একজন পুরুষ যখন তার স্ত্রীকে নির্যাতন করে

অবশ্যই সমাজে সচেতনতার আলো সম্প্রসারিত হচ্ছে। যার সুফলও মিলছে। এরপরও সকল পরিবার থেকে যে নারী নির্যাতন বন্ধ করা যায়নি তা কোনোভাবেই অস্বীকার করা যাবে না। পুরুষ শাসিত সমাজে শুধু কি পুরুষরাই নারীদের নির্যাতন করে? বহুক্ষেত্রে নারীও নারীর নির্যাতক। নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে সমাজের বহু নারী মায়াবী জগতের মায়া ছেড়ে নিজ হাতে নিজের জীবনপ্রদীপ নিভিয়ে দিচ্ছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই নির্যাতক পার পেয়ে যাচ্ছে। হাতে গোনা কিছু নির্যাতকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হলেও এক পর্যায়ে সাক্ষীদের প্রভাবিত করে তারা শাস্তি এড়ানোর চেষ্টায় কমতি রাখে না। অপরাধী পার পেলে তার মাত্রা বাড়ে।

 

চুয়াডাঙ্গা দামুড়হুদার কোমরপুরের দরিদ্র পরিবারের মেয়ে সোনিয়া খাতুন তার তিন বছর বয়সী শিশুকন্যাকে রেখে অকালে চলে গেলেন। স্বামীর অবর্ণনীয় নির্যাতনেই তার ঝরে পড়ার মূল কারণ। আত্মহত্যায় প্ররোচনা? নাকি বিষপানে বাধ্য করে হত্যা? পুলিশ এসব প্রশ্নের জবাব খুঁজতে লাশ ময়নাতদন্ত করিয়েছে। থানায় মামলাও রুজু হয়েছে। পুলিশ দামুড়হুদা জয়রামপুর চৌধুরীপাড়ার ইয়াছিনকে ধরতে না পারলেও তার পিতা ও মাতাকে গ্রেফতার করেছে। এই ইয়াছিনই এক সন্তানের জননী সোনিয়াকে নির্মমভাবে নির্যাতন করেছে। নির্যাতনের মাত্রা কোনো পর্যায়ে না গেলে বাঙালি সমাজের কোনো নারী দাম্পত্য বিচ্ছেদ ঘটায় না। বিয়ের তিন বছরের মাথায় সোনিয়া স্বামীর নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে দাম্পত্য বিচ্ছেদ ঘটিয়ে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছে। মতলববাজ মানুষরূপি হিংস্র প্রাণিটি মিথ্যা প্রতিশ্রুতিতে সোনিয়াকে ফের ঘরে নিয়ে নির্যাতন শুরু করে। শেষ পর্যন্ত সোনিয়ার প্রাণ ঝরেছে, হয়েছে লাশ। প্রশ্ন উঠতেই পারে, কোনো মা কি তার শিশুসন্তানকে রেখে আত্মহত্যা করতে পারে? পারে, হয়তো পারে না। সোনিয়ার মৃত্যু রহস্যজনক। বিষপানে বাধ্য করলে হত্যা মামলা, আর নির্যাতনের পর নির্যাতন করে আত্মহত্যার দিকে ঠেলে দিলে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে প্রচলিত আইনে দৃষ্টান্তমূলক বিচার কাম্য। সচেতনতার আলো ছড়ানোর পাশাপাশি আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে পারলে শুধু পারিবারিক নির্যাতন  নয়, সমাজ থেকে সকল প্রকারের অপরাধপ্রবণতা হ্রাস পাবে।

 

নারীই নারীর নির্যাতনকারী- কখন? যখন পরিবারে কর্তৃত্ব নিয়ে অঘোষিত যুদ্ধ শুরু হয়। এ যুদ্ধ আমাদের সমাজের পরিবারগুলোতে বহু পুরোনো। মূলত সে কারণেই একের পর এক একান্নবর্তী পরিবার ভেঙে খণ্ড খণ্ড। এরপরও মানসিকতার পরিবর্তন করতে না পারার কারণে কিছু নারী আছেন যিনি পূত্রবধূর মা না হয়ে শাশুড়ি হয়ে ওঠেন। আপন হওয়ার সুযোগ এবং আপন করে নেয়ার মতো মানসিকতা প্রয়োজন। আর নির্যাতন? ওটা তো পশুত্ব। একজন পুরুষ যখন তার স্ত্রীকে নির্যাতন করে তখন তার কুরুচিপূর্ণ কাপরুষত্বটারই বহির্প্রকাশ ঘটে। এ দৃশ্য সমাজ থেকে বিতাড়িত করতে দরকার শিক্ষা। কখনও কখনও শাস্তিও।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *