আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ক্রমাবনতি নয়, ক্রমোন্নতি কাম্য

চুয়াডাঙ্গার অপরাধীরা কি হঠাৎ করে বেপরোয়া হয়ে উঠলো? নাকি সুযোগ বুঝে একের পর এক ছিনতাই, ডাকাতি, খুন-খারাবিতে মেতে উঠেছে? যেটাই হোক, আইনশৃঙ্খলার এ পরিস্থিতির দায় পুলিশ প্রশাসন এড়াতে পারে না। পুলিশে অপ্রতুলতা কাটিয়েই শুধু ওঠা হচ্ছে না, অনেকটা ঢেলেও সাজানো হচ্ছে। তাছাড়া চুয়াডাঙ্গায় থানার পাশাপাশি পঁয়ত্রিশটির মতো পুলিশ ফাঁড়ি। এরপরও কি অপরাধীদের বেপরোয়া হওয়া বা তাদের সুযোগ বুঝে অপরাধমূলক কর্মকা-ে মেতে ওঠার বিষয়টি মেনে নেয়া যায়?
চুয়াডাঙ্গার চিহ্নিত কয়েকটি সড়কে সন্ধ্যার পর পরই ছিনতাইকারীরা সুযোগ নিচ্ছে। জীবননগর এলাকায় ডাকাতি যেন লেগেই রয়েছে। আলমডাঙ্গায় কয়েকদিনের ব্যবধানে দুজন খুন হয়েছে। আলমডাঙ্গার পল্লি খাসকররার কায়েতপাড়া বাঁওড় মৎস্যজীবী কমিটির সভাপতির নিকট মোটা অঙ্কের চাঁদাদাবির পর বাড়ির সামনে গুলিবর্ষণ, বোমা বিস্ফোরণের পর চূড়ান্ত হুঙ্কারের পর খুনের ঘটনাটি কোনোভাবেই খাটো করে দেখা উচিত নয়। আর আলমডাঙ্গার রেলজগন্নাথপুর গ্রাম সংলগ্ন মাঠে একজন কৃষককে মাঠে হত্যা করে পালিয়েছে একজন। এ খুনের ঘটনাটি জমি-জমা নিয়ে বিরোধের জের হলেও সমাজের বাইরের কোনো ঘটনা নয়। যেকোনো অপরাধের দায়ে প্রকৃত অপরাধীর উপযুক্ত শাস্তির বিষয়টি নিশ্চিত করতে না পারার জন্য অপরাধপ্রবণতা বৃদ্ধি পায়। জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে খুনের ঘটনাটি যে তারই ধারাবাহিকতার অংশ তা পুরোটা অস্বীকার করার জো নেই। আর মৎস্যজীবী সমিতির সভাপতিকে খুন? পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, বাঁওড়ের কর্র্তৃত্ব নিয়ে আভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে খুনের ঘটনা ঘটে থাকতে পরে। মামলাটি তদন্তাধীন। ইতোমধ্যে দুজনকে গ্রেফতারও করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা সন্দেহভাজন। মৎস্যজীবী সমিতির সভাপতি খুনের পর লাশ উদ্ধারের সময় পুলিশের তরফে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এলাকাবাসীকে আশস্ত করে বলেন, খুনের পর যেহেতু আমরা খুনিদের মোটামুটি শনাক্ত করতে পেরেছি, সেহেতু সাধারণ কোনো মানুষ যাতে ন্যূন্যতম হয়রানির শিকার না হন, সেটা শতভাগ নিশ্চিত করার চেষ্টায় কমতি রাখবে না পুলিশ। পুলিশের এ প্রতিশ্রুতি ইতিবাচক এবং সমাজের জন্য স্বস্তির। অপরদিকে একের পর এক সড়কে গাছ ফেলে ছিনতাই, বাড়িতে ঢুকে ডাকাতির ঘটনার পরও অপরাধীদের তেমন কেউ ধরা পড়ছে বলে মনে হচ্ছে না। কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে পুলিশ দাবি করলেও তাদের নিকট থেকে ছিনতাই-ডাকাতির মালামাল উদ্ধার হচ্ছে না। তাছাড়া ডাকাতি, খুন বা অন্য কোনো অপরাধমূলক ঘটনার পরে নয়, পূর্বেই তো অপরাধী ধরা পড়ার কথা।
পুলিশ পারে, পুলিশ পারে না। পুলিশ কখন পারে, কখন পারে না, তা বোদ্ধাদের বুঝতে বাকি থাকে না। চুয়াডাঙ্গায় দীর্ঘদিন ধরে আইনশৃঙ্খলা শুধু স্বাভাবিকই পরিলক্ষিত হয়নি, রাজনৈতিক হানাহানিও বহুলাংশে বন্ধ ছিলো। চুয়াডাঙ্গাসহ পার্শ্ববর্তী এলাকা একসময় সন্ত্রাসকবলিত হিসেবে চিহ্নিত হলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাসমূহের সদস্যদের নিরালস বিচক্ষণতায় পর্যায়ক্রমে অর্জিত পরিস্থিতি পুলিশের প্রতি সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা বাড়িয়েছে বহুগুণ। তারই ধারাবাহিকতায় পরিস্থিতির ক্রমাবনতি নয়, ক্রমোন্নতি কাম্য।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *