অতিরঞ্জিত সকল ক্ষেত্রেই ক্ষতির কারণ

উঠতি বয়সীদের সব কথাই যেমন বিশ্বাস করা যায় না, তেমনই অবিশ্বাসে উদাসীনতাও অনেক সময় সর্বনাশের কারণ হতে পারে। ফলে শিশুকাল থেকেই ওদের সুপথে রেখে, সুনাগরিক হিসেবে তোলার জন্য বাড়ির বড়দের দায়িত্ব অনেক। পরিবারের দায়িত্বশীলতা শতভাগ না হলেও সিংহভাগ সুফল বয়ে আনে। কেননা, সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার জন্য প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি পরিবার নামক শিক্ষালয়ের গুরুত্ব কোনো অংশে কম নয়, বরঞ্চ অনেকাংশে অনেক বেশিই গুরুত্ব বহন করে। সে হিসেবে বাড়ির লোকজনকে শিশু বা উঠতি বয়সীর সামনে সব কিছুই সতর্কতার সাথে করা উচিত। ওদের কোনো কিছু নিয়ে যেমন বেশি মাতামাতি চলে না, তেমনই উঠতি বয়সীর চলন-বলনে ফুটে ওঠা দোষ ত্রুটি শুধরানোর বদলে বড়দের উদাসীনতা বড় ধরনের ক্ষতিই বয়ে আনে।
শিশুরা যেমন কৌতূহল প্রবণ তেমনই অনূকরণ প্রিয়। বাড়তি নজর কাড়ার জন্যও শিশুদের মধ্যে নাটকীয় আচরণ পরিলক্ষিত হয়। কৌতূহলবশে বাড়ি থেকে বের হয়ে দূরে যাওয়ার পর ফিরতে দেরি হওয়ার দোষ নিজের ঘাড়ে না চাপিয়ে ছেলে ধরার ঘাড়ে চাপানো যেমন অমূলক নয়, তেমনই অনূকরণ করতে গিয়ে বিপদগ্রস্ততার দায়ও নিজের ঘাড়ে না নিয়ে কল্পিত কাহিনি বর্ণনাও ওদের দ্বারা অসম্ভব নয়। যদিও এসব সমাজেরই ঘটনাপ্রবাহের ক্ষতিকর প্রভাব। এ প্রভাব থেকে শিশু-কিশোরদের রক্ষার্থে দরকার ওদের বিষয়ে বাড়তি সতর্কতা। শিশু-কিশোরদের সামনে সমাজের ক্ষতিকর কোনো বিষয় নিয়ে বড়দের আলোচনা এড়ানোই ভালো। একই সাথে কি করলে তার ফল কি সে সম্পর্কে ধারণা দেয়াও বড়দের দায়িত্বেরই অংশ। তাই বলে সমাজের কোনো কিছুর ধারণা দিতে গিয়ে শিশু-কিশোরদের ভীত সন্ত্রস্থ করে তোলার খেসারত ওই শিশুকেই শুধু নয়, জাতিকেও দিতে হয়। কেননা, বড় হলেও ওই শিশুর মধ্যে ভীতির জড়তা থেকেই যায়। তাই বলে বাস্তব অবস্থা সম্পর্কে সতর্ক করা যাবে না? নিশ্চয়। মনে রাখা দরকার, অতিরঞ্জিত সকল ক্ষেত্রেই ক্ষতির কারণ। কখনও কখনও সেই রাখাল বালকের বাঘে ধরার মতোও হতে পারে। সম্প্রতি চুয়াডাঙ্গার অলমডাঙ্গাসহ বিভিন্ন এলাকায় উঠতি বয়সীদের ছেলে ধরার কবল থেকে ফেরার বর্ণনা সে রকমই ইঙ্গিত দিচ্ছে কি?
আশপাশে অপহরণের পর মুক্তিপণ আদায়ে, খুন-গুম লেগেই রয়েছে। এসব শুনে দেখে উঠতি বয়সীদের কেউ যে কৌতূহলবশে অপহরকচক্রের কবলে পড়ার মিথ্যা গল্প বলবে না তা নয়। উঠতি বয়সীদের কেউ যেমন মিথ্যা নাটক সাজাতে পারে, তেমনই কোনো শিশু সত্যি সত্যিই অপহরকচক্রের কবলে পড়তে পারে। সে কারণে কোনো ঘটনাকেই খাটো করে দেখার সুযোগ নেই। মিথ্যা বলে গুরুত্ব পাওয়া শিশুর মধ্যে মিথ্যার কুপ্রভাব থেকে যেতে পারে। মিথ্যা বলে বাড়তি নজর কাড়া শিশুকে নিয়ে মাতামাতি মোটেই বুদ্ধিমানের কাজ নয়। বরঞ্চ, প্রকৃত ঘটনা খতিয়ে দেখে শিশুর সামনে প্রকৃত সত্যটা তুলে ধরার চেষ্টা কল্যাণ বয়ে আনতে পারে। অপরদিকে অপহরকচক্রের অপতৎপরতা যেহেতু সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে, সেহেতু ছোট বড় সকলেরই সজাগ থাকার পাশাপাশি পুলিশকে কর্তব্যপরায়ণ হতে হবে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *