূর করার পথে হাঁটাই শ্রেয়। আর নিরাপত্তাকর্মীদের তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব শুরু থেকেই নিষ্ঠার সাথে পালনে আন্তরিক হওয়া প্রয়োজন। মাঝে মধ্যে অভিযানে সফলতা মেলার বদলে বিপরীতটাই মেলে। দর্শনা রেলইয়ার্ডের নিরাপত্তাকর্মীদের ক্ষেত্রে যেমনটি মিলছে।

 

চোরের বাড়বাড়ন্ত মেনে নিয়ে নয়, চোরের দুঃসাহসের কাছে মাথা নত করে নয় শক্তহাতে প্রতিরোধ প্রয়োজন। চুরি করা অন্যায়, আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। অন্যায়কারী তথা অপরাধীর অপরাধ আমলে নিয়ে উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরি। একজন অপরাধী অপরাধ করে পার পেলে অপরাধ প্রবণতা বেড়ে যায়। দর্শনা রেলইয়ার্ডে আমদানিকারকদের মালামালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব শুধু নিরাপত্তাকর্মীদেরই নয়, দর্শনার সচেতনমহলেরও। চোরের উৎপাতে দর্শনা রেলবন্দরটি বন্ধ হলে বা জৌলুস হারালে তার কুপ্রভাব দর্শনার অর্থনীতির ওপরই পড়বে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *