আবারওএইচএসসি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস

আবারওএইচএসসি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে। ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্রেই নেয়াহয়েছে পদার্থ বিজ্ঞান দ্বিতীয়পত্রের পরীক্ষা। ফাঁস হওয়াপ্রশ্নপত্র পরীক্ষার আগেই ছাপা হয়ে যাচ্ছে সংবাদপত্রে। মিলছে ইন্টারনেটেরবিভিন্ন সাইটে আর মোবাইলফোনের মাধ্যমে তা ছড়িয়ে পড়ছে দেশের প্রত্যন্তঅঞ্চলে। শুধু তাই নয়, প্রথমপত্র পরীক্ষার দিন দ্বিতীয় পত্রের প্রশ্নপত্র পরীক্ষার্থীদের মাঝে বিতরণ করে দায়িত্বহীনতার চিত্রও মাঝে মাঝে প্রকাশ পাচ্ছে। এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় চুয়াডাঙ্গা মহিলা কলেজেই ঘটেছে এমন ঘটনা।

প্রশ্নপত্র ফাঁস, প্রশ্নপত্র বিতরণে দায়িত্ব অবহেলার কারণে পরীক্ষা হয়ে উঠছে প্রহসন। সারা বছর ধরে যেসব শিক্ষার্থীপরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে, সেই শিক্ষার্থী যখন দেখছে পরীক্ষার আগেইনির্দিষ্ট প্রশ্নপত্র পেয়ে তাকে পেছনে ফেলে দিচ্ছে তারই অপরিশ্রমী ওঅমেধাবী সহপাঠী, তখন তার সান্ত্বনা কী? অধ্যাবসয়ী শিক্ষার্থীও কি শিক্ষাগ্রহণে মনোনীবেশ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে না?
মাত্র কয়েক দিন আগে চলমানএইচএসসি পরীক্ষার ঢাকা শিক্ষাবোর্ডের ইংরেজি দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষারপ্রশ্নপত্র ফাঁসের কারণে আগের দিন রাতে পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। সব পাবলিক পরীক্ষা ও বোর্ড পরীক্ষার ফাঁসকৃত ‘প্রশ্ন জোন’ নামে ফেসবুকের একটিঠিকানার মাধ্যমে এসব প্রশ্নপত্র ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে। প্রশ্ন ফাঁসের সাথেসংশ্লিষ্ট একটি চক্রই নাকি ফেসবুকের এ গ্রুপটি চালাচ্ছে। শিক্ষামন্ত্রীএকে স্রেফ গুজব বলে উড়িয়ে দেয়ার প্রয়াস পেয়েছেন। অথচ একের পর এক প্রশ্নপত্রফাঁসের ঘটনা শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং চিন্তাশীল নাগরিকদের মানসিকভাবেবিপর্যস্ত করে ফেলছে। এ প্রসঙ্গে বিশিষ্ট লেখক মুহম্মদ জাফর ইকবালেরবক্তব্যের সূত্র ধরে আমরা বলতে চাই, কোনো সমস্যার সমাধান করতে চাইলে আগেসমস্যাটিকে স্বীকার করতে হবে। তিনি প্রশ্ন রেখেছেন, একটি সমস্যা না দেখারভান করলেই কি সমস্যাটা মিটে যায়?সঙ্কটে পড়লে উটপাখি নাকি বালির ভেতর মাথাঢুকিয়ে দিয়ে লুকানোর চেষ্টা করে। সেখানে মাথা ঢুকিয়ে দিয়ে সে ভাবে, সে যখনকাউকে দেখতে পাচ্ছে না তখন অন্যরাও তাকে দেখতে পাচ্ছে না। অতএব সেআত্মগোপনে নিরাপদ! উটপাখির এ নিরাপত্তা দর্শনের মতোই কি আত্মতৃপ্তিতে আছেনআমাদের শিক্ষামন্ত্রী এবং শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা?

প্রশ্নপত্র ফাঁস করারঘটনা এখন একটি সংঘবদ্ধ অপরাধে পরিণত হয়েছে। একে হালকাভাবে নেয়া কিংবা এঅপরাধ সম্পর্কে উদাসীন থাকা কোনোমতেই কাম্য হতে পারে না। প্রশ্নপত্র নিয়েছিনিমিনি খেলার এ কর্মকাণ্ডকে কঠোর হাতে দমন করতে হবে। কারণ এটি আমাদেরশিক্ষাব্যবস্থাকে হুমকির সম্মুখিন করছে। এক্ষেত্রে সব দায়িত্ব কেবল মন্ত্রীকিংবা সরকারের একার- আমরা এমনটিও মনে করি না।

তেমনি একই সাথেঅভিভাবক ও শিক্ষার্থীদেরও বলতে চাই, তারা যেন প্রশ্নপত্র ফাঁসেরপ্রক্রিয়াকে কোনোভাবেই সমর্থন না করেন, সহায়তা না দেন। তারা যেন ক্রেতায়পরিণত না হন ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্রের। ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্র কিনে ক্রেতারভূমিকা নিয়ে শিক্ষাকে যেন তারা পণ্যে পরিণত না করেন। শিক্ষার সাথে জড়িতসবাইকে এক হয়ে এ সমস্যার সমাধানে এগিয়ে আসতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই। কেবলঅন্যের ঘাড়ে দায় চাপিয়ে এ সমস্যার সমাধান মেলবে না।

Leave a comment

Your email address will not be published.