অবশ্যই পালাবদলের রেওয়াজ বদলাবে তবে…

অবরোধের আগুন, ককটেল এবং পাল্টা গুলি রাবার বুলেটে শুধু মানুষ মরছেই না, আন্দোলনের আঁচে সারাদেশের মানুষ সেদ্ধ হচ্ছে। ফুটন্ত পানিতে পড়লে যেমনটি হয়। কবে এ আঁচ থেকে মুক্তি মিলবে, কবে সাধারণ মানুষ সুষ্ঠু পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাবে? এসব প্রশ্নের জবাব মিলছে না। জাতিসংঘের প্রতিনিধি দেশের প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষ নেতৃবৃন্দের সাথে মতবিনিময় করেছেন। সকল দলের অংশগ্রহণে সুষ্ঠু অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ গড়তে তার এ সফর কতোটা সহায়ক হবে তা দেখতে দেশবাসী উদগ্রীব। নাকি শেষ পর্যন্ত সেই জরুরি অবস্থা?

 

লাগাতার অবরোধ কর্মসূচি যখন কৃষক থেকে শুরু করে ছোট-বড় সব ধরনের ব্যবসায়ীর ভয়াবহ ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে তখন তা আহ্বানকারীদের দায়িত্বশীলতা নিয়ে প্রশ্ন উঠা অমূলক নয়। একইভাবে বিরোধীদলীয় জোটকে তোয়াক্কা না করে এককভাবে নির্বাচনের পথে হাঁটাও কি সমর্থনযোগ্য? বিরোধীদলকেও কথা বলার সুযোগ দিতে হবে, বিরোধীদলকেও দেশের সাধারণ মানুষের কথা ভাবতে হবে। সরকারকে ব্যর্থ করতে গিয়ে আমজনতাকে পুড়িয়ে মারা, অনাহারের দিকে ঠেলে দেয়াকে রাজনীতি এবং রাজনীতির সংজ্ঞাভুক্ত বলে দাবি করা গেলেও তা যে অশ্রদ্ধা বাড়াচ্ছে তা বলাই বাহুল্য।

 

বিএনপি ১৯৯৬’র ১৫ জানুয়ারি একতরফা নির্বাচন করে ক’দিন টিকে ছিলো? সে নির্বাচনে কার কতোটা লাভ কার কতোটা ক্ষতি হয়েছে রাজনৈতিক সচেতনদের কাছে তা অজানা নয়। খানেকটা সেই একই ধাচে আবারও একতরফা নির্বাচনের ডামাডোল একদিকে, অন্যদিকে আন্দোলনের নামে টানা অবরোধ। বাসে আগুন দেয়া, মানুষ মারা নতুন সংস্কৃতি না হলেও রেলওয়েতে নাশকতা গোটা বিশ্বের কাছে আমাদের অসভ্যতাটাই প্রকাশ পাচ্ছে। পুলিশকে করে তোলা হয়েছে আন্দোলনকারীদের প্রতিপক্ষ। এটাও নতুন সংস্কৃতি নয়। যখন যারা ক্ষমতায় তখন তাদেরকেই তাদের পক্ষে পুলিশকে ব্যবহার করতে দেখা যায়।

 

প্রশ্নগুলো খুবই সঙ্গত, বারবার কেন সরকার বদল হয়? প্রতিবারই কেন নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ গড়তে, সকল দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার বদলে ক্ষমতাসীনদের শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশ গড়ার পথেই হাঁটতে হয়। হতে হয় অগণতান্ত্রিক? নানামুখি জবাব আছে। উন্নয়নশীল দেশে সাধারণ ভোটারদের প্রত্যাশা পূরণ সত্যিই কঠিন। তাছাড়া বেফাঁস মন্তব্যে ক্ষোভ সঞ্চার তো বাড়ায়ই। নীতি, আদর্শ এবং উদ্দেশ্য বিশ্লেষণের মতো রাজনৈতিক সচেতনতা সৃষ্টি করতে পারলে অবশ্যই পালাবদলের রেওয়াজ বদলাবে। এ জন্য যেমন দরকার স্থানীয় সরকারগুলোর ক্ষমতায়ন এবং নির্বাচন কমিশনকে পূর্ণস্বাধীন কমিশনে রূপায়ন।

 

পোশাক পরলেই কোনো জাতিকে যেমন পূর্ণসভ্য বলা যায় না, তেমনই পেশিশক্তি প্রয়োগই রাজনীতির মূলমন্ত্র বা মূল স্তম্ভ হতে পারে না। যদিও বন্দুকের নলই ক্ষমতার উৎস বলে কোনো কোনো রাজনৈতিক বিগতদিনে দাবি করলেও বর্তমানে আমূল পরিবর্তন হয়েছে। বিশ্বজুড়ে বদলেছে তাদের স্লোগান ও অবস্থান। দেশে যা হচ্ছে তা সভ্যতা বলে দাবি করা যায় না। উন্নয়ন ও অধিকার নিশ্চিত করার মধ্যদিয়ে যে রাজনীতি সেই গণতন্ত্রেরই কদর বাড়ছে। দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা পাক, বন্ধ হোক হানাহানি। সর্বস্তরে গড়ে উঠুক সম্প্রীতি। নেলসন ম্যান্ডেলার চিরবিদায়ের শোক আমাদের সভ্য হতে সহায়ক হোক।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *