শুটিঙের নামে বিদেশে আদম পাচারের ঘটনায় দক্ষিণ আফ্রিকায় রুবেল ইমন ও অমৃতা আটক

মাথাভাঙ্গা মনিটর: শুটিঙের নামে বিদেশে আদম পাচারের ঘটনা বাংলাদেশের জন্য নতুন কিছু নয়। আগেও অনেকবার মালয়েশিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকায় শুটিং করতে গিয়ে আদম পাচার করেছেন অনেক প্রযোজক ও নির্মাতা। বিষয়টি আড়ালে করা হতো বলেই নির্বিঘ্নে পার পেয়ে যেতেন সেসব প্রযোজকরূপী আদম ব্যবসায়ীরা। এবার এ আদম ব্যবসায় রোষানলে পড়ে সুদূর দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউন বিমানবন্দরে আটকে গেছেন ঢাকার চলচ্চিত্রের এক সময়ের অ্যাকশন হিরো রুবেল, চিত্রনায়ক ইমন, টিভি অভিনেতা সিদ্দিকুর রহমান সিদ্দিক ও নবাগতা চিত্রনায়িকা অমৃতা খান। গত বছরের শেষের দিকে মারুফ আহমেদ রিজভী নামের এক অখ্যাত পরিচালকের মিশন আফ্রিকা নামের একটি ছবিতে শুটিঙের জন্য এ চার তারকা দক্ষিণ আফ্রিকায় যান। এ ইউনিটে ২৯ জন আফ্রিকায় গেলেও এদের মধ্যে মাত্র ১০ জন ছিলেন শিল্পী ও কলা-কুশলী। শুটিং শেষে মাত্র ১০ নিয়ে ঢাকায় ফিরতে চাইলে কেপটাউন বিমানবন্দরে তাদের আটকে দেয়া হয়। ইউনিটের অন্যদের খবর জানতে চাইলে সেখানে পরিচালক কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি বলে জানা গেছে।

এদিকে রুবেল, ইমন, সিদ্দিকদের আটক করার খবর পেয়ে ছবির প্রযোজক পালিয়ে যান। ফলে গত চারদিন ধরে বিমানবন্দরে এ চার শিল্পী আটকে আছেন বলে জানা গেছে। বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে, দক্ষিণ আফ্রিকার ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা ইউনিটের অন্যদের খোঁজ দিতে তাদের বলেছেন। অন্যথায় দেশীয় আইন অনুযায়ী তাদের গ্রেফতার করে জেলহাজতে পাঠিয়ে দেয়া হবে বলে সূত্র জানিয়েছে। জানা গেছে, এ ইউনিট দক্ষিণ আফ্রিকায় যাওয়ার আগে ঢাকা বিমানবন্দরেও আটকে দেয়া হয়েছিলো। পরে এফডিসি ও তথ্য মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন কাগজপত্র দেখিয়ে তারা পুরো ইউনিট নিয়ে কেপটাউন যান। শুটিঙের নামে আদম পাচারের ঘটনা এখানেই থেমে নেই। কয়েক মাস আগে একই নামে (মিশন আফ্রিকা) আরও একটি ছবির শুটিঙের জন্য আহমেদ আলী মণ্ডল নামের একজন পরিচালক দক্ষিণ আফ্রিকায় শুটিঙের জন্য যান। তখনও ৩০ জনের বেশি ইউনিট নিয়ে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে মাত্র কয়েকজন ফিরে আসেন। ওই ইউনিটের ক্যামেরাম্যান মুজিবুল হক ভুঁইয়া ও ফাইট ডিরেক্টর হারুন আফ্রিকায় পালিয়ে যান। শুটিঙের নামে এভাবে আদম পাচার করে দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করা হচ্ছে বলেই চিত্রসংশ্লিষ্টরা বলেছেন। এভাবে যদিও বিদেশের মাটিতে দেশের সুনাম ক্ষুণ্ণ করা হয় তাহলে ভবিষ্যতে নিখাঁদ ইউনিট নিয়ে বিদেশে শুটিং করাটা দুষ্কর হয়ে পড়বে বলেই জানিয়ে চিত্রবোদ্ধারা।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *