অপরাধ করে পার পেলে অপরাধ প্রবণতা বাড়ে

 

চোর কেন চুরি করে? এ প্রশ্নের উভমুখি বিষদ জবাব আছে। অবাক হলেও সত্য যে, পদ্মার চর এলাকায় এমন কিছু গ্রাম আছে যে গ্রামের ৯০ ভাগ পুরুষই চোর। যেমন চুয়াডাঙ্গা আলমডাঙ্গার সাহেবপুরের অধিকাংশ নারী-পুরুষ ভিক্ষুক। ভিক্ষাবৃত্তিকে এক সময় পেশা বলা হলেও বর্তমানে আইনের দৃষ্টিতে দণ্ডনীয় অপরাধ। চোর্যবৃত্তি? বহুদিন ধরেই আইনে এবং সামাজিক দৃষ্টিতে দণ্ডনীয় অপরাধ। চুরি নিশ্চয় খুনের মতো অতোটা গুরুতর অপরাধ না হলেও কোনো কোনো চুরি খুনের চেয়ে বেশি সন্ত্রস্ত করে তোলে, আতঙ্কিত করে। যেমন চুয়াডাঙ্গার সোনা রূপার গয়না ব্যবসায়ীদের মধ্যে চরমভাবে চুরি আতঙ্ক ছড়িয়েছে। চুয়াডাঙ্গা সদর থানার প্রধান ফটকের নিকটস্থ একটি জুয়েলার্সের দেয়াল কেটে বা ভেঙে কমপক্ষে ২১ লাখ টাকার সোনা এবং সোনার গয়না চুরির পর চুরি আতঙ্ক ছড়ানো অমূলক নয়।

 

চুয়াডাঙ্গা সদর থানার সামনের জুয়েলার্সের দেয়াল ভেঙে বা কেটে চোর ভেতরে প্রবেশ করে লোহার দুটি সিন্দুক ভেঙেছে। সেখানে থাকা কমপক্ষে ৫০ ভরি ১০ আনা সোনা ও সোনার গয়না চুরি করেছে একদল চোর। দলবদ্ধ চোরই তো! যেভাবে দেয়াল কেটে বা ভেঙে লোহার সিন্দুকের লক গুঁড়িয়ে চুরি করা হয়েছে তা দেখে যে কেউই বলবেন, একা কারোর পক্ষেই এ চুরি সম্ভব নয়। তাছাড়া দুঃসাহসিক এ চুরির নকশাও একদিনের নয়। পরিকল্পিতভাবে দেয়ালের মাপজোক করেই চোর তা কেটেছে। ঠিক যেখানে নোনাধরা এবং ভেতরে প্রবেশ উপযোগী ঠিক সেখানেই কাটা হয়েছে। এখন প্রশ্ন সংঘবদ্ধ চোর কখন চুরির ঘটনাটি ঘটালো? ঈদের দিন নাকি ওইদিন রাতে? নৈশপ্রহরীকে থানায় নিয়ে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি বলেছেন, ওইদিন একটু বিলম্বে কাজে যোগ দিয়েছিলেন। তেমন কোনো শব্দ তিনি পাননি। চোরচক্রের সাথে তার সম্পৃক্ততা নেই বলেই জানিয়েছেন। পুলিশ তাকে যেমন থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে, তেমনই জাফরপুরের বহুল আলোচিত ফারুক এবং দৌলাতদিয়াড় চুনুরীপাড়ার ফিটিং নামের দু ব্যক্তিকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। পুলিশ বলেছে, ফিটিং তালা ভাঙা ও লকার গুঁড়িয়ে দেয়ার কাজে বেশ পারদর্শী। আর ফারুকের বিরুদ্ধে রয়েছে মাদকসহ আন্তঃজেলা চোরচক্রের যোগাযোগ। এছাড়াও দুজনকে গ্রেফতার দেখিয়ে ইতোমধ্যেই আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণের ব্যবস্থা করেছে। ঘটনার কয়েকদিন অতিক্রম হলেও পুলিশ চোরাই সোনা ও সোনার গয়না উদ্ধার যেমন করতে পারেনি, তেমনই গ্রেফতারকৃতদের নিকট থেকে উদ্ধার করতে পারেনি তেমন জোরালো তথ্য। তবে চেষ্টা চলছে বলে দাবি করেছে পুলিশ। ওই এলাকায় কর্তব্যরত নৈশপ্রহরীকে থানায় নিয়ে দুদিন ধরে লাগাতার জিজ্ঞাসাবাদ করা হলেও ঘটনার দিনে ও রাতে থানার গেটে কর্তব্যরত প্রহরীদের কাউকে আটকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে কি-না তা অবশ্য জানানো হয়নি। প্রকৃত চোর চোরচক্রের হোতাকে ধরতে না পারলে চুরির ঘটনা বৃদ্ধি পাবে। আতঙ্ক শুধু চুয়াডাঙ্গায় নয়, পার্শ্ববর্তী ঝিনাইদহ ও মেহেরপুরের জুয়েলার্স ব্যবসায়ীদেরও পেয়ে বসবে।

 

সোনার দোকানের চুরিকে তো আর ভাত বা গোলার দু এক মণ ধান চুরির সাথে তুলনা করলে চলে না। চুয়াডাঙ্গা জেলা শহরে গ্রিল কেটে তালা ও আলমারি ভেঙে চুরি কিছুদিনের জন্য যেন থেমেছে। গত রোজার মধ্যেও চুয়াডাঙ্গা জেলা শহরে বাসা বাড়ির গ্রিল কেটে তালা ও আলমারি ভেঙে চুরির যেন হিড়িক ছিলো। কয়েকজনকে পুলিশ গ্রেফতার করতেই সেই ধারাবাহিক চুরিতে ছেদ পড়েছে। গ্রেফতারকৃতদের কয়েকজনের নিকট থেকে চোরাই কিছু মালামাল উদ্ধার হলেও অধিকাংশ মালামালই থেকে গেছে উদ্ধার না হওয়ার তালিকায়। ইতোমধ্যেই সে চোরচক্রের সদস্যরাও জামিনে মুক্ত হয়েছে। এরই মাঝে জুয়েলারি দোকানে চুরি। দুঃসাহসিক চুরি করে পার পেলে চোরচক্র যে বেপরোয়া হয়ে উঠবে তা বলাই বাহুল্য। কেননা, একটি অপরাধ করে পার পেলে অপরাধ প্রবণতা বাড়ে। চোর ধরতে হবে, বন্ধ করতে হবে চুরি।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *