আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নে কালবিলম্ব কাম্য নয়

ডাকাতি ছিনতাই চুরি রাহাজানি বেড়ে যায় মূলত দুটি কারণে, এর একটি দুর্ভিক্ষ অপরটি আইনশৃঙ্খলার অবনতি। চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুরসহ পার্শ্ববর্তী এলাকায় আশঙ্কাজনক হারে ডাকাতি ছিনতাই বৃদ্ধি পেয়েছে। এখনো অতোটা অভাব দেখা দেয়নি যাকে দুর্ভিক্ষ বলা যায়, তাহলে এতো ডাকাতি ছিনতাই রাহাজানি কেন? আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কাজে নিয়োজিতদের কর্তব্য অবহেলা নাকি অন্য কিছু? কর্তব্যপরায়ণতায় যে ঘাটতি আছে তা যুক্তি দেখিয়ে খণ্ডন করা গেলেও সমাজের বর্তমান বাস্তব চিত্র কিন্তু অনাকাঙ্ক্ষিত। পুলিশি তৎপরতা জোরদার করা না হলে অপরাধীচক্র অচিরেই বেপরোয়া হয়ে উঠতে পারে, উঠছেও। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নে কালবিলম্ব কাম্য নয়।

পুলিশের অপ্রতুলতা তো রয়েছেই। এরপরও এই পুলিশ-ই পারে, আবার পারে না। কেন পারে কেন পারে না, কখন পারে কখন পারে না, তা নিয়ে আলোচনা করে শেষ করা কঠিন। পক্ষে বিপক্ষে যুক্তি রয়েছে বিস্তর। রাজনৈতিক নেতাদের কারো কারো সুবিধা অসুবিধার বিষয়টি থাকে। কখনো কখনো পদস্থ কর্তার ফোন কর্তব্যপরায়ণতা থেকে দূরে সরাতে পারে। আর কোনো অফিসারকে যদি অর্থের বিনিময়ে পোস্টিং নিতে হয়! তাহলে সেই অফিসার দায়িত্ব পালনের ফাঁকে অর্থ তোলার চেষ্টা কি করবেন না? ওই অর্থ কার নিকট থেকে আদায় করবেন? জনগণের নিকট থেকে নিশ্চয়। এই জনগণ কারা? চোখ মেললেই কষ্টের বহু ছবি দেখা যায়। প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে বাইরে বের হয়ে পুলিশের সামনে পড়ে গ্রামের বহু সরলসোজা মানুষের হায়রানির শিকার হতে হয়েছে। রাস্তায় চলাচল করতে গেলে কতোটা বিড়ম্বনার মাঝে পড়তে হয় তা ট্রাক চালকমাত্রই জানেন। শ্যালোইঞ্জিনচালিত অবৈধযান থেকে অর্থ আদায় তো প্রকাশ্যেই চলে, চলছে। চোরাচালান আর মাদক? মাসোহারা না পেলে কেবলমাত্র এই মাদককারবারীকেই ধরা হয়। অভিযান চালানো হয় তার আস্তানায়। কালেভাদ্রে ধরা হয় পাচারকারীকে। উদ্ধার করা হয় মাদক। অবস্থা দৃষ্টে দীর্ঘশ্বাসই যেন বাড়ছে। সম্প্রতি চুরি ডাকাতি ছিনতাই রাহাজানি বৃদ্ধির বিষয়টিকে ঠিক কোন খাতে নেয়া উচিত? যে হারে অপরাধীচক্রের অপতৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে সেই হারে পুলিশি অভিযান কি পরিলক্ষিত হচ্ছে? অপরাধমূলক ঘটনা ঘটনোর আগেই আটক দূরাস্ত, অপরাধ করার পরও অপরাধীদের অধিকাংশই ধরা পড়ছে না। ফলে অপরাধীরা হয়ে উঠছে বেপরোয়া, জণগণ ভুগছে আতঙ্কে। জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব তো পুলিশেরই।

চুয়াডাঙ্গা মেহেরপুরসহ পার্শ্ববর্তী এলাকার সন্ত্রাসকবলিত কলঙ্ক এখনও মুছেনি। মাঝে মাঝেই বোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হচ্ছে। আতঙ্ক সৃষ্টি করে দাবি করা হচ্ছে চাঁদা। রয়েল এক্সপ্রেস নামের এক পরিবহন সংস্থার মালিকপক্ষের নিকট চাঁদা দাবি করা চাঁদাবাজচক্রের দুজনকে চুয়াডাঙ্গা পুলিশ অবশ্য হাতেনাতে পাকড়াও করে বেশ প্রসংশিতও হন। একের পর এক ডাকাতি ছিনতাই ও বোমা নিক্ষেপের ঘটানার সাথে জড়িতরা ধরা না পাড়ায় ম্লান হয়ে যাচ্ছে ওই প্রশংসা। পুলিশকে পারতে হবে। পারতে হলে জনগণের সহযোগিতা দরকার। সহযোগিতা পেতে হলে জনগণের আস্থা অর্জনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাসমূহর দায়িত্বশীল কর্তাদের কর্তব্যপরায়ণ হতে হবে। বদলাতে হবে চলমান ধারা।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *