অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী প্রাপ্য শাস্তি নিশ্চিত করা দরকার

দাম্পত্য যে সুতোর ওপর ভর করে টিকে থাকে তার নাম বিশ্বাস। বিশ্বাস নামক সুতোয় গাঁথা স্বামী-স্ত্রীর বন্ধনে তখনই চির ধরে যখন সন্দেহ পেয়ে বসে। সন্দেহনামক ঘুণ তাদেরই দাম্পত্যের সুখ কুরে কুরে খায় যাদের মধ্যে একজন সন্দেহবাতিকগ্রস্ত। সঙ্গত কারণেই প্রশ্ন উঠতে পারে, সন্দেহবাতিকগ্রস্ততা কি তা হলে রোগ? অবশ্যই মানসিক সমস্যা। যে সমস্যার বীজ অঙ্কুরিত হওয়ার যৌক্তিক-অযৌক্তিক কারণ থাকে। (অ)কারণে আগাছাও তো জম্মায়!
চুয়াডাঙ্গা জেলা সদরের পদ্মবিলা ইউনিয়নের গোপিনগরের রহম আলী যে বাতিকগ্রস্ত তা নতুন করে বলার অবকাশ রাখে না। সন্দেহের বাতিকগ্রস্ততাই শুধু তার মধ্যে বিদ্যমান নয়, স্ত্রীকে জবাই করে সটকানোর পর তার সম্পর্কে পরিবারের সদস্যসহ পড়শি প্রবীণেরা যে তথ্য দিয়েছে তা চমকে ওঠার মতোই। অবশ্য ওই রহম আলীর মতো (অ)মানুষ সমাজে কম নয়। তাদের নির্যাতন নিপীড়নে বহু আলেয়ার জীবনটাই অতিষ্ঠ হয়ে ওঠেছে। জীবন মানেই যন্ত্রণা হয়ে দাঁড়িয়েছে। শত নির্যাতন সহ্য করেও আলেয়া তার স্বামীর সন্দেহ কাটিয়ে মন জয় করতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত তাকে তার স্বামীর হাতে নৃশংসভাবে প্রাণ দিতে হয়েছে। এর মধ্যদিয়ে রহম আলী নামক মানুষটার যে অমানুষত্ব প্রকাশ পেয়েছে তার উপযুক্ত শাস্তি অনিবার্য। তা না হলে ওর মতো (অ)মানুষদের হিংস্রতায় ঝরবে অনেকেরই রক্ত।
রহম আলীর উপযুক্ত শাস্তির দাবি তার বিগত দিনের অপকর্ম বিশ্লেষণে খাটো হয়ে যায়। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিই কাম্য। প্রথম স্ত্রীকে পিতার বাড়ি রেখে অন্যের সাথে প্রমোদে মেতে জনতার হাতে ধরা পড়ে বিয়ে করে। দ্বিতীয় স্ত্রীকে প্রাণ দিতে হয় নির্মমভাবে। সে দফায় প্রায় তিন বছরের হাজতবাস হলেও রহম আলীর ভেতরের পশুত্ব তাড়ানো যায়নি। সে দফায় উপযুক্ত শাস্তি হলে ৪ সন্তানের জননীর নিশ্চয় দু’যুগ ধরে নির্যাতন সহ্য করতে হতো না, দিতে হতো না প্রাণ। আলেয়ার ওপর যে নির্যাতন করা হয়েছে, যেভাবে করা হয়েছে তার বর্ণনা শুনেই গা শিউরে ওঠে। যে দু কন্যার সামনে ঘটেছে নৃশংসতা তাদের মানসিক অবস্থা কেমন হতে পারে? সুস্থতা দরকার, দরকার সুস্থ স্বাভাবিক জীবনযাপনে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসহ তাদের সার্বিক নিরাপত্তা। অবশ্য ঘাতক রহম আলী দ্রুত গ্রেফতার হওয়ায় দু কন্যার কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরেছে।
অবশ্যই সমাজের অমানুষগুলোকে সুপথে রাখতে তথা মানুষ হিসেবে চলাতেই বিধি-বিধান, বিচার-শাসন ব্যবস্থা। সকলের অপরাধ যেহেতু প্রকাশ্যে আসে না, সেহেতু যে দু একজনের অপকর্ম আমলে আসে তাদেরই দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক বিচার হওয়া দরকার। প্রকৃত দোষী বা অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে পারলে সমাজে অপরাধ প্রবণতা হ্রাস পেতে বাধ্য। সুন্দর সমাজ গঠনে অন্যতম শর্ত প্রকৃত দোষী শনাক্তে দক্ষযুক্ত স্বচ্ছ্ব তদন্ত, অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী প্রাপ্য শাস্তি নিশ্চিত করা।
পুনশ্চ: কিছু রোগের ওষুধের আসল নাম শাস্তি : আগাছা? উপড়ে ফেলাই ভালো।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *