ঈদ মোবারক আস-সালাম

দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর আজ পশ্চিম আকাশে শাওয়ালের একফালি চাঁদ ঈদের সওগাত নিয়ে এলে আগামীকাল মঙ্গলবার ঈদ। ঈদ মানে আনন্দ। এ আনন্দ পৌঁছে যাক সবার ঘরে। সবার জীবন হয়ে উঠুক আনন্দময় ও উৎসবমুখর।

আইয়ামে জাহিলিয়াত বা ইসলামপূর্ব অজ্ঞানতার অন্ধকার যুগে আরবে নানা প্রকারউত্সব জনপ্রিয় ছিলো। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) মক্কা থেকে মদীনায় হিজরতকরে দেখতে পান যে, এ জাতীয় উত্সবে আবালবৃদ্ধবনিতা নানা ধরনের স্থূল ওঅর্থহীন ক্রীড়া ও উত্সবে মেতে উঠছে। মহানবী (সা.) তখন থেকেই তাদেরলক্ষ্য-উদ্দেশ্যহীন আনন্দ-উত্সবের সেই প্রাচীন ধারার পরিবর্তে মুসলিম জাতিরজন্য আত্মশুদ্ধির পবিত্র স্পর্শময় ও বহুবিধ মানব-কল্যাণধর্মী ঈদুলফিতরেরপ্রবর্তন করেন।তিনি উদাত্ত কণ্ঠে উচ্চারণ করেন‘লিকুল্লি ক্কওমিনঈদ, হা-যা ঈদুনা।’অর্থাৎ প্রত্যেক জাতির বাত্সরিক আনন্দের দিন আছে। ঈদেরদিনটি হলো সেই উত্সবের দিন। হিজরি দ্বিতীয় বর্ষেঈদের শুভ সূচনা হয়। একজন মুসলিমের জীবনে ঈদের অর্থ হলো আত্মার আনন্দ।চিত্তলোকের পরমানন্দ।একইসাথে দীন-হীন-দুঃখী ওদুস্থজনদের সাদকায়ে ফিতর ও যাকাত দানের মাধ্যমে মন আরও পরিশুদ্ধ হয়।

অন্যান্য উৎসব থেকে ঈদের পার্থক্য হলো- সবাই এর অংশীদার। সবার মাঝে নিজেকে বিলিয়ে দেয়ার মধ্যে রয়েছে অপার আনন্দ। ঈদের দিন ধনী-গরিব নির্বিশেষে সবাই এক কাতারে শামিল হয়ে মহান আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে। ঈদের আগের এক মাস সিয়াম সাধনার মাধ্যমে আমরা আত্মাকে পরিশুদ্ধ করি। অপরের দুঃখ-কষ্ট বুঝতে সচেষ্ট হই। রোজার প্রধান লক্ষ্য ত্যাগ ও সংযম। ব্যক্তিগত, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনে ত্যাগের অনুপম দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারলে তা হবে সবার জন্য কল্যাণকর। ঈদের নামাজ আদায়ের আগেই ফেতরা দেয়ার নিয়ম। ফেতরার উদ্দেশ্য, দারিদ্র্যের কারণে যাতে কেউ আনন্দ থেকে বঞ্চিত না হয়, তার নিশ্চয়তা বিধান করা। সচ্ছলরা সঠিক নিয়মে জাকাত-ফিতরা দান করলে দরিদ্ররাও ঈদের খুশির ভাগ পেতে পারে।

রমজান সংযমের মাস হলেও অনেকে খাওয়া-দাওয়া ও কেনাকাটার পেছনে অঢেল অর্থ ব্যয় করেন। দরিদ্র স্বজন বা প্রতিবেশীর প্রতি তারা কোনো দায়িত্ব পালন করেন না। ব্যক্তিগত ভোগ-বিলাসে ব্যস্ত থাকেন। এটি ইসলামের বিধানের পরিপন্থি। দুর্ভাগ্যজনক যে, রমজান সংযমের মাস হওয়া সত্বেও একশ্রেণির ব্যবসায়ী মানুষের বাড়তি চাহিদার সুযোগ নিয়ে দ্রব্যমূল্য বাড়িয়ে দিয়ে অধিক মুনাফা করেছে। এর পাশাপাশি মানুষ কষ্ট পেয়েছে যানজটে। অবশ্য এবার কর্মস্থল থেকে আপন ঠিকানায় ফিরতে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পরিলক্ষিত হয়নি। যা হয়েছে তা জনসংখ্যা বিস্ফোরণের দেশে অস্বাভাবিক বলা যায় না। এবার রমজান মাসে চুয়াডাঙ্গা-মেহেরপুর ও ঝিনাইদহে ডাকাতি, ছিনতাই ও অপহরণের পর মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনা গ্রামবাংলায় আতঙ্ক সৃষ্টি করলেও পুলিশি তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

দেশে দরিদ্র বিমোচনে কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছুতে না পারা, ভিনদেশী সংস্কৃতির অবাধ প্রভাবে পাখি জামা ফ্যাসন অসংখ্য উঠতি বয়সী মেয়েদের জীবন কেড়েছে। বহু অভিভাবককে মনো কষ্টে জীবনটাই দুর্বিসহ করে তুলেছে। এবারের ঈদ পোশাকের জগতে ভিনদেশী নাটকের কুপ্রভাব যে শিক্ষা দিলো তা থেকে শিক্ষা নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে না পারলে পরিস্থিতি কতোটা ভয়াবহ হবে উঠবে তা অনুমান করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা বিশ্ববাসীকে শঙ্কিত করেছে। বহু শিশু ও নারীসহ সাধারণ মানুষের মৃত্যুর পর শুরু হয়েছে যুদ্ধবিরোতীর পালা। ঈদ বয়ে আনুক স্থায়ী যুদ্ধবিরতি। বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে ঈদ বয়ে আনুক সম্প্রতি। ঈদুল ফিতরের আনন্দ সবাই ভাগাভাগি করে নেবে, এটাই প্রত্যাশা।

মুসলিম জাহান এবং আমাদের জাতীয় জীবনের সবচেয়ে বড় খুশির এই পবিত্র দিনটিতেসকলের প্রতি আমাদের প্রাণঢালা শুভেচ্ছা। ঈদ-মোবারক। ঈদ সকলের জীবনে বয়ে আনুক আনন্দের বন্যা। বিশ্বজুড়ে বর্ষিত হোক শান্তি। ঘরে বাইরে গড়ে উঠুক সম্প্রীতি।

Leave a comment

Your email address will not be published.