আগ্রাসী অবিশ্বাসে গিলে খাচ্ছে স্বস্তি : নিরুপায় সমাজ

জালটাকা কারবারীচক্র প্রতিবছর কোরাবানির ঈদকে সামনে নিয়ে বেপরোয়া হয়ে ওঠে। এবারও তার আলামত স্পষ্ট। মেহেরপুরের গাংনীসহ পার্শ্ববর্তী এলাকার কয়েকজন ধরাও পড়েছে। এরা পশুহাটগুলোর পাশাপাশি ব্যস্ত বিপণীবিতান কেন্দ্রগুলোতেই শিকার খুঁজতে থাকে। একটু অসতর্ক হলেই সর্বনাশ হয়ে যাবে। কারণ জালটাকা যার কাছে থাকে বিধি অনুযায়ী তাকেই আইনের মুখোমুখি হতে হয়। জালটাকার কারবার রোধে অবশ্য পশুহাটগুলোতে টাকা শনাক্তের যন্ত্র স্থাপন করা হয়েছে। তারপরও প্রতারকচক্র সুযোগ বুঝে তা গছিয়ে দিতে পারে। সর্বদা সতর্কতার বিকল্প নেই। কিন্তু কতোক্ষণ আর ওইভাবে সতর্ক থাকা যায়? অবিশ্বাসের সাথে বসতকারী ক’দিনই আর সুস্থ থাকতে পারে?

 

শুধু কি জালটাকা? চুরি, ডাকাতি, রাহাজানি ও চাঁদাবাজির পাশাপাশি অজ্ঞানপার্টির উৎপাত লেগেই আছে। রাস্তায় বেরিয়ে সুহালে বাড়ি ফেরার নিশ্চয়তা যে হারে হ্রাস পাচ্ছে, তাতে প্রতিবার রাস্তায় বের হওয়ার আগে মরণ বিদায় নিয়ে বের হওয়াই যেন ভালো। স্বাভাবিক মৃত্যুর নিশ্চয়তা কবে কীভাবে উবে গেছে তা সমাজের বোদ্ধারাও বোধকরি স্মৃতিতে আনতে পারবেন না। সড়কে শুধু কি পকেটমার প্রতারকচক্র? ছিনতাই রাহাজানির পাশাপাশি বৈধ-অবৈধযানের বেপরোয়া চলাচল। পথচারীদের প্রাণটা যেন হাতের মুঠোতেই। এর মধ্যদিয়েও নিজেকে নিরাপদে চলার মতো সজাগ থাকতে হবে। বেখেয়ালে বড় ধরনের ক্ষতির ঝুঁকি পদে পদে। আশেপাশেই ঘুর ঘুর করছে প্রতারকচক্র। কেউ ঘুরছে জালটাকা গছিয়ে দেয়ার জন্য, কেউ কেউ পকেটকাটা দক্ষ ব্লেডধারী, কারো কারো হাতে অবৈধ হাতিয়ার। এদের যারা ধরে আইনে সোপর্দ করবে তাদের কারো কারো কার্যকলাপ হতাশার আরও বড় কারণ। এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে হবে। পরিত্রাণের অন্যতম উপায় হলো দায়িত্বশীলতা। তাতে অনেক সমস্যা! চাকরি নিতেই যখন কাড়ি কাড়ি টাকা উৎকোচ, পোস্টিঙেও কর্তাকে খুশি করতে পারার প্রতিযোগিতা- সেখানে দায়িত্ব পালনের তাগিদ কতোটুকু থাকে?

 

যে যেখানে আছি, যার যা দায়িত্ব তা যদি সুহালে স্বচ্ছতার সাথে পালন করি তাহলে সমাজের তথা দেশের চিত্রটাই যে পাল্টে যাবে তা নিয়ে সন্দেহ নেই। কিন্তু তা কীভাবে হবে? সকলেই নিজের ভালো থাকাটা নিশ্চিত করতে গিয়ে গোটা সমাজকেই জঞ্জাল করে তুলছি। দুর্নীতির প্রতিযোগিতার কাছে নীতি অসহায় উঠেছে। পেছনে পড়ে কে আর বোকা হতে চায়? যেনতেনভাবে এগিয়ে যাওয়ার চরম ক্ষতিকর অসুস্থ প্রতিযোগিতারই খণ্ডচিত্র ওই জালটাকা। অজ্ঞানপার্টিও সেই  একই গোত্রভুক্ত বললে নিশ্চয় ভুল হয় না। সমাজকে সুস্থ এবং স্বস্তিকর পথে নিতে দায়িত্বশীল মানুষগুলোর কুম্ভঘুম ভাঙাতে হবে। নীতির মূল্যায়ন করতে হবে। হতাশার দীর্ঘশ্বাস মাখা প্রশ্ন- প্রজন্ম কি তা পারবে?

Leave a comment

Your email address will not be published.