১০ ফুট জলোচ্ছ্বাস নিয়ে পাইলিনের আঘাত

মাথাভাঙ্গা মনিটর: ঘণ্টায় প্রায় ২০০ কিলোমিটার বেগের ঝড়ো হাওয়া নিয়ে ভারতের উড়িষ্যার উপকূলীয় এলাকায় আঘাত হেনেছে ঘূর্ণিঝড় পাইলিন। ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, স্থানীয় সময় গতকাল শনিবার রাত সোয়া ন’টার দিকে উড়িষ্যার গোপালপুরের উপকূলীয় এলাকা অতিক্রম শুরু করে ঘূর্ণিঝড়টি। এ উপকূল পার হতে এর এক ঘণ্টার মতো সময় লাগবে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এলএস রাঠোর জানায়, ঘণ্টায় ২০০ কিলোমিটারের মতো ঝড়ো হাওয়ার সাথে তিন থেকে সাড়ে তিন মিটার (১০ ফুট) জলোচ্ছ্বাস নিয়ে ঘূর্ণিঝড়টি উপকূলে আছড়ে পড়ে। পরবর্তী ছয় ঘণ্টা এটি অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ের মতো আচরণ করবে। ঘূর্ণিঝড়টি উড়িষ্যার উপর দিয়ে ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে উত্তর-পশ্চিম দিকে এগোতে পারে। পুরো উড়িষ্যার পাশাপাশি অন্ধ্র প্রদেশের উপকূলীয় এলাকায়ও ঝড়ো হাওয়ার সাথে ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হচ্ছে।
এদিকে ঘূর্ণিঝড় উপকূলে আঘাত হানার আগেই এর প্রভাবে সৃষ্ট ঝড়ো হাওয়া ও ভারী বর্ষণে উড়িষ্যায় পাঁচজনের মৃত্যু হয় বলে ভারতীয় বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানায়। এদের মধ্যে গাছের নিচে চাপা পড়ে চারজন এবং মাটির ঘর ধসে এক জন মারা যায়। ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, গত ১৪ বছরের মধ্যে এটাই ভারতে সবচেয়ে শক্তিশালী ঝড়ের আঘাত।

ঘূর্ণিঝড়ের সতর্কতা উপেক্ষা করে উড়িষ্যা উপকূলে ট্রলারে অবস্থানকারী ১৮ জেলের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। ঝড় পরবর্তী দুর্যোগ মোকাবেলায় ভারতের কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। ভুবনেশ্বর বিমানবন্দরে নিয়মিত কার্যক্রম বন্ধ রেখে সেটি বিমানবাহিনীকে ব্যবহারের জন্য দেয়া হয়েছে।

জরুরি উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতা চালানোর জন্য ১৮টি হেলিকপ্টার, ১২টি বিমান এবং দুটি যুদ্ধ জাহাজ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ঝড়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতির মুখে থাকা উড়িষ্যার গঞ্জাম, জগৎসিংপুর ও খোরদায় রিজার্ভ পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঝড়ে প্রাণহানি এড়াতে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে উড়িষ্যা ও অন্ধ্র প্রদেশের আট লাখের বেশি বাসিন্দাকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেয়া হয়েছে।

ঝড়ের জন্য ট্রেন ও বিমান চলাচলও বন্ধ রাখা হয়েছে। ভুবনেশ্বরের বিজু পাটনায়েক আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ১০টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। হাওড়া-বিশাখাপত্তম রুটে ৫৬টি ট্রেন চলাচল বাতিল করা হয়েছে। গতিপথ পাল্টে অন্যদিকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে ১৬টি ট্রেন। রোববারও ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখা হতে পারে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *