সপ্তাজুড়ে বিঘ্নিত হতে পারে ইন্টারনেট

স্টাফ রিপোর্টার: সাবমেরিন ক্যাবলের সিঙ্গাপুর প্রান্তে রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য ৭ দিন বাংলাদেশে ইন্টারনেট সেবা বিঘ্নিত হতে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশনস কোম্পানি লিমিটেড (বিটিসিএল)। গতকাল বৃহস্পতিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, আজ শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে বৃহস্পতিবার বেলা দুইটা পর্যন্ত সাবমেরিন ক্যাবলের সিঙ্গাপুর প্রান্তের রক্ষণাবেক্ষণের কাজ করা হবে। তবে এ সময়ে বিকল্প ব্যবস্থায় বিটিসিএলের গ্রাহকদের ইন্টারনেট সেবা চালু রাখার ব্যবস্থা হয়েছে জানিয়ে মোরশেদ বলেন, আশা করি গ্রাহকরা তেমন অসুবিধায় পড়বেন না, তবে গতি সামান্য ধীর হতে পারে।

বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানি লিমিটেডের (বিএসসিসিএল) একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, সিঙ্গাপুর অংশে রিপিটার পরিবর্তনের কাজ শুরু হবে শুক্রবার প্রথম প্রহর থেকে। এজন্য প্রথম দিন রাত ১২টার পর ৩ ঘণ্টার মতো ইন্টারনেট ট্রাফিক আউটেজ হতে পারে। রক্ষণাবেক্ষণের শেষ দিনও ৩ ঘণ্টা ইন্টারনেট ট্রাফিক আউটেজ হতে পারে। তবে বিকল্প ব্যবস্থা থাকায় বাংলাদেশ ইন্টারনেটে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হবে না জানিয়ে ওই কর্মকর্তা বলেন, গ্রাহকরা হয়তো ধীরগতির সমস্যায় পড়তে পারেন। ২০১২ সালের আগে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ সংযোগের জন্য একটি মাত্র সাবমেরিন কেবলের (সি-মি-ইউ-৪) ওপর নির্ভর করত। ২০১২ সালের অক্টোবর থেকে ইন্টারনেট সংযোগে সাবমেরিন কেবলের বিকল্প হিসেবে আন্তর্জাতিক টেরেস্ট্রিয়াল কেবল (আইটিসি) অপারেটররা কাজ শুরু করে। আইটিসি অপারেটররা টেরেস্ট্রিয়াল অপটিক্যাল ফাইবার লাইনের মাধ্যমে ভারতীয় বিভিন্ন টেলিযোগাযোগ কোম্পানির সাথে যুক্ত। কোনো কারণে সাবমেরিন কেবল ক্ষতিগ্রস্ত হলেও তারা বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্কে যুক্ত করতে পারে।

বাংলাদেশের ৬টি আইটিসি অপারেটর প্রায় ৪ বছর ধরে প্রতিবেশী ভারত থেকে ব্যান্ডউইথ কিনে দেশে সরবরাহ করছে। বর্তমানে এই ৬ কোম্পানি ১৬০ জিবিপিএসের (গিগাবাইট পার সেকেন্ড) বেশি ব্যান্ডউইথ দিচ্ছে দেশে। আগামী ডিসেম্বরে একটি কনসোর্টিয়ামের আওতায় সি-মি-ইউ-৫ নামের দ্বিতীয় সাবমেরিন কেবলে যুক্ত হওয়ার পর বাংলাদেশ অতিরিক্ত ১ হাজার ৩০০ গিগাবাইট ব্যান্ডউইথ পাবে বলে আশা করছে সরকার। গ্রাহকদের সাময়িক এই অসুবিধার জন্য বিটিসিএল দুঃখ প্রকাশ করেছে।

 

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *