আম কেনার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তা না কেনা অবশ্যই অন্যায়

কথা ছিলো বিশেষ যতেœ পুষ্ট করা আম বিদেশে রফতানির জন্য চড়ামূল্যে কিনবেন রফতানিকারকরা। কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের মেহেরপুরস্থ কর্মকর্তরা বিষয়টি শুধু অবগতই ছিলেন না, তাদের কেউ কেউ বিশেষ যতেœ আম পুষ্ট করার জন্য উদ্বুব্ধও করেছেন বলে অভিযোগ। রফতানিকারকেরা সম্প্রতি কিছু আম কিনলেও অধিকাংশ বাগানের ব্যাগিং করা আমই এখন পেকে পড়ে পচে নষ্ট হচ্ছে। লোকসানের কারণে আমগান মালিকদের মধ্যে দানা বেধেছে ক্ষোভ। প্রশ্ন উঠেছে, রফতানিকারকরা ১২ টন আম কিনলে ২শ টন কেনা হবে বলে মৌখিক প্রচার করা হলো কেন? কেনই বা শুরুতে কৃষি বিভাগের তরফে সঠিক পদক্ষেপ নেয়া হলো না?
মেহেরপুর জেলার বহু আমবাগান মালিক ক্ষোভে ফুঁসছেন। মুজিবননগরের কয়েকজন উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট লিখিতভাবে নালিশ করে ক্ষতিপূরণ পাওয়ার ব্যবস্থা করে দেয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন। তারা বলেছেন, রফতানিকারকসহ কৃষি বিভাগের লোকজনের কথামতো আমে ব্যাগ পরিয়ে বিশেষ নজরদারিতে পুষ্ট করে তোলা হয়। যখন ওই আম কেনার কথা, তখন তাদের কারোরই দেখা মিলছে না। কৃষি সম্প্রসারণের কেউ কোনো দায়িত্ব নিচ্ছেন না। লাখ লাখ টাকার ক্ষতি গুনতে হচ্ছে। যাদের কারণে বড় ধরনের লোকসান গুনতে হচ্ছে তাদের নিকট থেকে ক্ষতিপূরণ আদায় করে দিতে হবে। প্রশাসন এখনই তৎপর হলে আম কেনার প্রতিশ্রুতিদাতাদের হাতের নাগালে পাওয়া সম্ভব। আম কিনবে বলে কথা দিয়ে তা চূড়ান্ত সময়ে না কেনা মানে শুধু কথার বরখেলাপই নয়, জেনেশুনে আর্থিক ক্ষতির দিকে ঠেলে দেয়া। এমনিতেই আমাদের সমাজে ফল ফলারি বিশেষভাবে সংরক্ষণের তেমন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে না পারার কারণে গাছ বা বাগানমালিকেরা ন্যায্যমূল্য পান না। এরপর বাড়তি খরচ করে গাছের ফল বিক্রি করতে না পারার কষ্ট নিশ্চয় মেহেরপুরের প্রশাসনিক কর্তারা উপলব্ধি করবেন।
যুগ বদলেছে। চলার আঁকাবাঁকা পথে ঘন ঘন যখন আচমকা বাঁক, তখন মৌখিক প্রতিশ্রুতির ওপর ভরসা করাটা কতোটা সঙ্গত? বিষয়টি নতুন করে ভেবে দেখার অবকাশ রাখে নিশ্চয়। অবশ্য শুধু বিদেশে রফতানিকারকদের প্রতিশ্রুতিতেই নয়, কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের কারো কারো সংশ্লিষ্টতার কারণে বাগানমালিকদের অনেকে বিশ্বাস করে আমে বাড়তি বিনিয়োগ করে এখন খতির শিকার হচ্ছেন। এ ক্ষতি শুধু বাগান মালিকদেরই নয়, সমাজেরও। একেতো বিশ্বাস ভঙ্গে আস্থাহীনতা, তার ওপর ফলফলারি পেকে নষ্ট হওয়ায় পুষ্টি বিনাশ। অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্ত আমবাগান মালিকেরা ক্ষতিপূরণের দাবি রাখেন। প্রশাসনের তৎপর হওয়া উচিত।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *