অবৈধভাবে বিদেশ যাত্রা

 

ইউরোপে পাড়ি জমানোর উদ্দেশ্যে তুরস্কে পৌঁছানোর পর অন্তত দুই হাজার বাংলাদেশির আটকে পড়ার খবর উদ্বেগজনক। ইদানীং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ, বিশেষ করে ইরান, লেবানন ও জর্ডানে বৈধভাবে কর্মরত বাংলাদেশিদের মধ্যে তুরস্ক গমনের প্রবণতা বেড়েছে। এর পেছনে রয়েছে অবৈধ পন্থায় ইউরোপে প্রবেশের আকাঙ্ক্ষা। তুরস্কে সক্রিয় মানবপাচারকারী দলের প্রলোভনে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে যাওয়ার আশায় বাংলাদেশিরা যে ঝুঁকি নিচ্ছেন তা মরীচিকা মাত্র, এতে কোনো সন্দেহ নেই। কারণ তুরস্ক হয়ে ইউরোপে পাড়ি দেয়া প্রায় অসম্ভব ও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। তারপরও অনেক বাংলাদেশি এ পথ বেছে নিচ্ছেন এবং সমুদ্র পাড়ি দেয়ার সময় মারা পড়ছেন, যা দুঃখজনক।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের পরিসংখ্যান সংস্থা ইউরোস্ট্যাটের ভাষ্যমতে, ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত বিভিন্ন দেশে কমপক্ষে ৯৩ হাজার অবৈধ বাংলাদেশি রয়েছেন। দুশ্চিন্তার বিষয় হলো- শুধু ইউরোপ নয়, সংঘবদ্ধ মানব পাচারকারী দলের প্ররোচনায় মধ্যপ্রাচ্য ও মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে অবৈধ পথে পাড়ি জমাতে গিয়ে অনেক বাংলাদেশি নিজেদের বিপদের মুখে ঠেলে দিচ্ছেন। এ প্রবণতা বন্ধ হওয়া উচিত। মানব পাচারের মতো অপরাধ রোধে সরকারের কার্যকর উদ্যোগ যেমন প্রয়োজন, তেমনি বিদেশ গমনেচ্ছুদেরও সতর্ক ও সচেতন হওয়া জরুরি। মানব পাচার মূলত আন্তঃদেশীয় সমস্যা। কোনো দেশের একার পক্ষে এ সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। মানব পাচার প্রতিরোধে জনশক্তি রফতানিকারী, ট্রানজিট ও জনশক্তি গ্রহণকারী দেশগুলোর একযোগে কাজ করার মানসিকতা নিয়ে এগিয়ে আসা উচিত।

কর্মসংস্থান ও উন্নত জীবন লাভের আশায় বিদেশে পাড়ি জমাতে গিয়ে দুর্ভাগ্যজনকভাবে বাংলাদেশিরা কেবল প্রতারণা ও হয়রানি নয়, মারাও যাচ্ছে। এর ফলে কেবল বিদেশ গমনেচ্ছু ব্যক্তি ও তার পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে না, দেশও অপরিমেয় ক্ষতির মুখে পড়ছে। অর্থনীতিতে কৃষির পরই প্রবাসী আয়ের স্থান। জনশক্তি রফতানি খাতে অনিয়ম-অব্যবস্থাপনা দূর করা গেলে অবৈধ পন্থায় বিদেশ গমনের প্রবণতা যেমন হ্রাস পাবে, তেমনি রেমিটেন্স প্রবাহে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে, যা হবে দেশের জন্য কল্যাণকর। অবৈধ বাংলাদেশিদের ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও বাংলাদেশের মধ্যে একটি প্রক্রিয়াগত চুক্তি স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউরস (এসওপি) সই করার বিষয়ে আলোচনা চলছে। এটি সফল না হলে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ভিসায় কড়াকড়ি আরোপ করতে পারে ইইউ, যা আমাদের জন্য শুভ হবে না।

আমাদের স্বার্থেই অবৈধ অভিবাসীদের ইউরোপ থেকে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করা দরকার। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের বৈধ কর্মসংস্থান ছেড়ে ইউরোপ গমনের অলীক বাসনায় কোনো বাংলাদেশি যাতে তুরস্কের মাটিতে পা না রাখে, এ ব্যাপারে সেখানকার দূতাবাসগুলোর সক্রিয় ভূমিকা কাম্য।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *